খুশকি সমস্যাঃ সমস্যার প্রতিকার

খুশকি সমস্যা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। পূর্ববর্তী পোস্টে এর কারণ সমূহ দেয়া হয়েছে। আজকে আমরা এর প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করব।

খুশকির প্রতিকার করার জন্য কোন ডাক্তারের প্রয়োজন নেই। নিজেই কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এ সমস্যা দূরীভূত হয়। তবে কয়েক সপ্তাহ নিজে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরেও যদি কোন উন্নতি না হয় তবে ডাক্তার দেখানো উচিত। এক্ষেত্রে একজন ভালো চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত।stylish-elegant-black-hair-beautiful-girl-600x375

নিম্নলিখিত পদক্ষেপ সমূদ গ্রহণ করলে খুশকি সমস্যা দূরীভূত হবে –

১। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির শ্যাম্পু পাওয়া যায় যা খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। এগুলোর মধ্যে যেটি আপনার ত্বকের প্রতি সহনীয় সেটি নিয়মিত ব্যবহার করলে খুশকি সমস্যা অনেকটাই দূর হয়ে থাকে। তবে যে শ্যাম্পুই ব্যবহার করুন না কেন তাতে যেন কিছু নির্দিষ্ট উপাদান থাকে।   যেমন – জিঙ্ক পাইরিথিওন, সেলেনিয়াম সালফাইড, কোল টার, কেটোকোনাজল, স্যালিসিলিক এসিড, টি ট্রি অয়েল, গ্রীন টি প্রভৃতি। এই উপাদানসমূহ খুশকি দূরীকরণে খুবই কার্যকর।

২। ভিনেগার ব্যবহার করলে খুশকি দূরীভূত হয়। শ্যাম্পুর পূর্বে বা পরে এক মগ জলে অর্ধেক কাপ ভিনেগার মিশিয়ে ভালো করে মাথায় ঢালুন। এমনভাবে দিতে হবে যাতে মাথার ত্বক ভিনেগার দ্বারা সিক্ত হয়। যদি শ্যাম্পুর পূর্বে দিয়ে থাকেন তবে ১০ মিনিট রাখুন এবং তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। শ্যাম্পুর পরে দিলে আর কিছু করার প্রয়োজন নেই। সাধারণ ভিনেগার ব্যবহার করলেই হবে তবে এপল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করলে অত্যধিক ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। এটি কন্ডিশনারের কাজও করে থাকে। খুব বেশি গরম জল ব্যবহার, ব্লো ড্রাই ও হট এয়ার ড্রাই করবেন না

৩। ভিনেগার ব্যবহার করার আরেকটি পদ্ধতি আছে। ১/২ টেবিল চামচ এপল সিডার ভিনেগার এক কাপ খুব হাল্কা গরম জলে মিশিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন ও রেখে দিন। এটি ধোয়ার প্রয়োজন নেই। ব্লো ড্রাই ওহট এয়ার ড্রাই করবেন না।Organic Honey2

৪। মধু ব্যাবহারেও খুশকি দূর হয়ে থাকে। মধু সরাসরি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর্যন্ত রাখতে হবে। শাওয়ার ক্যাপ ব্যবহার করে গড়িয়ে পড়া রোধ করতে পারেন। খুব হাল্কা গরম জল দিয়ে ধুয়ে নিবেন। গরম জল, ব্লো ড্রাই ও হট এয়ার ড্রাই পরিহার করুন। এটি চুল পড়াও কমায়।Rosmarinus-officinalis1

৫। রোসমেরি অয়েলও খুশকি দূরীকরণে কার্যকর। শ্যাম্পুর পরে চুল শুকিয়ে যাওয়ার পর কয়েক ফোঁটা রোসমেরি অয়েল হাতের তালুতে নিয়ে মাথার ত্বকে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। এরপর চিরূনি বা হেয়ার ব্রাশ দিয়ে আস্তে আস্তে পুরো চুল আঁচড়িয়ে নিন।

৬। পেয়াজের রস মাথার ত্বকে ব্যবহার করলে খুশকি দূর হয়। এটি মাথার ত্বকে দিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ভালো করে শ্যাম্পু করে নিতে হবে।

green_lemon_lime_wallpapers-t2৭। লেবু খুবই সহজলভ্য। এটিও খুশকি দূরীকরণে কার্যকর। শ্যাম্পুর পরে এক মগ জলে একটি লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে দিন। অল্প কিছুক্ষণ রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

উপরোক্ত পদ্ধতিসমূহ ব্যবহার করলেই খুশকি পালিয়ে যাবে! যদি না পালায় তবে একজন ভালো চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখালে যথাযথ কারণ শনাক্ত করে সে অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করলেই খুশকি দূর হয়ে যাবে 🙂

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

কেমন লাগলো পোস্ট? আপনার মতামত জানান

  1. চুল কালো করার কোন ভাল টিপস থাকলে দিও তো…।। পেয়াজ দিলে তো চুল পড়া বন্ধ হয়, তাই না? আর ধন্যবাদ লেখটির জন্য…।।.

    • স্বাগতম! 🙂 হ্যাঁ পেয়াজ দিলে চুল পড়া বন্ধ হয়…পরবর্তী পোস্ট চুলের অন্যান্য সমস্যার প্রতিকার ও চুলকে স্বাস্থ্যজ্জল করার উপর থাকবে… আমি যা যা উপায় জানি এবং আরো কিছু জেনে সেখানে দিয়ে দিব 🙂

  2. চুল কালো করার কোন ভাল টিপস থাকলে দিও তো…।। পেয়াজ দিলে তো চুল পড়া বন্ধ হয়, তাই না? আর ধন্যবাদ লেখটির জন্য…।।.

  3. Pingback: মজবুত ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল চুল লাভের উপায় !

  4. Pingback: চুল পড়া বন্ধের ৬ উপায় !