2

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন আমাকে কি সহায়তা করবে?

এমন অনেককেই হয়তো খুজে পাওয়া যাবে যারা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করার চেষ্টা করেন নিতান্তই করাটা জরুরী বলে। কিন্তু কেনো জরুরী আর করলেই বা কি কি লাভ হবে তা অনেকেরই জানার বাইরে রয়ে যায়। এসইও করলে কি হবে তা জিজ্ঞেস করলে সবাই এক কথায় বলতে পারবে যে এতে ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে ভালো র‍্যাঙ্ক পায়। এটা সত্যি যে এসইও করলে ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনের কাছে ভালো মূল্যায়ন পাবে। তবে এছাড়াও জান্তে-অজান্তে বেশ কিছু উপকার করে দিয়ে যায় এটি।

এই লেখায় আমি তুলে ধরবো গতানুগতিক ধারণার বাহিরে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন আমাদের আর কি কি বিষয়ে সহায়তা করতে পারে।

ভালো কনটেন্ট তৈরী করতে সহায়তা করে

সার্চ ইঞ্জিনের কাছে সঠিক মূল্যায়ন পেতে সবচেয়ে জরূরী বিষয় হচ্ছে কনটেন্ট। কনটেন্ট যদি মানসম্মত না হয় তবে যতই কাঠ-খড় পুরানো হোক না কেন কোনই লাভ হবেনা। তাই ভালো র‍্যাঙ্ক পেতে একজনকে অবশ্যই ভালো ভালো মানসম্মত কনটেন্ট দিতে হবে। যা কিনা পাঠকরাও পছন্দ করবে। এতে ওয়েবসাইটটির প্রতি পাঠকরা আকর্ষণ বোধ করবেন। ফলে তারা বারবার ফিরে আসবেন। কিন্তু যদি কনটেন্ট তাদের মনমতো না হয় তবে তারা দ্বিতীয়বার ওয়েবসাইটে  ঘুরে আসবেন এমনটি নাও হতে পারে।

ভালো কন্টেন্ট একইসাথে ওয়েবসাইটটিকে মানসম্মত করে তুলছে পাঠকদের কাছে, ঠিক তেমনই সার্চ ইঞ্জিনের কাছেও। এতে লাভবান হচ্ছে তিন গ্রুপ।

  • ওয়েবসাইটের মালিক
  • পাঠক
  • সার্চ ইঞ্জিন

ওয়েবসাইটের মালিক লাভবান হচ্ছেন কারণ তার ওয়েবসাইট ভালো র‍্যাঙ্ক করবে আর পাঠকরা বার বার ফিরে আসবেন। পাঠক লাভবান হচ্ছেন কারণ তারা মানসম্মত কনটেন্ট পাচ্ছেন। সার্চ ইঞ্জিন লাভবান হচ্ছে কারণ সে ভালো মানসম্মত কন্টেন্ট আছে এমন ওয়েবসাইটকে ভালো র‍্যাঙ্ক দিতে পারছে।

পাঠকের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে

যিনি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন নিয়ে বেশ মাথায় ঘামান তিনি সবসময় চেষ্টা করবেন যেন তার ওয়েবসাইটে এমন কিছু না থাকে, যা এসইওর জন্যে ক্ষতিকর। তাই তিনি অপ্রয়োজনীয় অ্যাড, ছবি, লেখা সরিয়ে পাঠককে সুন্দর একটা ওয়েবসাইট নিশ্চিত করেন। তাই পাঠক উলটাপালটা এড বা ছবি দেখে বিভ্রান্ত হয়ে ফেরত যান না। পাঠক যে লক্ষ্য নিয়ে ওয়েবসাইটে এসেছিলেন সেটা সে ফুলফিল করতে পারে। তাছাড়া অপ্রয়োজনীয় অংশ পাঠকের জন্যে বিরক্তিকরও হতে পারে। অনেকেই মোবাইল থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকন। তাদের জন্যে সামান্য ব্যান্ডউইথও অনেক ব্যাপার। আর সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত ছবি, অ্যাড ইত্যাদি পাঠকের বেশি ব্যান্ডউইথ নষ্ট করবে। আর একজন পাঠক কখনোই নিজের ক্ষতি করে কারো ওয়েবসাইটে আসবেনা। যেহেতু এসইও সচেতন ব্যক্তি অযাচিত বিষয় ঝেড়ে ফেলেন তাই এতে পাঠকের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত হয়। যা গুগলের কাছেও ভালো।

