আরজিবি ও সিএমওয়াইকে কালার মোড কি এবং কেন?

রঙ

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর ক্ষেত্রে বহুল পরিচিত সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করতে গেলে বিভিন্ন কালার মোডের দেখা মিলে। আরিজিবি (RGB) এবং সিএমওয়াইকে (CMYK) কালার মোড দু’টিই মূলত বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই পোস্টে আরজিবি এবং সিএমওয়াইকে কালার মোড কি, কোনটা কেনো ব্যবহার করা হয় তা তুলে ধরা হবে। একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার যিনি এ বিষয়ে অল্প বিস্তর হলেও পড়াশোনা করেছেন তিনিই হয়তো ভালো বলতে পারবেন বিষয়টা তবুও একজন সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে যতটুকু বুঝি ততোটুকুই তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

আরজিবি কালার মোড কি?

লাল, সবুজ আর নীল রঙ দিয়ে দৃশ্যমান সব রঙই তৈরী করা যাবে এমন ধারণা নিয়েই আরজিবি কালার মডেল এর সূচনা হয়। তিনটি রঙের বিভিন্নটিকে বিভিন্ন পরিমাণে মিশিয়ে দৃশ্যমান অন্যান্য রঙ তৈরি করা যায়। যেমন লাল সবুজ আর নীল তিনটি রঙকেই সমপরিমাণে মেশালে সাদা রঙ পাওয়া যাবে আবার যদি শুধু লাল এর সবুজ মেশানো হয় তবে হ্লুদ রঙ পাওয়া যাবে, লাল আর নীল মেশ্লাএ ম্যাজেন্টা রঙ পাওয়া যাবে। এভাবেই এই তিনটি রঙকেই বিভিন্নভাবে বিভিন্ন পরিমানে মিশিয়ে বিভিন্ন রঙ তৈরি করা হয়। আর যখন তিনটি রঙের কোনটিই উপস্থিত থাকেনা তখন কালো রঙ পাওয়া যায়।

আরজিবি

আরজিবি কালার মোডের নামকরণ করা হয় লাল (Red), সবুজ (Green), নীল (Blue) এর ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষরগুলো একসাথে নিয়ে। অর্থাৎ Red এর R, Green এর G, Blue এর B একসাথে করে হয় RGB।

গ্রাফিক্স ডিজাইনে আরজিবি কালার মোড

ওয়েবের জন্যে যখন গ্রাফিক্স ডিজাইন করা হয় তখন আরজিবি কালার মোডকেই মূলত ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আপনি যে কম্পিউটার স্ক্রিণে এই লেখাটি পড়ছেন তা কেবল আরজিবি কালার মোডের কালারগুলোকেই দেখাতে সক্ষম। আর যেহেতু ওয়েব ডিজাইনের জন্যে যে গ্রাফিক্সের কাজ করা হয় তা কেবল কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিণেই দেখা হয় সেহেতু শুধু আরজিবি কালার মোডই ব্যবহার করা হয়।

আরজিবি কালার মোডের প্রকারভেদ

এসআরজিবি বনাম অ্যাডবি আরজিবি

এসআরজিবি বনাম অ্যাডবি আরজিবি

আরজিবি কালার মোডের বেশ কয়েকটি প্রকারভেদ থাকলেও এসআরজিবি আর অ্যাডবি আরজিবি সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যদিও সাধারণ ইমেজ প্রসেসিং সফটওয়্যারগুলো আরজিবি মোড ব্যবহার করে থাকে, তবু অ্যাডবি আরজিবি কালার মোড ব্যবহারের জন্যে অ্যাডবির কোন ইমেজ প্রসেসিং সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে, যদিও অ্যাডবিতে অনেকগুলো কালার মোড ব্যবহার করার সুযোগ থাকে।

