আউটবাউন্ড লিংক কি এবং কেন?

আউটবাউন্ড লিংক মানে হচ্ছে এক ওয়েবসাইট থেকে অন্য ওয়েবসাইটকে লিংক দেয়া। এক্সটার্নাল লিংক হিসেবেও এটা পরিচিত। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে নতুন জানতে শুরু করেছে কিংবা বর্তমান সার্চ ইঞ্জিন এর কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নয় তাদের অনেকেই মনে করে যে আউটবাউন্ড লিংক করলে তার ওয়েবসাইট থেকে লিংক জুস চলে যাবে, ফলস্বরূপ তার ওয়েবসাইট খারাপ র‍্যাঙ্ক করবে।

যারা এই ধরণের ধারণা নিজেদের মধ্যে রাখেন তারা অন্য কোন ওয়েবসাইটকে ভুল করেও কখনো লিংক করেন না। ভুলেও তাদের নাম উল্লেখ করেন না ওয়েবসাইটের কোথাও, পাছে তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভিজিটর হারিয়ে ফেলবেন এই ভেবে। সব কিছু নিজের ওয়েবসাইটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান। যারা এমনটা ভাবছেন তাদেরকে আমি খারাপ বলছিনা। কারণ অনেক এসইও এক্সপার্টও একসময় এই কাজগুলোকে সমর্থন দিতেন। কিন্তু বর্তমানে সময় বদলেছে। স্বার্থপরভাবে ওয়েবসাইট পরিচালনা করে নিজেরাই নিজের ক্ষতি করছি সেটা উপলব্ধি করার সময় এসেছে।আউটবাউন্ড লিংক
আমি বলছিনা যে সবসময়ই অন্য ওয়েবসাইটকে আউটবাউন্ড লিংক দিন। শুধুমাত্র যখন প্রয়োজন তখন দিন, তাতেই হয়ে যাবে। তো চলুন জানি আউটবাউন্ড লিংক দেয়ার উপকারিতা গুলো –

আউটবাউন্ড লিংক দেয়ার মাধ্যমে আপনি নিজেকেই আরও শক্তিশালী করছেন

আপনার খুব কাছের বন্ধু আলু আপনার কাছে কিছু জানতে আসলো, আপনি সেই বিষয়ে যতটুকু জানেন ততটুকু তাকে জানালেন। কিন্তু তারপরেও আলু আরও কিছু জানতে চায়। এখন আপনার আরেকজন বন্ধু আছে পটল, যে কিনা সেই বিষয় সম্পর্কে আপনার থেকে বেশি জানে। এখন আপনি যদি আলুকে বলেন পটলের কাছে যাওয়ার জন্যে তাহলে আপনি আপনার কাছের বন্ধুটির উপকার করলেন। ফলস্বরুপ আলু আপনার উপকারের কারণে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে, পাশাপাশি পটলও আপনার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে।

কাছের বন্ধু আলুকে আপনার নিয়মিত পাঠক আর পটলকে অন্য একটি ওয়েবসাইট হিসেবে ধরে নিন। আপনার ব্লগে আপনি কোন বিষয়ে লিখেছেন, আর সেই লেখা আপনার পাঠকরা পড়ছে। লেখার বিশেষ অংশে সেই বিষয় সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে এমন ওয়েবসাইটকে লিংক করে দিলে আপনার পাঠক সেই বিষয়ে আরও জানার মতো রিসোর্স পাচ্ছে। পাশাপাশি যেই আপনি লিংক দিলেন সেই ওয়েবসাইটও আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। হয়তো তারাও আপনাকে কখনো একটা লিংক ব্যাক দিতে পারে 🙂

সার্চ ইঞ্জিন কে আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা দিতে পারবেন

ধরে নেই আপনি ওয়াল্টন মোবাইল নিয়ে একটি ব্লগ তৈরি করলেন। ওয়াল্টন প্রিমো এক্স ৩ এর রিভিউ নিয়ে আপনার একটি ব্লগ পোস্টও আছে। এবার আপনি যদি সেই রিভিউ এ ওয়াল্টনের ওয়েবসাইটে প্রিমো এক্স ৩ পেইজটাকে লিংক করেন তাহলে সার্চ ইঞ্জিনের বুঝতে কিছুটা হলেও সুবিধা হবে যে আপনি আসলে ওয়াল্টনের সেই মোবাইলটা নিয়েই কিছু লিখেছেন। লিংক দেয়ার মাধ্যমে যে সার্চ ইঞ্জিন আপনার সম্পর্কে ধারনা পেয়ে যাবে এমন না, তবে কিছুটা হলেও ধারণা দিতে পারবেন একে।

আপনার লেখাকে আরও যুক্তিসঙ্গত করে তুলতে পারবেন

আপনি আপনার লেখায় কোন একটা মতামত পেশ করলেন। যদি আপনি সেই লেখার পক্ষে ভালো কোন যুক্তি দাড় করাতে পারেন তাহলে সেটি আরও বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাবে পাঠক সমাজে। আপনি কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণা সম্পর্কে লেখার সময় যদি সম্ভব হয় সেই গবেষণার লিংক টা দিয়ে দিন, সাম্প্রতিক সময়ের কোন ঘটনা সম্পর্কে লেখার সময়ে সেই ঘটনা সম্বন্ধে কোন খবর প্রকাশ হয়ে থাকলে সেটাকে লিংক করে দিতে পারেন। কোন বিশেষ বিষয় সম্পর্কে লেখার সময় সেই বিষয়ে তথ্যবহুল কোন ব্লগ বা ওয়েবসাইট থাকলে সেটাকে লিংক করে দিন। তাহলে আপনার লেখার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

আপনার ওয়েবসাইটকে কিছুটা প্রাণ দিবে লিংক

ইন্টার্নাল লিংক আর এক্সটার্নাল লিংক আপনার ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখাকেই প্রাণ দিতে সক্ষম। লিংকবিহীন একটি পোস্ট দেখতে অনেকটাই ডিকশনারির মতো লাগে, যেখানে কোন তথ্যের উৎস সম্পর্কে কোন ধারণা দেয়া হয়না পাঠককে :p । তাই লেখায় প্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও, লিংক ইত্যাদি ব্যবহার করে লেখায় প্রাণ দিন।

আপনি কি আউটবাউন্ড লিংক দেয়ার পক্ষে না বিপক্ষে? আপনার উত্তরের স্বপক্ষে আপনার যুক্তি কি?

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়