1

ওয়াইফাই টিউটোরিয়ালঃ ওয়াইফাই কিভাবে কাজ করে?

ওয়াইফাই ব্যবহার করা স্বত্বেও ওয়াইফাই কিভাবে কাজ করে সেটা না জানাটা মোটেও অস্বাভাবিক কিছু না। কারণে-অকারণে বা যেভাবেই হোক কোন না কোন ভাবে আপনার মনে প্রশ্ন জেগেছে যে ওয়াইফাই কিভাবে কাজ করে, যার কারণে আপনি এই পেইজে আছেন। এই পোস্টে ওয়াই-ফাই কিভাবে কাজ করে তা সহজ-সাবলীলভাবে সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরা হবে। তার আগে ওয়াইফাই কি আর ওয়াইফাই এর ইতিহাস জেনে নিলে নিশ্চয়ই মন্দ হয়না 😉

ওয়াইফাই যেভাবে কাজ করে:

ওয়াইফাই কাজ করে অনেকটাই আপনার হাতের কাছে থাকা মোবাইল ফোনটার মত। এগুলোর কোনটার গায়েই কোন তার বা কোন কিছু লাগানো থাকেনা অথচ অনায়াসে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ডাটা বা তথ্য আদান-প্রদান করছে। সত্যিই বিস্ময়কর ব্যাপারটা। ওয়াইফাই তথ্য আদান-প্রদানের জন্যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে। যখন আপনি ওয়াইফাই সুবিধাসহ কোন মোবাইল, ল্যাপটপ বা অন্য কোন ডিভাইস নিয়ে কোন ওয়াইফাই হটস্পট এ থাকবেন তখন কানেকশন-ভেদে ফ্রিতেই বা প্রয়োজনীয় পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়াইফাই এর মাধ্যমে ইন্টারনেট এ ঢুকতে পারবেন।

ওয়াই ফাই

আপনি যখন ওয়াইফাই চালু করে কোন ওয়েবসাইটে ঢোকার চেষ্টা করবেন তখন সেই ওয়াইফাই হটস্পট যে ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে তৈরি করা সেগুলোর মাধ্যমেই ডাটা আসবে। একটু বিস্তারিত বললে হয়তো বোঝার সুবিধা হবে। ধরুন আপনার কাছে একটি ওয়াইফাই সুবিধা সহ মোবাইল ফোন রয়েছে এবং আপনি কোন ওয়াইফাই হটস্পট এর মধ্যে আছেন, প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দিয়ে ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে কানেক্ট হওয়ার পর যখন আপনি কোন ওয়েবসাইটে ঢোকার চেষ্টা করছেন তখন ওয়াইফাই রাউটার চলমান ইন্টারনেট কানেকশন থেকে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে এর এন্টেনার সাহায্যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিও তরঙ্গের আকারে আপনার তথ্য পাঠিয়ে দিচ্ছে এবং ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা অবস্থায় আপনার মোবাইল সেই রেডিও তরঙ্গকে সংগ্রহ করে সেটাকে আপনার দেখার উপযোগী করে আপনার মোবাইলে দিয়ে দিচ্ছে। ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা অন্যান্য ডিভাইসের ক্ষেত্রেও বিষয়টা অনেকটা একই রকম।আর এই কাজগুলো হয়ে যাচ্ছে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে, আপনার চোখের পলক ফেলার আগেই।

ওয়াইফাই রেডিও তরঙ্গের সাথে মোবাইল ফোনের জন্যে ব্যবহৃত তরঙ্গের একটা প্রধান পার্থক্য আছে। ওয়াইফাই তরঙ্গের কম্পাঙ্ক মোবাইল এর জন্যে ব্যবহৃত রেডিও তরঙ্গের কম্পাঙ্কের তুলনায় অনেক বেশি। ওয়াইফাইয়ের জন্যে ব্যবহৃত রেডিও তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ২.৪-৫ গিগাহার্টয, অন্যদিকে মোবাইলের জন্যে ব্যবহৃত রেডিও তরঙ্গের কম্পাঙ্ক মাত্র ৮০০-১৯০০ মেগাহার্টজ, অর্থাৎ তা ওয়াইফাইয়ের রেডিও তরঙ্গের চেয়েও অনেক কম কম্পাঙ্কের।

ওয়াইফাই হটস্পট কি?

উপরের আলোচনায় বেশ কয়েকবার ওয়াইফাই হটস্পট শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে, এটা অনেকের কাছেই জানা থাকতে পারে আবার অজানাও থাকতে পারে। যাইহোক সংক্ষেপে তুলে ধরছি ওয়াইফাই হটস্পট কি।

কোন ওয়াইফাই কানেকশনের হটস্পট বলতে বোঝায় ঐ কানেকশনটি কতটুকু জায়গা জুড়ে আছে। উদাহরণ হিসেবে মোবাইলটিকে ধরা যাক, আপনি যদি নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় এমন কোথাও থাকেন তাহলে আপনি সহজেই ফোনকল করতে পারবেন, মেসেজ পাঠাতে পারবেন। কিন্তু আপনি যদি এমন কোথাও থাকেন যেখানে নেটওয়ার্ক নেই তাহলে আপনি কিছুই করতে পারবেন না। এখানে মোবাইলের জন্যে ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক কে ওয়াইফাই হটস্পট এর সাথে তুলনা করা যায়। কোন ওয়াইফাই রাউটারের মাধ্যমে প্রেরিত রেডিও তরঙ্গ যতটুকু জায়গা জুড়ে বিস্তৃত ততটুকু জায়গার মধ্যে থাকলে আপনি ওই কানেকশন ব্যবহার করতে পারবেন। এই বিস্তৃতি কেই হটস্পট বলা হয়।

শেষ করা যাক একটা কার্টুন দিয়ে 😛

ওয়াইফাই

আমি আমার মতো করে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, যতটুকু সহজভাবে আমি বলতে পারি সেভাবেই। তাও কারো যদি কোন প্রশ্ন থেকে থাকে নিঃসন্দেহে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। :]

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি