একসাথে অনেকগুলো কাজ করার ৮টি ক্ষতিকর দিক!

মাল্টি-টাস্কিং

মাল্টিটাস্কিং বা একসাথে অনেকগুলো কাজ করা আমাদের সবারই অভ্যাস। আর আমাদের মনে হয় যে, একসাথে অনেকগুলো কাজ করতে পারলে কাজ দ্রুত শেষ করা যাবে, সময়ের সঠিক ব্যবহার হবে। পাশাপাশি সব কাজই আগাবে। কিন্তু এই ধারণাটা ভুল ! কিভাবে? সেটা বোঝানোর জন্যেই আজকের এই লেখা… :)

মাল্টিটাস্কিং এর ৮ টি ক্ষতিকর দিক

  • আপনি কাজে ভুল করবেন – আপনি কি একই সাথে খুব জোরে দৌড়াতে আর একই সাথে মনোযোগ দিয়ে মোবাইলে টাইপ করতে পারবেন? নিশ্চয়ই না। মোবাইলে টাইপ করলে আপনি সামনে রাস্তা দেখতে পাবেন না। ফলে দূর্ঘটনা ঘটার সমূহ সম্ভাবনা থাকবে। আর দৌড়াতে দৌড়াতে টাইপ করলে আপনি অনেক বেশি ভুল করবেন টাইপিং এ !কিন্তু মোবাইলে টাইপ করা ছাড়া দোড়াতে দিলে আপনি খুব জোড়ে দৌড়াতে পারবেন। আবার দৌড়ানো ছাড়া মোবাইলে টাইপ করতে দিলে আগের তুলনায় ভালো টাইপ করতে পারবেন। ভুলও হবেনা।  আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে কাজগুলো একসাথে করি, সেগুলো একটা একটা করে করলে আমরা অনেক বেশি মনোযোগ দিয়ে কাজ করে ভুল এড়াতে পারবো। নয়তো কাজে ভুল হবে। আমেরিকান সাইকোলজি এসোসিয়েশন এর গবেষকদের মত বার বার এক কাজের মধ্যে বিরতি দিয়ে অন্যকাজ করা আপনার কর্মদক্ষতা ৪০ভাগ পর্যন্ত কমিয়ে দিবে।
  • মানসিক অশান্তিতে ভুগবেন – কোন কাজ সঠিকভাবে শেষ করার মধ্যে মানসিক প্রশান্তি রয়েছে। আপনি এক ঘণ্টায় একটা কাজ করলে হয়তো সেটা পুরোপুরি শেষ করে নেয়া সম্ভব। কিন্তু এক ঘণ্টায় তিন-চারটা কাজ একসাথে করলে ঘণ্টা শেষে হয়তো কোন কাজই পুরোপুরি শেষ হবে না। আর নিয়মিত একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি মানসিক অশান্তির কারণ হয়ে উঠবে। অনেকে হীনমন্নতায়ও ভুগতে পারেন এ কারণে।
  • অতিমাত্রায় ব্যস্ত হয়ে পরবেন – মাল্টিটাস্কিং এর কারণে আপনার কাজে সময় বেশি লাগার পাশাপাশি একই সময়ে অনেক বেশি মাত্রায় ব্যস্ত থাকতে হবে। হয়তো এই অতিব্যস্ততার জন্যে পরিবারকে, কাছের মানুষকে, বন্ধুকে পর্যাপ্ত সময় দেয়াটা আর হয়ে উঠবেনা।
  • ব্রেইনের উপর চাপ বাড়বে – একসাথে অনেকগুলো কাজ করার ফলে ব্রেইনের উপর প্রচণ্ড চাপ দেয়া হয়। যা পরবর্তীতে বড় কোন সমস্যার রুপ নিতে পরে। আপনি একটা মোটামোটি কনফিগারেশনের কম্পিউটারে একইসাথে বড় কিছু প্রোগ্রাম রান করুন। মাত্র একটা প্রোগ্রাম চালু থাকলে যতটা সাচ্ছন্দে আপনি কাজ করতে পারতেন এবার কিন্তু তা আর পারবেন না। কাজ হবে আগের তুলনায় অনেক ধীর গতিতে। আর হ্যাং ট্যাং ও করা অস্বাভাবিক কিছু না। একসাথে একাধিক কাজ করে ব্রেইনের উপর চাপ প্রয়োগ করবেন না। এতে ব্রেইন আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে
  • দূর্ঘটনা ঘটতে পারে – মাল্টিটাস্কিং এর ক্ষতিকর দিকের মধ্যে এটিও একটি। একসাথে অনেকগুলো কাজ করার ফলে কোন কাজেই ঠিকঠাকমতো মনোযোগী হওয়া যায়না। যার ফলাফল হতে পারে ভয়ংকর কিছু। বড় রকমের দূর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। যেমন – আপনি যদি সাইকেল চালাতে চালাতে ফোনে কথা বলেন সেক্ষেত্রে বড় রকমের দূর্ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক কিছুনা।
  • জীবনকে উপভোগ করতে পারছেন না – আপনি একসাথে অনেকগুলো কাজ যখন করবেন তখন জীবনকে অনেকাংশেই মিস করবেন। কিভাবে? সর্বশেষ যে দর্শনীয় স্থানে আপনি ঘুরতে গিয়েছিলেন সেখানে দেখার মতো কি কি ছিলো মনে করতে পারেন?

