2

আমি কেনো ব্লগিং করি?

“আমি কেনো ব্লগিং করি?” এই প্রশ্ন এর মধ্যেই যে কতোশতোবার শুনেছি আমি তার ইয়ত্তা নেই। আত্মীয়সজন বন্ধু-বান্ধব এর অনেকেই জানতে চায় আমি কেনো ব্লগিং করি, কি লাভ ব্লগিং করে। প্রশ্নের জবাবে অনেকটা ভাব নিয়ে বলি “অভ্যন্তরীণ প্রশান্তি” 😉 । আসলে এটাই মূল কারণ। আমি প্রথমে ব্লগিং শুরু করি অনেকটা শখের বসেই। লেখা শেষ করার পর যখন অন্য কাউকে সেই লেখায় কমেন্ট করতে দেখতাম, নিজের লেখার পোস্ট ভিউ দেখতাম তখন কি যে ভালো লাগতো সেটা বলে বোঝানো সম্ভব না আমার পক্ষে। আমি কেনো ব্লগিং করি এই প্রশ্নের সোজা সাপটা উত্তর থাকলেও অন্তর্নিহিত আরো বেশ কিছু কারণ আছে… সেগুলোই এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

শেখার জন্যে লিখি 

কিছু শিখতে আর জানতে লিখি

যেকোনো বিষয়ে লেখার পূর্বে সে বিষয়ে অল্প বিস্তর পড়াশোনাতো করতেই হয়। আর তাতে প্রথমতো নতুন কিছু জানা যায়, শেখা যায়। দ্বিতীয়ত নতুন শেখা বিষয়ে লিখে জ্ঞানটা আরেকটু ঝালিয়ে নেয়া যায়। যেমন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বিষয়ক আমার যে লেখাগুলো আছে, সেগুলো একদিনে রাতারাতি শিখেই লিখে ফেলিনি। দীর্ঘদিন এই বিষয় সম্পর্কে পড়াশোনা করতে হয়েছে, তাছাড়া বাস্তব অভিজ্ঞতাটাও এই বিষয়ে লেখার জন্যে দরকার। আর যেহেতু সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর ব্যাপারটা প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে তাই সবসময়েই সেরা ফল দিতে প্রস্তুত এমন বিষয়কে গুরুত্ত্ব দিয়ে লিখতে হয়।

যেকোনো বিষয়ে ব্লগিং করতে হলে সে বিষয়ে জানা ছাড়া ভালো কিছু লিখে ফেলা সম্ভব নয়। তাই লেখার জন্যে অবশ্যই আগে সে বিষয়টা শিখতে হবে। আর এই শেখাটাই আজ হোক, কাল হোক জীবনে কাজে দিবেই। আগে ফ্রিল্যান্স ব্লগার হিসেবেও কাজ করতাম। তখনতো আর নিজের ইচ্ছামতো বিষয়ে লিখতে পারতাম না। ক্লায়েন্ট যে বিষয়ে লিখতে দিতো সে বিষয়েই একের পর এক আর্টিকেল লিখতে হতো। সেটা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিলো। দেখা যেতো কোন বিষয়ে ২০টা, ৩০টা, ৫০টা কখনো ১০০ আর্টিকেলও লিখতে হতো। সেক্ষেত্রে সেই বিষয়ের উপর গভীর জ্ঞান ছাড়া কখনোই লেখা সম্ভব ছিলোনা। টানা কয়েকদিন এমনকি সপ্তাহখানেকও লেগে যেতো কোন বিষয় ভালোভাবে আত্মস্থ করতে। আর সেটা যেমন আর্টিকেল লেখায় কাজে এসেছে, ঠিক একইভাবে আমার জ্ঞান বৃদ্ধিতেও সহায়তা করেছে।

