উইন্ডোজে ট্যাবড ব্রাউজিং সুবিধা

ট্যাবড ব্রাউজিং, এটি এমন একটি সুবিধা যা ছাড়া কোন ব্রাউজারই স্বয়ংসম্পূর্ণ না। সকল ব্রাউজারেই এখন ট্যাব ফিচার থাকে। এই ট্যাবড ব্রাউজিং আমাদের ইন্টারনেট ব্রাউস করার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণরূপে পালটিয়ে দিয়েছে। একবার ভেবে দেখুন যখন কোন ব্রাউজারেই ট্যাবড ব্রাউজিং এর সুবিধা ছিল না তখন কতটা ঝামেলায় পড়তে হত নেট ব্রাউস করতে গেলে। প্রতিবার নতুন পেজ ওপেন করতে হলে নতুন উইন্ডো ওপেন করতে হতো আর প্রতিটা ওয়েবপেজ দেখতে চলে টাস্ক বার থেকে উইন্ডোতে ক্লিক করে ওপেন করে দেখতে হত। কিন্তু এখন ট্যাবড ব্রাউজিং সুবিধার সুবাদে, নতুন উইন্ডো ওপেন না করেই ট্যাবের মাধ্যমে আলাদা পেজ ওপেন করে ভিজিট করা যায়।

এখন কেমন হয় যদি আপনার সাদামাটা উইন্ডোজেও ট্যাব সুবিধা পান? ট্যাব সুবিধা এখনো যুক্ত করেনি মাইক্রোসফট, কিন্তু WindowTabs ইউজ করার মাধ্যমে এখন আপনিও পারবেন আপনার উইন্ডোজ এক্সপি, ভিস্তা বা সেভেনে ট্যাবড ব্রাউজিং এর সুবিধা যোগ করতে।

WindowTabs আসলে কি?

WindowTabs হল মাইক্রোসফট এক্সপি, ভিস্তা এবং সেভেনের জন্যে[৩২বিট এবং ৬৪ বিট] বানানো ছোট্ট একটি সফটওয়্যার, যা উইন্ডোজে ট্যাব সুবিধা প্রয়োজন করে। এই সুবিধার ফলে আপনি যতগুলো উইন্ডোই ওপেন করেন না কেন সবগুলোই ব্রাউজারের ট্যাবের মত শো করবে, কষ্ট করে বারবার টাস্ক-বার ওপেন করে দেখার প্রয়োজন পড়বে না। এই সফটওয়্যার ইউজের মাধ্যমে আপনি আপনার উইন্ডোজে ফাইল ব্রাউস করার অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ নতুন-রূপ দিতে পারবেন।

এই সফটওয়্যার আপনার উইন্ডোজে কোন মডিফিকেশন করবে না, এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে রান হয়ে আপনার সব অ্যাপ্লিকেশন উইন্ডো কে ট্যাবে পরিণত করে 😀 । আপনি চাইলে সেই ট্যাবগুলোকে আপনার প্রয়োজন মাফিক সাজিয়ে-গুছিয়ে নিতে পারেন।

উদাহরণস্বরূপ ধরুন আপনি অফিসের জন্যে একটি প্রজেক্ট করছেন, যে প্রজেক্টের জন্যে একই সময়ে আপনাকে এম এস ওয়ার্ড, পাওয়ার পয়েন্ট এবং ফটোশপে কাজ করতে হচ্ছে [বোঝানোর জন্যে উদাহরণ মাত্র]। এখন প্রতিটা কাজ করার সময় আপনাকে বারবার করে টাস্ক ম্যানেজার থেকে উইন্ডো ওপেন করতে হচ্ছে; যা বেশ ঝামেলার, এখন আপনি যদি ট্যাব সুবিধা পান, তবে ফায়ারফক্স বা ক্রোমের মতি আপনি অতি সহজে এক উইন্ডো থেকে আরেক উইন্ডোতে ন্যাভিগেট করতে পারবেন। ফলে আপনার কাজ আরো তাড়াতাড়ি হবে এবং আপনি কাজ করতে একটু হলেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন… :mrgreen:

প্রথমেই আপনাকে এখান থেকে উইন্ডোজ ট্যাবস ডাউনলোড করে নিতে হবে। এর ইন্সটলেশন পদ্ধতি খুবই সোজা। ডাউনলোড করে ইন্সটলার ফাইলে ক্লিক করলে নিচের চিত্রের মত উইন্ডো আসবে। শুধু মাত্র Next এ ক্লিক করলেই ইন্সটল হয়ে যাবে।

উইন্ডোজ ট্যাবড ব্রাউজিং ১

ইন্সটলেশন শেষ হলে আপনি লক্ষ করবেন যে আপনার ওয়ারকস্পেসের প্রতিটি উইন্ডো এখন একেকটি সিঙ্গেল ট্যাবের অধিকারী। আপনি যদি এদের কে এক সাথে মাল্টিপল ট্যাবে পরিণত করতে চান তবে আপনাকে যেকোনো একটি ট্যাব এ ক্লিক করে ধরে রেখে ড্র্যাগ করে অন্য একটি ট্যাবের উপর ছেড়ে দিতে হবে, তাহলে মাল্টিপল ট্যাব পেয়ে যাবে। আর এটি একটা অসাধারণ ফিচার এই সফটওয়্যারটির। এভাবে ড্র্যাগ করে আপনি একাধিক উইন্ডোকে মাল্টিপল ট্যাবের আওতায় আনতে পারবেন

উইন্ডোজ ট্যাবড ব্রাউজিং ২

সেটিংস এবং কনফিগারেশন ঠিক করাঃ

উইন্ডোজ ট্যাবড ব্রাউজিং 3আপনি চাইলে ডিফল্ট সেটিংসেই এই সফটওয়্যার ইউজ করতে পারেন, তবুও সেটিংস নিজের মত করে নেয়াটাই শ্রেয়। নিজের মত করে সেটিংস করে নিতে চাইলে যেকোনো ট্যাবে রাইট ক্লিক করে Settings এ ক্লিক করে আপনার সেটিংস ঠিক করে নিতে পারেন। আপনি যদি ফায়ারফক্স, ক্রোম বা এমন কোন ব্রাউজার এবং সফটওয়্যার ইউজ করে থাকেন যা ডিফল্ট ভাবে ট্যাবড ব্রাউজিং সাপোর্ট করে সেগুলোকে বাদ দিতে পারেন এই সফটওয়্যারের আওতায়। বাদ দিতে নিচের ইমেজের মত Filtering ট্যাবে গিয়ে Disable tabbing for the following applications এই রেডিও বাটনে ক্লিক করে যেসব প্রসেস এ আপনি ট্যাব ডিজেবল করতে চান মানে যেসব সফটওয়্যারে অলরেডি ট্যাব ফিচার আছে, সেগুলোতে এই অপশন যোগ করার প্রয়োজন নেই, তাই সেগুলোর প্রসেস এখানে দিয়ে Ok বাটনে ক্লিক করলেই হয়ে যাবে। এখানে আমি ফায়ারফক্স এবং ক্রোমকে দিয়েছি।

কেমন লাগলো পোস্টটি? এ সম্বন্ধে যেকোন মতামত জানাতে ভুলবেন না। কোন পরামর্শ থাকলে সেটাও নিঃসন্দেহে জানাতে পারেন।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়