4

কিওয়ার্ড রিসার্চ টিপস – যা অবশ্যই মনে রাখতে হবে।

কিওয়ার্ড রিসার্চ এমন একটা বিষয় যাতে সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন না পেলে কখনোই আশানুরুপ ফলাফলা পাওয়া সম্ভব নয়। সেই বিষয়টা মাথায় রেখেই আমাদের এবারের পর্ব কিওয়ার্ড রিসার্চ টিপস নিয়ে। ইতোপূর্বে আমরা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর সাধারণ বিষয়গুলো আর কিওয়ার্ড রিসার্চ এর সাধারণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এ পর্বে কিওয়ার্ড রিসার্চ নিয়ে আরেকটু গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে। কিওয়ার্ড রিসার্চ এর সময় যে বিষয়গুলো লক্ষ রাখতে হবে অর্থাৎ কিওয়ার্ড রিসার্চ এর কিছু টিপস একে একে তুলে ধরা হবে।

আপাতদৃষ্টিতে কিওয়ার্ড রিসার্চ এর ব্যাপারটা বেশ সাদামাটা মনে হলেও আসলে ততটা নয়, তবে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে তখন সহজই মনে হবে। বিষয়টা এমন না যে নির্দিষ্ট কিছু কিওয়ার্ড মনে মনে নির্ধারণ করলামা আর সে অনুযায়ী ওয়েবসাইট অপটিমাইজ করলাম আর যথাযথ ফলাফল পেয়ে গেলাম। বিষয়টি কখনোই অনুমান নির্ভর নয়, মার্কেটে বেশ অনেকগুলোই কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলস আছে, সেগুলোর সহায়তা ছাড়া কোনভাবেই কিওয়ার্ড রিসার্চ সফলভাবে করা সম্ভব নয়। যে টুলসই ব্যবহার করা হোকনা কেন বেশ অনেকগুলো বিষয় মাথায় রাখতে হবে। আর সে বিষয়গুলো নিয়েই সাজানো কিওয়ার্ড রিসার্চ টিপস সমূহ।

বেসিক সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কোর্স এর আগের পোস্ট সমূহ –

১. সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন – বেসিক ধারণা

২. অন পেজ অপটিমাইজেশন কি এবং কেন করতে হবে

৩. কিওয়ার্ড রিসার্চ

কিওয়ার্ড রিসার্চ টিপস

কিওয়ার্ড রিসার্চ টিপস

সার্চ ভলিউম

যেকোনো টুলসই এই সুবিধাটি দিয়ে থাকে যার মাধ্যমে কোন কিওয়ার্ড কে মাসে কতবার সার্চ করা হচ্ছে তা জানা যায়। সার্চ ভলিউম বলতে সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে কোন কিওয়ার্ডে সার্চ করা সংখ্যাকেই বোঝায়, তবে চাইলে নির্দিষ্ট কোন অঞ্চলভিত্তিক ভলিউম ও দেখা যায়। যেকোনো কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করার পূর্বে দেখে নেয়া উচিৎ সমগ্র বিশ্বে মোট সার্চ ভলিউম আপনার কাজের জন্যে সন্তোষজনক কিনা। যদি সন্তোষজনক না হয় তাহলে সেই কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ না করার বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আপনার টোপ যতো ভালই হোক না কেন, সে টোপ যদি গুটিকয়েক মাছ আছে এমন কোন পুকুরে ফেলা হয় তাহলে সেই গুটিকয়েক মাছই হয়তো আপনার ভাগ্যে জুটবে, আর সেই স্বল্প মাছের পুকুরেও যদি আপনার সাথে অন্য কেউ টোপ পেতে বসে সেখানে আপনার মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এক্ষেত্রে আপনার কনটেন্টকে যদি টোপ আর পাঠককে যদি মাছ হিসেবে ধরা হয় তাহলে বলা যায়, যেসব কিওয়ার্ডে খুব কম মানুষ সার্চ করে সেসব কিওয়ার্ডে কাজ করলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তাই সার্চ ভলিউম এর উপর একটু ভালোভাবে নজড় রাখতে হবে।

