2

ইন্টারনাল লিংক কি এবং কেন জরুরী?

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন নিয়ে পূর্বের লেখাটি লেখার পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আজ আবার লিখতে শুরু করলাম। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন টিউটোরিয়াল এর এ পর্বে ইন্টারনাল লিংক নিয়ে আলোচনা করবো। সহজ-সাবলীলভাবে খানিকটা বিস্তারিত করে বলার চেষ্টা করবো।

ইন্টারনাল লিংক কি?

ইন্টারনাল লিংক হচ্ছে একই ওয়েবসাইট থেকে ঐ ওয়েবসাইটের অন্য কোন পেইজের লিংক দেয়া। অর্থাৎ যদি একই ডোমেইন থেকে ঐ ডোমেইনের অন্য কোন পেইজের আর্টিকেলে বা অন্য কিছুতে লিংক দেয়া হয় তাহলে সেই লিংককে বলা হবে ইন্টারনাল লিংক এবং এই লিংক দেয়াকে বলা হবে ইন্টারনাল লিংকিং.।

ধরা যাক আপনি আপনার ওয়েবসাইটের কোন এক অংশে বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং পূর্বে অন্য কোন অংশে সাকিব আল হাসান কে নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। এখন ধরা যাক বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে যে আর্টিকেলটি লিখেছেন সেই আর্টিকেলে প্রসঙ্গক্রমে সাকিব আল হাসান এর নামও চলে আসলো। এখন আপনি চাচ্ছেন যে, আপনি সাকিবকে নিয়ে যে লেখাটি লিখেছেন তা যারা আগ্রহী তারা যেন সাকিবের নামের উপর খুজে নিতে পারে। তাই আপনি বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্বন্ধীয় লেখায় সাকিব আল হাসান লেখাটির উপর সাকিবের উপর লেখা আর্টিকেলের লিংক জুড়ে দিলেন। এটাকেই বলা হবে ইন্টারনাল লিংক।

উদাহরণ হিসেবে আমি আহসান মঞ্জিল বিষয়ক লেখাটির লিংক দিয়ে দিলাম । “আহসান মঞ্জিল” লেখাটিতে ক্লিক করলে পিপীলিকার আহসান মঞ্জিল বিষয়ক লেখাটি ওপেন হবে। অর্থাৎ আমি পিপীলিকার একটি পেইজ থেকে পিপীলিকার অন্য একটি পেইজে লিংক দিলাম। এটাই ইন্টারনাল লিংক।

হুদাই একটু বেশি গেজালাম 😛

ইন্টারনাল লিংক কেন জরুরী?

গুগল বট

উপরের চিত্রটি ভালো করে লক্ষ্য করুন। এখানে A হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইট 😉 এবং B,C,D ও E হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ক বিভিন্ন আর্টিকেল। এখন হোম পেইজ থেকে E ও B আর্টিকেলের দিকে ইন্টারনাল লিংক আছে কিন্তু অন্য দু’টি আর্টিকেলের দিকে কোন লিংক নেই। এমতাবস্থায় গুগল বট বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিন বট যদি আপনার ওয়েবসাইট ক্রল করতে আসে, তখন শুধুমাত্র লিংক করা আর্টিকেলগুলোর দিকেই তা ক্রল করে যেতে সক্ষম হবে। কারণ সার্চ ইঞ্জিন বটগুলো লিংক কে রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে ক্রল করে তা ইনডেক্স করে। যেহেতু C ও D এর দিকে কোন পেইজ থেকেই লিংক নেই সেহেতু সার্চ ইঞ্জিন বট এর জন্যে C ও D তে যাওয়ার জন্যে কোন রাস্তা নেই। তাই E ও B আর্টিকেলকে বট ইনডেক্স করতে পারলেও C ও D তে যেহেতু সে যেতে পারেনি তাই ইনডেক্স ও করতে পারেনি। তার মানে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে C ও D পেইজ সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য।

উপরের উদাহরণ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে যেহেতু সার্চ ইঞ্জিন বট লিংককে রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে সেহেতু অবশ্যই তাকে সেই রাস্তা করে দিতে হবে যাতে ইনডেক্স করতে পারে। এক্ষেত্রে যদি কোন আর্টিকেলে কোথাও থেকে কোন লিংক না দেয়া থাকে তবে উক্ত আর্টিকেল যতই তথ্যসমৃদ্ধ আর উপযুক্ত হোক না কেন কখনোই সার্চ রেজাল্টে দেখা যাবেনা। কারণ তা সার্চ ইঞ্জিনের কাছে অদৃশ্য ! অর্থাৎ যদি আপনার ওয়েবসাইটে থাকা সবগুলো পেইজকেই ইনডেক্স করতে চান তাহলে অবশ্যই ভালো ইন্টারনাল লিংকিং এর ব্যবস্থা করে দিতে হবে। নয়তো সার্চ ইঞ্জিন তা খুঁজে না পেলে আপনারই ক্ষতি !

যারা ইন্টারনাল লিংক এর ব্যাপারে সদ্য জানতে শুরু করেছেন তাদের মনে হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে যে সব পেইজ থেকেই কি সব পেইজে লিংক দিতে হবে? উত্তর হচ্ছে “না” ! এমনটা করতে হবেনা। উদাহরণস্বরূপ আপনার বাসার দু’টি গেইট। আপনি যেকোনোটি দিয়ে ঢুকলেই আপনার বাসায় প্রবেশ করতে পারবেন। সেহেতু একটি দরজা থাকলেও আপনি বাসায় প্রবেশ করতে পারবেন। ঠিক একই ভাবে লিংককে যদি দরজা হিসেবে তুলনা করুন এবং আপনাকে প্রতিস্থাপিত করুন সার্চ ইঞ্জিন বট দ্বারা। আর ঘরটিকে ধরে নিন আপনার কোন এক আর্টিকেল। এখন কোন একটি লিংক ধরে ঢুকলেই কিন্তু বট আপনার আর্টিকেলে প্রবেশ করতে পারছে। অর্থাৎ দু’টি থাকলেও পারছে একটি থাকলেও পারছে। তবে এক্ষেত্রে যে লিংক আছে সেই লিংক আপনার ওয়েবসাইটের যে পেইজ থেকে এসেছে তা অন্য কোন পেইজ থেকে কিংবা হোম পেইজ থেকে লিঙ্কড থাকতে হবে।

বুঝতে পারছি বিষয়টা ঘোলাটে করে ফেললাম আমি, কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে করতে পারেন, সেখানে হয়তো প্রশ্ন অনুযায়ী To the point এ উত্তর করতে পারবো।

আদর্শ ইন্টারনাল লিংক কেমন হবে?

আদর্শ ইন্টারনাল লিংক হবে এমন যাতে একটি ওয়েবসাইটের সবগুলো পেইজই আদর্শভাবে লিঙ্কড থাকবে। নিজের ছবিটি একটি আদর্শ ইন্টারনাল লিংকিং এর উদাহরণ।

ইন্টারনাল লিঙ্কিং

শেষ কথা

ইন্টারনাল লিংকিং সম্পর্কে এই ছিল প্রাথমিক ধারণা । আশা করছি পরবর্তী পর্ব থাকবে ইন্টারনাল লিংক এর উপর আরো কিছু তথ্য নিয়ে এবং স্ট্র্যাটেজি নিয়ে। 🙂 আপনার ভালো লাগা মন্দ লাগা কমেন্টে তুলে ধরতে ভুলবেন না।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়