বাংলা ভাষায় সমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখতে লিখি 

বাংলায় ব্লগিং শুরু করার পর থেকে এখন অবধি প্রায় দুই শতাধিক আর্টিকেল লিখেছি। অনেকেই আছেন এর চেয়ে অনেক অনেক বেশি লিখেছেন। তাদের অবদানের কাছে আমারটা তো নস্যি। সেক্ষেত্রে বাংলায় ইন্টারনেট সমৃদ্ধ করার জন্যে কাজ করেছি এমন দাবিটা করা একটু বেশিই হয়ে যাবে। ইংরেজি ভাষায় শুধু যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি তারাই লিখেন না, অন্যরাও লিখেন। আর তাই ইংরেজি ভাষায় ইন্টারনেট অনেক অনেক বেশি সমৃদ্ধ। কিন্তু বাংলা শুধু বাঙ্গালিরাই লিখেন। সেক্ষেত্রে নিজে থেকেই লেখার একটা আগ্রহ জাগে। আমি আশা করি হয়তো এমন কোনদিন আসবে যেদিন বাংলা ভাষাতেও ইন্টারনেট সেরকমভাবে সমৃদ্ধ থাকবে। গুগলে যেকোনো বিষয়ে বাংলায় খোঁজ করলে যথাযথ তথ্য পাওয়া যাবে।

অন্যকে জানানোর জন্যে লিখি

অন্যকে সাহায্য করার মধ্যে অন্যরকম আনন্দ আছে। যখন দেখি কেউ আমার লেখা পড়ে একটু হলেও উপকৃত হয়েছে তখন খুব ভালো লাগে। নতুন করে আবার কিছু লেখার আগ্রহ জাগে। কাউকে যদি নিজের লেখার মাধ্যমে কিছু জানাতে পারি, শেখাতে পারি, বোঝাতে পারি, খানিকটা উপকার করতে পারি তাহলে নিজের মনে অন্যরকম এক প্রশান্তি আসে। যেমন সাইক্লিং  বিষয়টা নিয়ে বাংলাতে আর কেউ ব্লগিং করে না। তো স্বাভাবিকভাবেই যদি কেউ এ বিষয়ে গুগলে বাংলায় সার্চ করে তাহলে কিছুই পাবেনা। ভাবলাম যদি আমি লিখি এ বিষয়টাতে তাহলে হয়তো খানিকটা হলেও মানুষকে দরকারি কিছু তথ্য দিতে পারবো। এমন আগ্রহ থেকেও ব্লগিং করতে ইচ্ছা করে। 🙂

ভালো সময় কাটানোর জন্যে লিখি 

একটা সময় ছিল যখন দিনভর চ্যাটিং করেই সময় কাটাতাম। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই গণ্ডি থেকে বেড়িয়ে আসতে পেরেছি। চ্যাটিং ছিল আমার ভালো সময় পার করার অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেই বিষয়টাই এখন আমার কাছে মহাবিরক্তির কারণ। তো কিছু একটাতো করতে হবে নিজেকে ভালো রাখতে, ভালো সময় কাটাতে। লেখালেখি যতক্ষণ করি সময়টা খুব ভালোই যায় তখন। কোন বিষয়ে লেখার জন্যে সেটা নিয়ে পড়াশোনা করতে করতে আর লিখতে লিখতে সময় যে কোনদিক দিয়ে বয়ে যায় খেয়ালই থাকেনা। সময়ের যথাযথ ব্যবহারও হয়ে যাচ্ছে এতে।

বলতে গেলে হয়তো প্রতক্ষ পরোক্ষ আরো অনেক কারণই বের হয়ে আসবে। কিন্তু উপরে যেগুলো লিখলাম সেগুলোই মূল কারণ। যারা এখনো ব্লগিং করেননি কখনো তাদের বলছি খানিকটা সময় নিয়ে নেমে পড়ুন। কথা দিচ্ছি নিজেকে আরো ভালোভাবে গড়তে পারবেন, সময়ের যথাযথ ব্যবহার করতে পারবেন। সর্বোপরি নিজে জানতে পারবেন আর অন্যকে জানাতে পারবেন। :mrgreen:

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়