আদমশুমারি কি এবং কেন করা হয়?

ইতোপূর্বে স্কুলের সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ে শব্দটির সাথে পরিচিত হয়েছেন ! বাস্তব জীবনেও হয়তো আদমশুমারির সাক্ষী হয়ে থাকতে পারেন। খুব ছোট বেলায় বাড়ি বাড়িতে ইয়া বড় খাতা নিয়ে কিছু মানুষকে ঘুর ঘুর করতে দেখতাম আর গৎবাঁধা কিছু প্রশ্ন করতে শুনতাম। মা কে জিজ্ঞেস করায় বলতো আদমশুমারি। ছোট্ট মানুষ এতো কিছু বুঝে আর কি করবো। আদমশুমারি শুনলাম, আমি তাতেই খুশি, আদমশুমারি কি আর কেন সেটা জানার ইচ্ছা হয়নি। বড় হওয়ার সাথে সাথে জানতে শুরু করেছি আদমশুমারি হচ্ছে দেশের লোক গণনা করার উপায়, জনসংখ্যা বের করে করে এটা দিয়ে। এই লেখায় এই বিষয়েই ছোটখাটো প্যাঁচাল পারা হবে।

আদমশুমারি

আদমশুমারি কি?

তাত্ত্বিক অর্থে না গিয়ে সরাসরি বলতে কোন দেশের বা কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষ গণনাকেই মূলত আদমশুমারি বলা হয়। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই নিজস্ব আদমশুমারির ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশেও প্রতি দশ বছর অন্তর অন্তর আদমশুমারি করা হয়। ২০১১ সালে বাংলাদেশে শেষ আদমশুমারি করা হয়। আর সে মোতাবেক বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৪ কোটি ৯৭ লাখের মতো (তথ্যসূত্র)। ২০১১ এর আদমশুমারির রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে পুরুষ ও মহিলার সংখ্যা প্রায় সমান। জনসংখ্যার দিক দিয়ে সামান্য কিছু অংশ এগিয়ে আছে পুরুষরা। রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১০১৫ জন মানুষ বসবাস করে ! 😉 হিসেবের অংকটা অনেক বড় মনে হলেও আসলে ততটা বড় না ! আপনি যদি ঢাকায় থাকেন তাহলে শুধু আপনার বাড়িতেই মোট মানুষের সংখ্যাটা আগে হিসেব করুন। এরপর আশপাশের আর দুই তিনটা বাড়ির হিসেব করলেই দেখবেন হাজার প্রায় ছুঁই ছুঁই ! আর পুরো এক কিলোমিটারে কতো মানুষ থাকতে পারে তা ভাবলে আক্কেল গুড়ুম হয়ে যাবে !

আদমশুমারি কেন করা হয়?

মূলত মানুষ গণনাটাই প্রধান কারণ হলেও মূলত শুধু মানুষ গণনার স্বার্থেই আদমশুমারি করা হয়না। এছাড়াও আনুষঙ্গিক অন্যান্য কিছু বিষয় আছে। রাজ-রাজাদের আমলেও কিন্তু আদমশুমারির দরকার পড়তো ! তবে সে আদমশুমারির মূল উদ্দেশ্য প্রজা গণনা না। মূল উদ্দেশ্য ছিল যাতে সঠিকভাবে রাজস্ব নির্ধারণ করে আদায় করা যায়। এছাড়া যুদ্ধের জন্যে সেনাবাহিনীতেও লোক নিয়োগের জন্যে রাজাদের আদমশুমারির দরকার পড়তো। তবে সব রাজাই যে আদমশুমারি করতো এমনটা না। তাদের সময়ে এটা তেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলনা। কিন্তু বর্তমানের প্রেক্ষাপটে এই চিত্র সম্পূর্ণ উলটো !

নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর আদমশুমারি করলে কোন দেশের জনসংখ্যা কমছে না বাড়ছে সে সম্পর্কে সুষ্ঠু ধারণা পাওয়া যাবে। ধরা যাক একটি দেশের নাম “মখা” এবং ২০০১ সালে সেখানকার জনসংখ্যা ছিল ৫৫৫ জন। পরবর্তীতে দশ বছর পর ২০১১ তে পুনরায় আদমশুমারি করে দেখা গেলো জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬৬ তে। এ থেকে সহজেই জেনে নেয়া যাচ্ছে যে দেশটির জনসংখ্যা বাড়ছে। হিসেব নিকেশ করে এও বের করা সম্ভব এই বাড়ার হার কতো।

এছাড়া আদমশুমারির মাধ্যমে কোন দেশের জন্মমৃত্যুর হার সম্পর্কেও জানা যাবে। তাছাড়া সেবামূলক বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন শিক্ষা, চিকিৎসা, বেকার, শিখিত, অশিক্ষিতসহ আরও নানা তথ্যাদি সংগ্রহ করা যাবে। কোন নির্দিষ্ট শহর, গ্রামের জনসংখ্যাও জানা যাবে সহজেই। ভোটার তালিকা তৈরির কাজেও আদমশুমারির অনেক গুরুত্ব আছে।

আমি ইতোপূর্বে টেকি পোস্ট লিখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতাম। নন-টেকি পোস্ট লেখার অভ্যাস নেই তেমন, আর লেখার হাতও তেমন একটা ভালনা। তাই লেখায় ভুলভাল থাকাটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো।

 

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়