8

আত্মউন্নয়ন – সকালে ঘুম থেকে উঠার পর যা অবশ্যই করতে হবে !

আজকে আপনি সূর্যোদয় দেখেছেন? উত্তর হ্যাঁ কিংবা না দু’টোই হতে পারে। তবে দ্বিতীয় উত্তরটাই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এটা নাহয় বাদ দেয়া গেলো, এখন পর্যন্ত আপনার জীবনে আপনি কয়বার দেখেছেন সূর্যোদয়? অসংখ্য হওয়ার সম্ভাবনাটা খুবই কম ! হয়তো ৫০ কিংবা তার চেয়ে বেশি দিন। যারা বয়োজ্যেষ্ঠ তাদের ব্যাপারটা সম্পুর্ণই আলাদা। আমাদের বর্তমান প্রজন্মের খুব কম মানুষই নিয়মিত সূর্যোদয় উপভোগ করার সৌভাগ্য পায়। একদিন সময় করে উঠেই পড়ুন সূর্যোদয়ের সময়ে, দু’চোখ ভরে উপভোগ করুন। দেখবেন “জীবনটা খারাপ না” । 🙂

আত্মউন্নয়ন সিরিজ পোস্টের প্রথম পর্ব শুরু করছি সকালে ওঠার পর যে কাজগুলো করলে শরীর ও মন দু’টোই ভালো থাকবে তা নিয়ে। আমি যা বলছি এর বাহিরেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকতে পারে, সেগুলো হয়তো জানা নেই আমার। সেগুলো নিঃসন্দেহে শেয়ার করতে পারেন কমেন্টে।

দৌড়

সকালে ঘুম থেকে উঠার পর যা করতে হবে:

১. রাতে যত দ্রুত পারা যায় ঘুমিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন, ফজরের আযানের সাথে সাথেই উঠে পড়ুন। ওযু করে ফজরের নামায পড়ে নিন। ঘুম থেকে ওঠার পরে যাবতীয় ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। ওযু করার ফলে শরীরের উল্লেখযোগ্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পানি ঝাপটা পড়ায় মূহূর্তেই চাঙা হয়ে উঠবেন আর নামায পড়ার দরুণ শরীরের প্রায় সব অংশেরই ভালো ব্যায়াম হয়ে যাবে। 🙂 যারা অন্য ধর্মাবলম্বী তারাও সকাল সকাল ঊঠে পরে ধর্মকর্ম করুন। ভালো লাগবে।

২.ধর্মকর্ম শেষে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিন। একদম গরম পানিও না একদম ঠাণ্ডা পানিও না, দুইয়ের মাঝামাঝি হলে ভালো হয়।

৩.এবার চা বা কফি তৈরি করে নিন, কারো উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেই করে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। চা-কফি আপনাকে সম্পুর্ণরুপে চাঙা করে তুলবে।

৪.সারাদিনের অতিমাত্রায় দরকারি কাজগুলোর একটা তালিকা করে ফেলুন। এতে করে আপনার কোন প্রয়োজনীয় কাজ করতে ভুলে যাবেন না। আমি সহজেই এই কাজ করার জন্যে Any.Do অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করি। বিনামূল্যে অসাধারণ এক সার্ভিস।

৫.প্রথম কাজ তিনটি করতে করতে সূর্যোদয়ের সময় হয়ে যাবে প্রায়। বারান্দা থাকলে বারান্দায় চলে যান নয়তো জানালার কাছে চলে যান যেখান থেকে সূর্যোদয় পুরোপুরি ভাবে উপভোগ করা যাবে। যদি ছাদে যাওয়ার সুবিধা থেকে থাকে তাহলে ছাদের চলে যেতে পারেন। মন ভরে উপভোগ করুন, এটা এমন একটা দৃশ্য বছরের ৩৬৫ দিন এক নাগারে দেখলেও মনে বিন্দুমাত্র একঘেয়েমির সৃষ্টি হবেনা।

৬.এবার গাছগাছালিতে পূর্ণ কোন পার্কে চলে যান। আধ ঘন্টার মতো জগিং করুন আর হালকা কিছু ওয়ার্ম আপ এক্সারসাইজ করে নিন।

৭.বাসায় ফিরে মৃদু উষ্ণ পানিতে গোসল করে নিন। সমস্ত ক্লান্তি উধাও হয়ে যাবে আর আপনি রিফ্রেশ হয়ে যাবেন।

৮.এবার প্রতিদিনের সকালের রুটিনের শেষ পর্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্বে চলে আসা যাক। নাস্তা করে নিন। এক্ষেত্রে শুধু শর্করা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, শর্করার পাশাপাশি অন্যান্য পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন এবং পর্যাপ্ত পানি খান। এবার আপনি আপনার দিন শুরুর জন্যে প্রস্তুত ! 🙂

ঘুম থেকে উঠার পর আপনি কি করেন? কমেন্টে জানান আমাদের।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়