11

“আইপ্যাড” অ্যাপলের সর্বশেষ ট্যাবলেট ডিভাইস…

বহুদিনের জল্পনা-কল্পনা শেষে দীর্ঘ সময়পর অ্যাপল অবমুক্ট করলো তাদের সর্বশেষ ট্যাবলেট ডিভাইস। গত ৭ই মার্চ ক্যালিফ এর স্যান ফ্র্যানসিস্কোতে একটি অনুষ্ঠানে তারা ট্যাবলেট ডিভাইসটি অবমুক্ত করে।

আইপ্যাড

এখন বিশ্ববাসী আইপ্যাড এর সাথে পরিচিত। ধারণা করা হচ্ছিল এর নাম হবে আইপাড থ্রি, আইপ্যাড এইচডি, আইপ্যাড ২এক্স ইত্যাদি। কিন্তু সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অ্যাপল এর নাম রেখেছে শুধুই “আইপ্যাড“।

চলুন দেখে নেয়া যাক কি কি ফিচার এ পরিবর্তন আর রকমফের করা হয়েছে অ্যাপলের নতুন এই ট্যাবলেট ডিভাইস “আইপ্যাড” এঃ

উপরে যে ছবিটি খেয়াল করছেন এতে আইপ্যাড ২ এর ১০২৪x৭৬৮ পিক্সেল ডিসপ্লে এর সাথে নতুন আইপ্যাডের হাই-ডেফিনিশন রেটিনা ডিসপ্লে এর তুলনামূলক পার্থক্য দেখানো হয়েছে। নতুনেই প্যাড এর রেস্যুলুশন হলো ২০৪৮x১৫৩৬। অ্যাপল তাদের এই নতুন হাই ডেফিনিশন রেটিনা ডিসপ্লে সম্বন্ধে বলেছে “pixel density is so high your eye is unable to distinguish individual pixels.” তো সহজেই ধারণা করা যাচ্ছে অনন্য এই সুবিধাটি যেকোনো ব্যবহারকারীর কাছে নিঃসন্দেহে দারুন হবে। রায়ান ব্লক আইপ্যাড প্রথম হাতে পেয়ে টুইটারে একটি টুইট আপডেট করে বলেন “”It’s the best display I’ve ever seen. Anywhere, period.”

নতুন আইপ্যাড দেখতে অনেকটা এর আগের ভার্সনের মত হলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যারে ব্যাপক রকমফের আনা হয়েছে এর চিকন ফ্রেমের মধ্যেই। নতুন এই আইপ্যাডে যুক্ত করা হয়েছে দারুণ দ্রুতগতির প্রসেসর, “কোয়াড-কোর” ১গিগাহার্জ অ্যাপল এ৫এক্স। অ্যাপলের দাবী এটি আইপ্যাড ২ এ ব্যবহার করা এ৫ সিপিউ থেকে দ্বিগুণ প্রসেসিং ক্ষমতা সম্পন্ন এবং চারগূণ গ্রাফিক্স রেন্ডারিং ক্ষমতাসম্পন্ন।

আইপ্যাডে যুক্ত করা হয়েছে ভয়েস ডিকটেশন সুবিধা। পূর্ববর্তী ভার্সনগুলোয় সিরি নামে ভয়েস একটিভেটেড পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট “সিরি” দিয়ে এই কাজ করা যেত। কিন্তু নতুন আইপ্যাডে ভার্চুয়াল কিবোর্ডে মাইক্রোফোন আইকন এ প্রেস করেই এই সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। আপাতত আইপ্যাড আমেরিকান, ব্রিটিশ, অস্ট্রেলিয়ান ইংলিশ, জাপানিজ, ফ্রেঞ্চ আর জার্মান ভাষা সাপোর্ট করে ভয়েস ডিকটেশনের জন্যে।

