3

কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো?

ব্লগিং

আমি তখন সপ্তম শ্রেণীতে যখন প্রথমবারের মতো ব্লগিং শব্দটার সাথে পরিচিত হয়। তখন আমার ধারণা ছিলো ব্লগিং হচ্ছে ডায়েরীর ভার্চুয়াল রুপ। মানুষ ডায়েরীতে নিজের মনের কথা না লিখে ব্লগে লিখে। পরে ধীরে ধীরে জানতে শুরু করলাম ব্লগিং শুধু এইটুকুতেই সীমাবদ্ধ না। এর পরিসর অনেক বড়। ধীরে ধীরে কোন এক আইটি বিষয়ক ম্যাগাজিনে সামহোয়্যারইন এর একটা অ্যাড দেখলাম। আমার বাসায় তখন না ছিলো কম্পিউটার আর না ছিলো ইন্টারনেট; তবুও আমার একটা নোট ছিলো। যেখানে আমি বই, ম্যাগাজিন বা অন্য কোথাও থেকে পাওয়া ওয়েবসাইটগুলোর ঠিকানা লিখে রাখতাম। সেখানে লিখে রাখলাম সামহোয়্যারইন ব্লগের ঠিকানাও।

কম্পিউটার খুব ছোটবেলা থেকেই চালাতে শিখেছি। সেও এক মজার কাহিনী, অন্য কোন দিন সেটা করা যাবে। আর ইন্টারনেটের হাতেখড়ি হয় বাবার অফিসে। বিষয়টা সম্পর্কে বেশ ধারণা নিয়েছিলাম বিভিন্ন বই টই পড়ে। কিন্তু কখনো হাতে কলমে চালানো হয়নি। বাবার অফিস থেকেই প্রথমবার কোন ওয়েবঠিকানায় ঠুকলাম। সে এক অসাধারণ অনুভূতি। ঐ একদিনেই ইন্টারনেট আমাকে পেয়ে বসে। এক বন্ধুর মাধ্যমে সাইবার ক্যাফের খোঁজ পাই। এরপর আমার নোটের খাতা নিয়ে প্রায়ই সেখানে চলে যেতাম। বিভিন্ন ব্লগারের ব্লগ পড়তাম। খুব আগ্রহ নিয়ে পড়তাম। জীবনে প্রথম স্কুল ফাকিও দিয়েছি এই ব্লগ পড়ার জন্যে। পুরো সময়টা আমি সাইবার ক্যাফেতে বসে ব্লগ পড়েছি ! ধীরে আমার মধ্যেও ব্লগ লেখার ইচ্ছে হলো। কিন্তু কিভাবে শুরু করবো সেটা জানা ছিলোনা। আর আমার চেনা এমন কেউ নেইও যাকে আমি জিজ্ঞেস করবো বিষয়টা। থাকলেও হয়তো জিজ্ঞেস করতাম না। এটা আমার একটা খারাপ অভ্যাস বলা যেতে পারে। কোন কিছু কারো সাহায্য ছাড়া গোড়া থেকে শেখার ইচ্ছা…

যাইহোক ধীরে ধীরে ব্লগিং করার ইচ্ছা প্রবল থেকে প্রবলতর হতে শুরু করে। এরপর রেজিস্ট্রেশন করি সামহোয়্যারইন এ। তখনও আমার বাসায় ইন্টারনেট-কম্পিউটার কোনটাই নেই ! স্কুল ফাকি দিয়ে বা অন্য কোনভাবে সাইবার ক্যাফেতে চলে যেতাম। কিন্তু শুধু গেলেই তো হবেনা। বাংলাতে লিখতেও তো হবে [১]। কিন্তু আমি যে লিখতে জানিনা ! তো উপায়?

আর কিছু না পারি, কপি-পেস্ট করতে তো ঠিকই পারতাম। একটা একটা করে অক্ষর কপি করে একসাথে জুড়তাম। এভাবেই ধীরে ধীরে শব্দ হতো, তা থেকে বাক্য হতো। আর এমনই কতকগুলো বাক্য মিলে হয়ে যেতো আমার পুরো ব্লগপোস্ট। এভাবেই চলতে থাকে… ধীরে ধীরে বাংলা টাইপিং আয়ত্বে এনে ফেলি। চলতে থাকে আমার ব্লগিং। একটা সময়ে লিখতে জানতাম না, আর এখন লেখা শুরু করলে কিবোর্ড থেকে হাত সরেনা।

উপরের ঘটনা শোনানোর মানে কি? আপনার মনে এই প্রশ্নটা আসতে পারে। মানে হচ্ছে কিছুটা ইন্সপায়ার করা। যখন ভেবেছি ব্লগিং শুরু করবো, তো করবোই। “আমার বাসায় ইন্টারনেট নেই”, “আমার নিজের কম্পিউটার নেই”, “আমি বাংলা লিখতে জানিনা” – এমন কোন অজুহাতই যেন আপনাকে থামাতে না পারে ! আব্রাহাম লিংকন এর একটা কথা হঠাত মনে পড়ছে –

যদি কেউ গভীরভাবে উকিল হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে তবে তার অর্ধেক ওকালতি পড়া হয়ে যায়, বাকিটুকু তাকে বই পড়ে আয়ত্ত করতে হয়

একই ভাবে আপনি যখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন যে “ব্লগিং করবো“, তখনই আপনার অর্ধেক কাজ শেষ। বাকিটুকু নির্ভর করে আপনি কতদ্রুত আপনার ইচ্ছাকে বাস্তবে রুপ দেয়ার ইচ্ছা করতে পারেন তার উপর। তো আর দেরী কেন? ঝটপট পছন্দের কোন ব্লগে রেজিস্ট্রেশন করুন আর কিবোর্ডে তুলুন তুমুল ঝড় ! হয়ে উঠুন ব্লগার !

চাইলে পিপীলিকার লেখক হোন আপনিও

[১] – আমি বাংলায় ব্লগিং এর বিষয়টাই এখানে তুলে ধরেছি।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়