ওয়েব গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্যে এসআরজিবিই (sRGB) সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। কারণ বেশিরভাগ কম্পিউটার মনিটরই এসআরজিবি কালার স্ক্রিণে দেখাতে পারে। অন্যদিকে অ্যাডবি আরজিবিতে এসআরজিবির চাইতে ৪৫% বেশি রঙ নির্বাচন করার সুযোগ থাকে। অর্থাৎ অ্যাডবি আরজিবিতে রঙের পরিমাণ এসআরজিবি্র চাইতে শতকরা ৪৫ ভাগ বেশি ! ! তবুও অ্যাডবি আরজিবির চাইতে এসআরজিবিই বেশি ব্যবহৃত হয়, কারণ বেশিরভাগ কম্পিউটার মনিটর অ্যাডবি আরজিবির অতিরিক্ত রঙগুলো নাও দেখাতে পারে। বর্তমানে আধুনিক ক্যামেরাগুলোর অনেকগুলোতেই অ্যাডবি আরজিবি কালার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

সিএমওয়াইকে (CMYK) কালার মোড কি?

সিএমওয়াইকে

প্রিন্টিং এর ক্ষেত্রে সিএমওয়াইকে কালার মোড ব্যবহার করা হয়। কারণ প্রিন্টিং এর জন্যে আরজিবি কালার মোড ব্যবহার করা সম্ভব না। আরজিবি কালার মোডে করা গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজগুলো কম্পিউটার স্ক্রিণেই সঠিকভাবে দেখা সম্ভব। তা প্রিন্ট আউট করে বের করলে কম্পিউটারের মতো করে দেখা সম্ভব না। অর্থাৎ কম্পিউটারে যে রঙ যেভাবে দেখা যেতো সে রঙ ঠিক সেভাবে দেখা যাবেনা। যদিও ভালো মানের আরজিবি প্রিন্টার বাজারে পাওয়া যায়, তবে সেটা বিশাল বিশাল ছাপানোর কাজে ব্যবহার সম্ভব না। সেকারণেই সিএমওয়াইকে কালার মোড প্রিন্টিং এ ব্যবহার করা হয়।

যখন আরজিবি কালার মোডের দু’টো রঙ একসাথে মেশানো হয় তখন সিএমওয়াইকে কালার মোডের একটি রঙ তৈরী হয়। যেমন সবুজ এবং নীল মিলিয়ে হয় সায়ান রঙ, লাল এবং নীল মিলিয়ে হয় ম্যাজেন্টা রঙ, লাল এবং সবুজ মিলিয়ে হয় হলুদ রঙ। এই প্রস্তুতকৃত সায়ান, ম্যাজেন্টা আর হলুদ প্রত্যেকেই সিএমওয়াইকে কালার মোডের মৌলিক রঙ এবং সেই সাথে কালো রঙ জুড়ে দেয়া হয়। অর্থাৎ কালো, সায়ান, ম্যাজেন্টা আর হলুদ এই চারটি রঙ মিলে সিএমওয়াইকে কালার মোড তৈরী হয়।

সায়ান (Cyan) এর C, ম্যাজেন্টা (Magenta) এর M, হলুদ (Yellow) এর Y , এবং K ব্যবহার করা হয়েছে কালো রঙকে বোঝাতে। এর প্রত্যেকটির প্রথম অক্ষর নিয়ে এবং কালো এর প্রতিক হিসেবে K নিয়ে এর নামকরণ করা হয় CMYK (সিএমওয়াইকে)

সিএমওয়াইকে সম্বন্ধে আর বেশি কিছু বলার নেই। কারণ বেশি কিছু জানিও না এ সম্বন্ধে। 😛 এই ছিলো এই দুই কালার মোড সম্পর্কে সাধারণ কিছু তথ্য। ভুল থাকাটা অস্বাভাবিক না, সেক্ষেত্রে ভুল ধরিয়ে দেয়ার অনুরোধ রইলো। আর লেখা কেমন লাগলো সেটা জানালে মন্দ হয়না।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়