কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবো !

 

ফ্রিল্যান্সিং

ঢাকার রাস্তায় আনাচে-কানাচে, বাসের জানালায়, দেওয়ালে, এখানে ওখানে প্রায়ই দেখা যায়  “ঘরে বসেই আয় করুন”, “ফ্রিল্যান্সিং করে ঘরে বসেই আয় করুন হাজার হাজার টাকা” ইত্যাদি ইত্যাদি ! কিন্তু একটু খোঁজ নিলেই দেখা যাবে যে, যারা এসব কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন তারা নিজেরাই ফ্রিল্যান্সিং করে সাবলম্বী হতে পারেন নি ! একবার ভাবুন তো, যেখানে এরা নিজেরাই পারেনা সেখানে অন্যকে কিভাবে শেখাবে তারা?

আমরা আগের পর্বে “ফ্রিল্যন্সিং কি এবং কেন” আলোচনা করেছি। এ পর্বে আমরা তুলে ধরবো কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করা যায়।

 

নিজের আগ্রহ খুঁজে বের করুন

নিজেকে জানুন

ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করার জন্যে শয়ে শয়ে বিষয় আছে। তবে নিশ্চয়ই আপনি সব কাযে আগ্রহী না। ফ্রিল্যান্সিং করতে প্রথমেই আপনাকে নিজের আগ্রহের স্থানটা খুঁজে বের করতে হবে। যে কাজ আপনার ভালো লাগে, যে কাজে আপনি আগ্রহবোধ করেন, মানসিকভাবে তৃপ্ত হোন এমন কাজ করতে পারলে কখনোই আপনাকে এক ঘেয়েমি গ্রাস করবেনা। পাশাপাশি কাজকে কখনোই কাজ মনে হবেনা।

যেসব কাজে ভালো পেমেন্ট আছে আর পাশাপাশি আপনিও আগ্রহবোধ করেন এমন কাজ খুঁজে বের করতে হলে সব কাজই একটু একটু করে দেখতে হবে। নয়তো হঠাত করেই বুঝে উঠা সম্ভব না (অনেকক্ষেত্রেই)।

অনেকেই আছেন যারা ফ্রিল্যান্সিং করে আহামরি কিছু করতে পারছেন না। সেটার পিছে যে কারণগুলো আছে তার মধ্যে একটু হুজুগে পরে বিষয় নির্বাচন করা। কেউ হয়তো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বিষয়টায় মোটেও আগ্রহবোধ করে না।  সে আগ্রহবোধ করে আর্টিকেল রাইটিং এ। সে হয়তো তার কোন বন্ধুর কাছে শুনেছে যে এ কাজে ভালো পেমেন্ট পাওয়া যায়। আর তাই সেও এই বিষয়টা শিখে কাজ করা শুরু করে দিলো। এখানে সে এসইওর কাজ করে যতটা উন্নতি করতে পারছে তার চেয়ে অনেক বেশি উন্নতি করতে পারতো যদি সে আর্টিকেল রাইটিং এ কাজ করতো।

তাই নিজের আগ্রহের বিষয়টাকে খুঁজে বের করুন।

ফুল টাইম ফ্রিল্যান্সার নাকি পার্ট টাইম?

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে এটাও ভেবে নিন যে আপনি ফুল টাইম কাজ করবেন নাকি পার্ট টাইম ! আমার সাজেশন হচ্ছে প্রথমেই ফুল টাইম ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার দরকার নেই। আপনি কোন জব করে থাকলে বা পড়াশোনা করে থাকলে সেটার পাশাপাশিই কাজ করা শুরু করুন। যদি ধীরে ধীরে নিজের উন্নতি দেখেন আর বুঝতে পারেন যে সামনে আপনার উজ্জ্বল ভবিষ্যত পরে আছে তাহলে ভেবে চিন্তে আপনার জন্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।

তবে হুজুগে পরে চাকরি-বাকরি সব বাদ দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার পদক্ষেপ আত্মবিধ্বংসী হতে পারে। কারণ ফ্রিল্যান্সিং সবার জন্যে না। আপনি হয়তো অল্প কিছুদিন কাজ করেই আগ্রহ হারাতে পারেন বা কোন দিকে যোগ্যতার অভাব থাকায় কাজ নাও পেতে পারেন। তাই প্রথমে নিজেকে সময় দিন, বুঝুন আপনি কতটা যোগ্য আর ভবিষ্যতে আপনি কতটা আগাতে পারবেন। এরপর না হয় ফুল টাইম ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে আগানো যাবে।