নতুন এই আইপ্যাডের অন্যতম চমক হিসেবে এতে যুক্ত করা হয়ে ৫ মেগাপিক্সেল রেয়ার-ফেসিং আইসাইট (iSight) ক্যামেরা যা ১,০৮০পি এইচডি ভিডিও শুট করতে পারে। আইপ্যাড ২ এর ক্যামেরাটা ছিলো মাত্র .৭ মেগাপিক্সেল যা লো-কোয়ালিটির ৭২০পি ভিডিও রেকোর্ড করার সুবিধা দিত। অ্যাপলের নিজস্ব ফটো এডিটিং সফটওয়্যার আইফটো এখন আইপ্যাডের জন্যেও ব্যবহার করা যাবে। এই অ্যাপ্লিক্যাশনটি ব্যবহার করে ছবি এডিট ক্রয়া, বিভিন্নরকম চমকপ্রদ ইফেক্ট দেয়া, ছবি অন্য ডিভাইসে পাঠানো আইক্লাউড ও সোশ্যাল নেটওয়্যার্কিং সাইটে শেয়ার করার সুবিধাও পাওয়া যাবে। এই অ্যাপলিক্যাশনের সাহায্যে যেকেউ চাইলে ফটো জার্নাল ও তৈরী করতে পারবে তাছাড়া ডিজিটাল স্ক্র্যাপবুক ও বানানো যাবে যাতে ম্যাপ, নোট ইত্যাদি জুড়ে দেয়া সম্ভবপর হবে। খুব সম্ভবত এই অ্যাপ্লিক্যাশনটির দাম পড়বে ৫ ডলারের কাছাকাছি।

অ্যাপলের প্রথম কোন ডিভাইস হিসেবে আইপ্যাডে ব্যবহার করা হয়েছে ফোরজি লাইট কানেক্টিভিটি সুবিধা। ফোরজি ডাটা নেটওয়্যার্কের মাধ্যমে ত্রিজি থেকে ১০ গূণ দ্রুতগতিতে ব্যবহারকারী কানেক্টেড হতে পারবে। ফোরজি সাপোর্ট করার পাশাপাশি থ্রিজি ডাটা নেটওয়্যার্কও সাপোর্ট করে আইপ্যাড।

নতুন আইপ্যাড “পার্সোনাল হটস্পট” নামে দারুণ একটি ফিচার নিয়ে এসেছে । যা দ্রুতগতিতে আপনার আইপ্যাডের পাশাপাশি আরো ৫টি ডিভাইসের সাথে নেটওয়্যার্ক কানেকশন শেয়ার করতে পারবে ওয়াইফাই, ব্লু-টুথ আর ইউএসবি ক্যাবলের মাধ্যমে।

রেটিনা ডিসপ্লে আর ফোরজি কানেক্টিভিটির জন্যে এবং নিত্য-নতুন সুবিধাদির জন্যে বেশ শক্তিশালী ব্যাটারি প্রয়োজন। অ্যাপক কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টিকে নজড়-আন্দায করেন নি। বেশ শক্তিশালী ব্যাটারি রয়েছে এর সাথে যা দিয়ে সাধারণভাবে ১০ ঘণ্টা চলবে। অর্থাৎ মাত্র একবার চার্জ করলে আপনি একটানা ১০ ঘণ্টাও চালাতে পারবেন চাইলে।

বিল্ট-ইন ভাবে বেশ কিছু অ্যাপ্লিক্যাশন দেয়া আছে আইপ্যাডে। এগুলো হলো সাফারি, মেইল, মেসেজেস, ফটোস, ফেইস্টাইম, নিউজস্ট্যান্ড, অ্যাপস্টোর, আইটিউনস, ভিডিওস, ম্যাপস, মিউজিক, গেইম সেন্টার, ফটো বুথ, ইউটিউব, কনট্যাকটস, রিমাইন্ডারস, ক্যালেন্ডার, নোট, ক্যামেরা। তাছাড়া অ্যাপ-স্টোরে অ্যাপ্লিক্যাশনের বিশাল কালেকশন রয়েছে।

শুধুমাত্র ওয়াইফাই সুবিধা সহ আইপ্যাড এর দামঃ

১৬ জিবি – ৪৯৯ ডলার
৩২ জিবি – ৫৯৯ ডলার
৬৪ জিবি – ৬৯৯ ডলার

ফোরজি সুবিধাসহ আইপ্যাড এর দামঃ
১৬ জিবি – ৬২৯ ডলার
৩২ জিবি – ৭২৯ ডলার
৬৪ জিবি – ৮২৯ ডলার

আইপ্যাড এর ছোটখাট রিলিজ আপডেট আর রিভিউ দেয়ার চেষ্টা করলাম, কেমন লাগল কমেন্টে জানাবেন।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়