আরেকটি বিষয় লক্ষনীয়, কোন কিওয়ার্ড এর গ্লোবাল সার্চ ভলিউম যদি শুন্যের কোঠাতেও থাকে তা যেন কোন একসময় লক্ষের কোটা ছাড়িয়ে যাবেনা তা বলা মুশকিল। ব্যাপারটা ঘোলাটে মনে হতে পারে, উদাহরণ দেয়া যাক। ২০০৭ সালে এমন মানুষ হয়তো খুজেই পাওয়া যেত না যারা কিনা ২০১১ এর ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে খোঁজ করেছেন, যদি কেউ করেও থাকেন তাহলেও তাদের সংখ্যা নিতান্তই কম। কিন্তু ২০১১ সালে যখন বিশ্বকাপ শুরু হলো তখন কিন্তু মাত্র অল্প কিছুদিনেই গ্লোবাল সার্চ ভলিউম বেড়ে একেবারে তুঙ্গে উঠে গেলো। অর্থাৎ যে কিওয়ার্ডে আজকে কেউ খোঁজ করে না, আগামীতে এমনো হতে পারে যে সে বিষয়ে অনেক অনেক মানুষ খোঁজ করছে, তবে এমন বিষয়ে কাজ করার চেয়ে না করাই ভালো। আর যেসব কিওয়ার্ড হঠাৎ করেই তুঙ্গে উঠে সেগুলো আবার হঠাৎ করেই নেমে যেতে পারে। যেমন ২০১১ এর বিশ্বকাপের পরে এখন খুব কম মানুষই খোঁজ করে তা নিয়ে।

আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষকে লক্ষ্য করে লিখে থাকেন এবং চেয়ে থাকেন যে আপনার কনটেন্ট তাদের উপযোগী করে গড়ে তুলবেন তাহলে অবশ্যই লোকাল মাসিক সার্চ ভলিউম এর দিকে লক্ষ রাখতে হবে।

কম্পিটিশন

কিওয়ার্ড রিসার্চ করার সময় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কম্পিটিশন। আপনি যে কিওয়ার্ডটি নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন সেই একই বা সামঞ্জন্স্যপূর্ণ কিওয়ার্ড নিয়ে আর কতজন কাজ করছে সেটার উপর নির্ভর করে আপনার কাজের সার্থকতা কিংবা ব্যার্থতা। কোন কিওয়ার্ডের কম্পিটিশন যদি খুব বেশি হয় তবে তা নিয়ে কাজ না করাটাই বুদ্ধিমানে কাজ হবে, নয়তো সেই একই বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য কিওয়ার্ড যাতে কম্পিটিশন কম তা নিয়ে কাজ করা উচিৎ।

আপনি যদি কোন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন যেখানে মাত্র তিনজন ছাত্র আপনিসহ সেখানে আপনার প্রথম স্থান অধিকার করার সুযোগ বা সম্ভাবনা বেশি না যখন আপনার সাথে যখন ১০০ জন পরীক্ষা দেয় তখন প্রথম স্থান অধিকার করার সম্ভাবনা বেশি? নিশ্চয়ই আপনি বলবেন যখন মোট তিনজন ছাত্র তখন সম্ভাবনা বেশি। আসলেই তাই, আপনার সাথে প্রতিযোগিতা করার মানুষ যত কম আপনার এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা ততো বেশি। লো কম্পিটিশন এর কিওয়ার্ডে খুব কম প্রতিযোগী বা শুন্য প্রতিযোগী পাবেন আপনি আর হাই কম্পিটিশন এর কিওয়ার্ডে লক্ষ লক্ষ প্রতিযোগী পাবেন যাদের মধ্যে বাঘা বাঘা ওয়েবসাইটগুলোও আছে।

আপনি যতো চেষ্টাই করুণ না কেন যেকোনো সার্চ ইঞ্জিন এ আপনি কখনো “Google” কিওয়ার্ডের জন্যে প্রথম স্থানে আসতে পারবেন না, এর জন্যে আপনি যতো কাঠ-খড় পুরান না কেন সব বিফলে যাবে। এমনই অনেক কিওয়ার্ড আছে যা হাইলি কম্পিটিটিভ কিংবা কম্পিটিশনের ঊর্ধ্বে, সেসব কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করা যাবেনা।

কিওয়ার্ডের সামঞ্জস্যতা

যেকোনো কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই ভাবা উচিৎ যে কিওয়ার্ড নিয়ে আপনি রিসার্চ করছেন তা আদৌ আপনার ওয়েবসাইটের বিষয় এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা। আপনার ওয়েবসাইট এর বিষয়বস্তুর সাথে যায় না এমন কোন বিষয়ে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে তেমন একটা লাভবান হতে পারবেন না। আপনাকে সবসময় সাম্নজস্যতার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

