3

অন পেজ অপটিমাইজেশন কি এবং কেন করতে হবে

আমাদের গত পর্বের বিষয় ছিলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন – বেসিক ধারণা, এ পর্বে আলোচনা করা হবে অন পেইজ অপটিমাইজেশন নিয়ে, একে একে তুলে ধরা হবে অন পেজ অপটিমাইজেশন কি, কেন করতে হবে আর এ নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর।

অন পেজ অপটিমাইজেশন

অন পেজ অপটিমাইজেশন কি?

অন পেজ অপটিমাইজেশন এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে বিভিন্নভাবে পেজকে এমনভাবে সাজানো হয় যাতে করে যেকোনো সার্চ ইঞ্জিন বট বা ক্রওলার সহজেই পেজকে নিয়ে সঠিক কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারে।

সার্চ ইঞ্জিন বটগুলো কোন পেজে আসলে পুরো পেজ ক্রওল করে এবং ক্রওল করে প্রাপ্ত বিষয়গুলো নিয়ে বিচার-বিবেচনা করে পেজটির গুরুত্ব নির্ধারণ করে আর পেজটি কি নিয়ে তা বোঝার চেষ্টা করে জমা করে রাখে যাতে করে কেউ পেজে যে টপিকে লেখা হয়েছিল সে টপিকে সার্চ ইঞ্জিনে খোঁজ করলে ফলাফল এ তুলে ধরতে পারে। এক্ষেত্রে অফ পেজ অপটিমাইজেশ এরও বেশ অনেক ভূমিকা আছে।

অন পেজ অপটিমাইজেশন কেন করবো?

অন পেজ অপটিমাইজেশন না করলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাবে সার্চ ইঞ্জিন আপনার ওয়েব পেজ সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না যে ওয়েব পেজ টা কি নিয়ে। ধরা যাক আপনি বাংলা আর ইংরেজি বেশ ভালো পারেন, আরবিও হয়তো বলতে না পারলেও পড়তে পারেন কিন্তু ইটালিয়ান ভাষা আপনার জানা নেই, বলতে তো পারেনই না, পড়তেও পারেন না। এখন যদি কেউ আপনাকে বিখ্যাত কোন একটা ইটালিয়ান বই দিয়ে বলে বইটা পড়ো আর পড়ার পর বই সম্পর্কে তোমার মতামত জানাও আর বলো বইটা কেমন হয়েছে।

আপনি বইটা নিলেন, চোখ বুলালেন বইয়ের উপর, অথচ কিচ্ছু বুঝলেন না। এখন আপনি না পারবেন বই নিয়ে কোন মতামত দিতে আর নাইবা পারবেন বইটা কেমন তা নিয়ে কিছু বলতে। আর বইয়ের বিষয় কি মূলভাব কি তাও বলতে পারবেন না, অথচ সে বইটা অনেক বিখ্যাত। এখন আপনার স্থলে সার্চ ইঞ্জিন বট কে কল্পনা করুন, সে ক্রল করতে করতে এমন কোন পেজে গেলো যা পুরোটা ক্রল করেও সে মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝলোনা। এখন সে কি সিদ্ধান্ত নেবে সেই পেজ নিয়ে? সে বুঝতে পারেনি পেজটি কি নিয়ে, সে বুঝতে পারেনি পেজে কেমন কন্টেন্ট আছে। এমতাবস্থায় সে সেই পেজটিকে ঠিকমতো মূল্যায়ন করে সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারবেনা।

তবে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জনেই এমন কিছু করা উচিৎ যাতে সার্চ ইঞ্জিন বট সহজেই বুঝতে পারে পেইজে কি বলা হয়েছে আর তা কি নিয়ে। সার্চ ইঞ্জিন বটকে সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়ার জন্যেই অন পেজ অপটিমাইজেশন জরুরি।

অন পেজ অপটিমাইজেশন না করলে কি হবে?