আর যদি ছাত্র হন তাহলে এক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পড়াশোনায় ভালো ফলাফল করতে হলে অবশ্যই আপনাকে সেটার জন্যেও সময় দিতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি ফিল্যান্সিং করতে চাইলে বেশিরভাগ সময়েই পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ছাত্র হয়ে থাকলে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন। ফুল টাইম কাজ করতে চাওয়াটা আপনার জন্যে ভুল সাব্যস্ত হতে পারে।

ভালো কনফিগারেশনের কম্পিউটার

ভালো কনফিগারেশনের কম্পিউটার থাকাটাও বেশ জরুরী। ভালো কনফিগারেশনের কম্পিউটার যেমন বাড়াতে পারে আপনার কাজের গতি ঠিক তেমনই কাজ করার সময় কমিয়ে দিয়ে আপনার অনেক সময় বাঁচিয়ে দিতে পারে। যদি সম্ভব হয় তাহলে কাজ করার পূর্বে সাধ্যের মধ্যে যতটুকু ভালো কনফিগারেশনের পারা যায় ততটুকু ভালো কনফিগারেশনের কম্পিউটারের ব্যবস্থা করা।

ভালো মানের ইন্টারনেট সংযোগ

অনলাইনে কাজ করতে চাইলে ভালো মানের ইন্টারনেট সংযোগ থাকা আবশ্যিক বিষয়। ভালো মানের এবং স্পীডের ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলে আপনার কাজ নানা ক্ষেত্রেই বাধাগ্রস্ত হবে। ধরুন এই মুহূর্তে আপনার ক্লায়েন্টের সাথে কাজ সম্পর্কে জানার জন্যে ভিডিও চ্যাট করা প্রয়োজন। এখন আপনার যদি ভালো স্পীডের ইন্টারনেট সংযোগ না থাকে তাহলে ভিডিও চ্যাট ঠিকমতো করা সম্ভব হবেনা।

অনেকসময় কাজের জন্যে বাঁধাধরা সময় দিয়ে দেয়া থাকে। সেই সময়ের মধ্যে কাজ জমা দিতে হয়। ধরুণ আপনার কাজ শেষ, কিন্তু ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন আপনার ! তাহলে কাজ করার পরেও আপনি জমা দিতে পারলেন না, যা আপনাকে খারাপ রেপুটেশন এনে দিবে।

অনেকক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট অনেক বড় সাইজের ফাইল ডাউনলোড করতে দিতে পারে। আবার আপনাকেও বড় সাইজের ফাইল আপলোড করতে হতে পারে।

তাই ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে ন্যুনতম ১ এমবিপিএস ইন্টারনেট সংযোগ থাকা বাঞ্ছনীয়। আর যাদের কাছ থেকে কানেকশন নিবেন তাদের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সেই কানেকশন ব্যবহার করে এমন ব্যবহারকারীদের থেকে জেনে নিন।

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শেখা

ফ্রিল্যান্সিং এর জন্যে যেসব বিষয়ের কাজ করা যায় তার বেশিরভাগই অনলাইনে ফ্রিতেই শেখা সম্ভব। গুগলে একটু খোঁজ করলেই কাজ শেখার মতো প্রচুর ওয়েবসাইট, ব্লগ, ফোরাম পেয়ে যাবেন। যেখানে আছে হাজারো সেচ্ছাসেবক যারা নিজে থেকেই বিনামূল্যে অন্যকে শেখাতে আগ্রহী।

তাছাড়া দেশেও বর্তমানে ভালো কিছু ট্রেনিং সেন্টার তৈরি হয়েছে। স্বনামধন্য এমন কোথাও থেকেও চাইলে কাজ শিখে নিতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ শেখার বিষয়টা একটু বড় হওয়ার এ নিয়ে “ফ্রিল্যান্সিং এর জন্যে কাজ কোথায় শিখবো” পোস্টে আলোচনা করেছি।

শুভ হোক ফিল্যান্সিং এ আপনার পথ চলা। :)

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন :)
About আরিফুল ইসলাম পলাশ

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

Trackbacks

  1. […] আগের লেখায় বলেছিলাম যে, প্রথমেই আপনার আগ্রহের বিষয় খুঁজে বের করুন। আশা করি আপনি আপনার আগ্রহের বিষয় খুঁজে পেয়েছেন ইতোমধ্যেই। […]

কেমন লাগলো পোস্ট? আপনার মতামত জানান

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়