একজন আলু বিক্রেতা, তিনি অনলাইনে আলু বিক্রি করছেন, এখন তিনি যদি আলু বিষয়ক ওয়েবসাইট তৈরী করে থাকেন আর তার ওয়েবসাইটের জন্যে কিওয়ার্ড রিসার্চ করেন মূলা নিয়ে তাহলে ব্যাপারটা কি দাড়াচ্ছে? অসামঞ্জস্যপূর্ণ, তাহলে তার জন্যে এমনটি করা উচিৎ হবেনা। তার ওয়েবসাইট যেহেতু আলু কেন্দ্রিক তাই তাকে আলুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয় নিয়েই রিসার্চ করা উচিৎ, তবে কোন ক্ষেত্রে যদি আলুর ব্যাপারে কনটেন্ট তৈরি করতে মূলা বিষয়ক তথ্যের দরকার হয় সেক্ষেত্রে সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা।

তবে একটা বিষয়ের দিকে অবশ্যই নজড় দেয়া উচিৎ সেটা হচ্ছে একই জাতীয় কিওয়ার্ড। আলু যদি মেইন কিওয়ার্ড হয় তাহলে মিষ্টি আলু, গোল আলু ইত্যাদি হচ্ছে আলুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিওয়ার্ড, তাই প্রধান কিওয়ার্ড এর পাশাপাশি কাছাকাছি অন্যান্য কিওয়ার্ড ও খেয়াল করতে হবে।

লং টেইল কিওয়ার্ড

আপনি “Bangladesh” কিওয়ার্ডটির জন্যে আপনার ওয়েবসাইটকে র‍্যাংক করাতে চাইলে যতটা কাঠখড় পোড়াতে হবে তার চেয়ে অনেক অনেক কম কাঠখড় পোড়াতে হবে যদি আপনি “Bangladesh Premier League 2013 Fixtures”  এর জন্যে আপনার ওয়েবসাইটোকে র‍্যাংক করাতে চান। একটি শব্দের কিওয়ার্ডটি নিতান্তই সাধারণ একটা কিওয়ার্ড যা হরহামেশাই সার্চ করা হচ্ছে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে এবং তা নিয়ে প্রতিযোগিতাও অনেক হচ্ছে। কিন্তু দ্বিতীয় যে কিওয়ার্ডটি আছে সেটা বেশ দীর্ঘ একটা কিওয়ার্ড, যাকে লং টেইল কিওয়ার্ড বলা হয়। এ নিয়ে খুব মানুষই হয়তো প্রতিযোগিতা করছে প্রথম স্থান অধিকারের। তাই প্রথমটি চেয়ে দ্বিতীয় বিষয়ে র‍্যাঙ্ক করা তুলনামূলক অনেক সোজা হবে।

ধৈর্য

শুনতে অবাক লাগলেও ধৈর্য কিওয়ার্ড রিসার্চ এর জন্যে অত্যাবশ্যকীয় একটা বিষয়। ধৈর্য ধারণ ছাড়া কখনোই এখানে সফলতা লাভ করা সম্ভব না। প্রতিটা বিষয় অত্যন্ত  ধৈর্যশীলতার সাথে কএর্ব হব্ব। তাড়াহুড়ো করে কাজ করা উচিৎ হবেনা, কারণ আপনার হিসাব নিকাশে সামান্যতম ভুল আপনার সম্পূর্ণ শ্রমকেই পণ্ডশ্রমে পরিণত করে ফেলতে পারে। তাই চেষ্টা করুন, ধৈর্য্য ধরে যত্নসহকারে কিওয়ার্ড রিসার্চ করার।

শেষ কথা

আমি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বেসিক কোর্সের চতুর্থ পোস্ট টা করতে হয়তো একটু বেশিই দেরী করে ফেললাম, পরবর্তী পোস্টগুল যত দ্রুত পারা যায় করে ফেলার চেষ্টা করবো। তবে লেখা অনুযায়ী আশানুরুপ মতামত পাচ্ছিনা কারো কাছ থেকেই। সবার মতামত লেখাকে প্রাণবন্ত করে তুলতে সহায়তা করবে।

লেখার কোন বিষয় বুঝতে অসুবিধা হলে নির্দ্বিধায় প্রশ্ন করুন, আমি চেষ্টা করবো উত্তর দেয়ার।

Enhanced by Zemanta
ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়