You see, but you do not observe – Sir Arthur Conan Doyle

খুব বেশি কিছু নিশ্চয়ই মনে আসছেনা। এর পেছনে কারণ কি? হয়তো আপনি ছবি তোলায় বা গল্পগুজবে, মেসেজিং এ এতোই ব্যস্ত ছিলেন যে চারপাশ ঠিকঠাকভাবে দেখার, সেটাকে উপভোগ করার সময়টুকুও পাননি। ওয়েস্টার্ণ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে যে বেশিরভাগ মানুষ যারা একই সাথে একাধিক কাজ করতে অভ্যস্ত তারা তাদের সামনে থাকা জিনিসগুলোকেও দেখতে পায়না। জীবনটাকে উপভোগ করুন, দ্বিতীয় জীবন আর পাবেন না আপনি উপভোগ করার জন্যে।

  • মনে রাখার প্রবণতা কমে যাবে – একইসময়ে যদি পড়াশোনা আর টিভিতে বাংলাদেশের খেলা দেখা হয় তাহলে হয় পড়া হবেনা, নয়তো খেলা দেখা হবে না। একইসাথে দুইটা কাজ করার ফলে দুই জায়গা থেকেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় মিস করবেন। বার বার এক কাজ থেকে আরেক কাজে মনোনিবেশ করা আমাদের ক্ষণস্থায়ী স্মৃতিশক্তিকে ব্যাহত করতে পারে বলে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফর্নিয়া স্যান ফ্র্যান্সিস্কোর একটি গবেষণায় জানা গেছে।
  • আপনার সৃজনশীলতাকে নষ্ট করছে- মাল্টিটাস্কিং এর কারণে আমরা আমাদের সৃজনশীলতাকে নষ্ট করে দিচ্ছি। মাল্টিটাস্কিং এর কারণে আমরা কোন বিশেষ কাজে আলাদা করে মনোনিবেশ করতে পারিনা। ফলে যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই সৃজনশীল চিন্তাভাবনা করা সম্ভব হয়না। ৬টি বিষয় যা আপনার সৃজনশীলতা নষ্ট করছে !-শিরোনামে আর্টিকেলটিতে সৃজনশীলতা নষ্টের ৬টি কারণ তুলে ধরা হয়েছে।

অতএব, মাল্টিটাস্কিং এ আপাতদৃষ্টিতে আমাদের উপকার হচ্ছে বলে মনে হলেও আদতে আমাদের অনেক ক্ষতিই হয়ে যাচ্ছে। তাই সব কাজের জন্যে সময় ভাগ করে নিয়ে সে অনুযায়ী কাজ করুন। একটা নির্দিষ্ট সময়ে কেবল একটা নির্দিষ্ট কাজেই মনোনিবেশ করুন, তাতে কাজ যেমন দ্রুত আগাবে, তেমনই কাজে গতিও আসবে।

এবার আপনার পালা

আপনার মতে মাল্টিটাস্কিং এর আর কোন ক্ষতিকর দিক আছে কি? থাকলে কোনটা? কমেণ্টে জানান।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন :)
About আরিফুল ইসলাম পলাশ

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

কেমন লাগলো পোস্ট? আপনার মতামত জানান

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়