আগে দেয়া উদাহরণ থেকেই বলা যাক, আপনি যদি ইটালিয়ান ভাষা না জানেন তবে বইটি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে আপনাকে হয় ইটালিয়ান ভাষা জানতে হবে, নয়তো এমন কারো শরণাপন্ন হতে হবে যে ইটালিয়ান ভাষা জানে। এতে করে আপনি বুঝতে পারবেন বইটি কি নিয়ে লেখা, কেমন লেখা। এর ফলাফল স্বরূপ আপনি বইটি নিয়ে নির্দিষ্ট একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন।

অন পেজ অপটিমাইজেশন করে সার্চ ইঞ্জিনকে বিভিন্নভাবে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয় যাতে করে সে পেজটি ভালোভাবে বুঝে সঠিক কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারে আর সার্চ ইঞ্জিন এ আপনার ওয়েব পেজকে সঠিকভাবে মুল্যায়ন করতে পারে।

আপনি যদি অন পেজ অপটিমাইজেশন না করেন তাহলে আপনার লেখা খুব ভালো আর উঁচুমানেরও হওয়ার পরেও সার্চ ইঞ্জিন সেটার সঠিক মূল্যায়ন না করার সম্ভাবনা থেকে যায়। এই অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অন পেজ অপটিমাইজেশন জরুরী।

অন পেজ অপটিমাইজেশন কি খুব কঠিন?

নাহ, অন পেজ অপটিমাইজেশন খুব একটা কঠিন না। আপানাকে বেশ কিছু বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে আর সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। এজন্যে হয়তো আপনাকে খানিকটা বেশি খাটতে হতে পারে আগের তুলনায়, সময়ও হয়তো বেশি লাগতে পারে। তবে এই কষ্টের উপযুক্ত ফলাফলও সার্চ ইঞ্জিন আপনাকে দিবে। আপনার পেজকে ভালো মূল্য দেয়া হবে। অন পেজ অপটিমাইজেশন খুব কঠিন না হলেও আপনাকে এর পিছে বেশ সময় দিতে হবে।

অন পেজ অপটিমাইজেশন এ কি কি করতে হয়?

এখানে বেশ অনেকগুলো বিষয় একসাথে কাজ করে, একটা রেখে আরেকটা করা কখনোই ভালো ফলাফল দিবে না। সবগুলোই করতে হবে সার্চ ইঞ্জিনে ভালো মূল্যায়ন পেতে হলে। সঠিক কিওয়ার্ড বাছাই করা এবং টাইটেলে, পেইজ ইউ আর এল এ, কনটেন্টে প্রয়োগ করা। অল্ট, মেটা আর হেডিং ট্যাগগুলোর সঠিক ব্যবহার, সাইট নেভিগেশন, ইন্টারনাল লিঙ্কিং, লোড টাইমসহ আরো অনেক বিষয় কাজ করে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ধারাবাহিক কোর্সের পরবর্তীতে সবগুলো নিয়েই আলোচনা করা হবে।

আমার ইচ্ছা যারা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন নিয়ে জানতে আগ্রহী তাদেরকে পরিপূর্ন আর পরিষ্কার ধারণা দেয়া। কাউকেই অন্ধকারে রাখতে চাইনা। সঠিকভাবে এ বিষয়টা বোঝা আর সঠিক প্রয়োগ করা অনেক উপকারী হতে পারে যে কারো জন্যে, কেউ নিজের ওয়েবসাইটকে সঠিকভাবে অপটিমাইজ করে ভালো পজিসনে আসতে পারে আবার কেউ ফ্রিল্যান্সিং করে এ থেকে আয়ও করতে পারে। কিন্তু এর জন্যে দরকার যথেষ্ট ধৈর্য আর সঠিক গাইডলাইন। বাংলাতে এর আগেও বেশ ভালোভাবে অনেকেই এ বিষয়ে ধারাবাহিক টিউটোরিয়াল লিখেছেন, আমি কোনটাকেই অবমূল্যায়ন করছিনা। আমার ইচ্ছা সবার থেকে খানিকটা ভিন্ন ধাচে কিছু লেখার, পাঠককে আরো গভীর আর সম্পুর্ণরকম পরিস্কার ধারণা দেয়ার যাতে কোথাও কোন বিভ্রান্তি না থাকে।

লেখা ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই মতামতে জানাবেন কি ভালো লেগেছে আর কেনো ভালো লেগেছে, আর খারাপ লাগলেও সেটা নির্দ্বিধায় তুলে ধরবেন যাতে করে পরবর্তীতে ভুলত্রুটি কাটিয়ে উঠতে পারি। সোশ্যাল মিডিয়াতে লেখা শেয়ার করে আমাদের ছড়িয়ে দেয়ার অনুরোধ রইলো। 🙂

পরবর্তী পর্বগুলোতে ধীরে ধীরে অন পেইজ অপটিমাইজেশন এর সবগুলো ধাপ তুলে ধরা হবে । চেষ্টা থাকবে শীঘ্রই পরবর্তী পোস্ট দেয়ার। আমাদের সাথেই থাকুন।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়