ওয়েবসাইট তথ্যসমৃদ্ধ করতে সহায়তা করে

উপরের টাইটেলটি অনেকের কাছেই রীতিমত ভড়কে যাওয়ার মতো কিন্তু কথাটি সত্যি। বিষয়টা খোলাসা করা যাক। ধরা যাক একজন ফটোগ্রাফার ফটোগ্রাফি বিষয়ক একটি  ব্লগ শুরু করেছেন। তার আশা হচ্ছে যখনই কেউ ফটোগ্রাফীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে খোঁজ করবে তখন তার ব্লগটিই এগিয়ে আসবে। আর এমনটি হতে হলে ফটোগ্রাফারের ব্লগটিকে অবশ্যই ফটোগ্রাফি বিষয়ক লেখায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। এজন্যে তিনি চেষ্টা করবেন ফটোগ্রাফীর প্রায় সবগুলো ব্যাপার নিয়ে তার ব্লগে আলোচনা করতে। সঠিকভাবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর জন্যে তিনি সম্পূর্ণ একটি বিষয়কে পুরোপুরি কভার করলেন, আর এতেই তার ওয়েবসাইট তথ্যসমৃদ্ধ হলো। এভাবেই এসইও কোন ওয়েবসাইটকে তথ্যসমৃদ্ধ করতে সহায়তা করে

বেশি ভিজিটর পেতে সহায়তা করবে

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করলে যে শুধু ওয়েবসাইট ভালো র‍্যাঙ্ক করবে তাই না, ভালো র‍্যাঙ্ক করার পাশাপাশি বেশি বেশি ভিজিটরও পাবে। কারণ যারা খোঁজ করে, তারা সাধারণত প্রথম দুই তিনটা কি চার পাঁচটা ফলাফলই মূল্যায়ন করে। বেশিরভাগ সময়েই এক-দুই-তিনে থাকা ওয়েবসাইটগুলোতে যায় তারা। তাই প্রথমদিকে র‍্যাঙ্ক করতে পারলে নিঃসন্দেহে বেশি বেশি ভিজিটরো পাওয়া সম্ভব হবে।

সমমনা ওয়েবসাইটগুলোর জন্যে আদর্শ হতে পারে

কোন একটা বিষয়ের উপর মাত্র একটাই ওয়েবসাইট থাকবে এমনটা খুব কম ক্ষেত্রেই হতে পারে। একটি বিষয়ের উপর শয়ে শয়ে ব্লগ/ওয়েবসাইট থাকতে পারে। কিন্তু এতোগুলোর ভিড়ে যদি আপনার ওয়েবসাইট ভালো র‍্যাঙ্ক করে, ভালো ভিজিটর পায়। তবে অন্য সব ওয়েবসাইটের জন্যে আপনার ওয়েবসাইট আদর্শ হতে পারে। আপনার দেখাদেখি তারাও হয়তো ভালো কন্টেন্ট দেয়ার চেষ্টা করবে, বাজে জিনিসগুলো সরিয়ে ফেলবে। এভাবে করে সুন্দর পরিপাটী ওয়েবসাইট গঠন সম্ভব।

মন ভালো রাখতে সহায়তা করবে

টাইটেল দেখে হাসি পাচ্ছে? পেতেও পারে 😛 । তবে কথা কিন্তু মোটেও মিথ্যা নয়। যখন আপনি দেখবেন কোন বিষয়ে সার্চ ইঞ্জিনে খোঁজ করলে আর দশটা বাঘা বাঘা ওয়েবসাইটকে ছাপিয়ে আপনার ওয়েবসাইটকে দেখাচ্ছে ;তখন মনের মধ্যে যে আনন্দ হবে তা ভাষা প্রকাশ করার মত না।  আর এটা যদি হয় কোন হট টপিকে তাহলেতো কথাই নেই। হট টপিক বলতে এমন টপিক বোঝানো হচ্ছে যে টপিকে বহুবার খোঁজ করা হয় সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে। আর নিয়মিত ভালো কনটেন্ট দিতে থাকলে এমন একটি না, অনেকগুলো পেইজই দেখা যাবে ভালো র‍্যাঙ্ক করছে। তখন আনন্দটা নেহায়েতই কম হবেনা।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করলে পরোক্ষভাবে আর কি কি ভাবে আপনি লাভবান হয়েছেন বলে মনে করেন? কমেন্ট জানাতে পারেন আমাদেরকে। 🙂

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়