1

চলুন দেখি আপনার কম্পিউটার কতটুকু বিদ্যুৎ খরচ করে?

কখনো কি এমন মনে হয়েছে যে আপনি যে কম্পিউটার ব্যবহার করছেন তা কতটূকু বিদ্যুৎ খরচ করছে? যদি আপনি নিয়মিত কম্পিউটার ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তাহলে কোন না কোন সময় আপনি এ নিয়ে ভেবছেন। আর যদি বিদ্যুৎ বিল দেয়ার দায়ভারটা আপনার উপরেই থাকে তাহলে আপনি এ নিয়ে নিঃসন্দেহে ভেবেছেন 😉 । একটা কম্পিউটার চালাতে কতটুকু বিদ্যুৎ খরচ হবে তা নির্ভর করে কম্পিউটার ব্যবহারকারি কি আর কেমন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন এবং কি ধরণের কাজ করছেন। এটা হয়তো আপনাকে অবাক করতে পারে যে কি ধরণের কাজ করা হচ্ছে তার উপরও কিভাবে বিদ্যুৎ খরচ নির্ভর করে।

স্বাভাবিকভাবে একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার প্রায় ৬৫ থেকে ২৫০ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। তবে এই হিসাবটুকু মনিটর ছাড়াই ! মনিটরের জন্যে আপনাকে আরো প্রায় ৩৫ থেকে ৮০ ওয়াট বিদ্যুৎ বেশি যোগ করতে হবে। বিদ্যুৎ খরচের এই হিসাবটুকু আপেক্ষিক। অনেকের ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশিও হতে পারে আবার কমও হতে পারে। কেউ পুরোনো মডেলের সিআরটি মনিটর ব্যবহার করতে পারে, আবার কেউ নতুন মডেলের এলইডি মনিটর ব্যবহার করতে পারে। এলইডি মনিটর সিআরটি মনিটরের চেয়ে প্রায় অর্ধেক বিদ্যুতেই চলতে পারে। যদি আপনি সিআরটি মনিটর ব্যবহার করেন তাহলে আপনাকে পয়সা একটু বেশিই গুণতে হবে। তাছাড়া ইন্টারনেট, ভালো মানের সাউন্ড সিস্টেম, ওয়েবক্যাম, ভারী সফটওয়্যার ব্যবহার করলেও বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক বেশি হবে।

তবে ডেস্কটপ কম্পিউটারের চেয়ে ল্যাপটপ তুলনামূলক অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ করেই চলতে পারে। বেশিরভাগ ল্যাপটপই চলতে প্রায় ১৫-৪৫ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। যারা বিদ্যুৎ বাঁচিয়ে খরচ কমাতে চান তারা ল্যাপটপ ব্যবহার করতে পারেন 😛 ।

যখন কম্পিউটার ব্যবহার করা প্রয়োজনই নেই তখন কম্পিউটার বন্ধ করে দেয়াই শ্রেয়। তবে যদি এমন হয় যে কিছুক্ষণ পর পর ব্যবহার করার প্রয়োজন হতে পারে (অফিশিয়াল কাজে, পড়াশোনার কাজে) তখন কম্পিউটারকে স্ট্যান্ডবায় মোডে দিয়ে দিতে পারেন। কারণ স্ট্যান্ডবায় মোডে কম্পিউটার খুবই কম বিদ্যুৎ (প্রায় ১-৬ ওয়াট) খরচ করে চালু থাকে। অনেকেরই ধারণা যে স্ক্রিণসেভার চালু করে রাখলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়, ধারণা ভুল। স্বাভাবিকভাবে কম্পিউটার চালু থাকলে যা খরচ হয় স্ক্রিণসেভার চালু রাখলেও একই খরচ হবে। তাই অপ্রয়োজনের সময় স্ক্রিণসেভার চালু না রেখে স্ট্যান্ডবায় মোড বা বন্ধ করে দেয়াই ভালো।

আমার কম্পিউটার কতটুকু বিদ্যুৎ খরচ করছে তা কিভাবে হিসাব করবো?

নিচের লিঙ্কে গিয়ে আপনার পাওয়ার সাপ্লাই ক্যালকুলেট করে নিন।

পাওয়ার সাপ্লাই ক্যালকুলেটর

পাওয়ার সাপ্লাই ক্যালকুলেট করার জন্যে নিচের ভিডিওটি আপনার সহায়ক হতে পারে। 😀

এরপর নিচের লিস্ট থেকে আপনার মনিটরের ধরণ এবং সাইজ অনুসারে ওয়াটের হিসাব নিয়ে তা যোগ করুন।

১৭-১৯” সিআরটি১৭-১৯” এলসিডি২০-২৪” এলসিডি
৫৬-১০০ ওয়াট১৯-৪০ ওয়াট১৭-৭২ ওয়াট

ধরা যাক পাওয়ার সাপ্লাই ক্যালকুলেটরে আপনি পেয়েছেন ১৮৫ ওয়াট আর মনিটর এ পেয়েছেন ৬০ ওয়াট (ধরে নিলাম আরকি)। এখন এ দু’টোকে যোগ করে আমরা পাই, ১২০+৬০=১৮০ ওয়াট । এই ওয়াট কে আমরা ১০০০ দ্বারা ভাগ করে কিলোওয়াটে নিলে পাই, ১৮০/১০০০= ০.১৮ কিলোওয়াট। আরো ধরে নিচ্ছি আমরা দিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা কম্পিউটার ব্যবহার করি। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় বিদ্যুতের দাম ২.৮০টাকা। তাহলে আমাদের মোট খরচ হচ্ছে ০.১৮ x ১০ x ২.৮০ = ৫.০৪ টাকা। এটা হচ্ছে প্রতিদিনের হিসাব। মাসের হিসাব করতে ৫.০৪ টাকার সাথে আরো ৩০ কিংবা ৩১ আর ফেব্রুয়ারি মাসে ২৮/২৯ ( 😉 ) গুণ করতে হবে। ৩০ দিনে মাস হলে প্রতিমাসে খরচ হবে প্রায় ১৫১ টাকা।

ওয়াট x  সময়
   x প্রতি কিলোওয়াট-ঘন্টায় খরচ x মাসের দিন সংখ্যা = মাসের খরচ
 


 

 

১০০০

তো আপনার প্রতিমাসে কম্পিউটার বাবদ খরচ কতো হলো? কমেন্টে জানান।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়