1

খুশকি সমস্যাঃ খুশকির ১০ কারণ

বাতাসে হিম হিম ভাব, শুষ্ক আবহাওয়া, ঘন কুয়াশা…এ সবই শীতের আগমনী বার্তা আমাদের পৌঁছে দিয়ে যায়। পৌষ-মাঘ এ দু’মাস হচ্ছে শীতকাল। ইংরেজি ক্যালেন্ডারে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এ দু’মাসেই মূলত শীতটা জাঁকিয়ে বসে। আমাদের মত নাতিশীতোষ্ণ দেশের অধিবাসীদের জন্য শীত কিছুটা স্বস্তিরই – তীব্র রোদ নেই, ঘাম নেই। এসব অবশ্য ততক্ষণই যতক্ষণ না শীতের প্রবল আঘাত প্রাণহানি হয়ে ওঠে।

যাই হোক, শীতে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে দেখা দেয় নানারকম স্বাস্থ্য সমস্যা। এসকল সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে খুশকির সমস্যা। ছেলে – মেয়ে নির্বিশেষে সবাই এ সমস্যায় কম-বেশি ভুগে থাকে। শীতকালে তো এ সমস্যা মাঝে মাঝে প্রবল আকার ধারণ করে। তবে সব সমস্যার মতই এ সমস্যারও সমাধান আছে। কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ও বিধি-নিষেধ নিয়মিত মেনে চললে খুশকি অনেকখানিই দূর হয়, এমনকি টাটা-বাই বলে বিদায় জানিয়ে চলেও যায়! আজকে আমরা খুশকি কি কারণে হয় তা নিয়ে আলোচনা করব।

খুশকি ত্বকের সমস্যা। এটি যে শুধু মাথার ত্বকেই হয় তা নয়। মারাত্মক আকার ধারণ করলে এটি শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকেও দেখা দিতে পারে। যে সকল কারণে খুশকি হয় তা হল –

১। শুষ্ক ত্বকের কারণে খুশকি হয়ে থাকে। শীতে আবহাওয়ায় আর্দ্রতা কম থাকায় ত্বকের শুষ্কতা বৃদ্ধি পায়। বাইরের ঠান্ডা বাতাস ও ঘরের তুলনামূলক গরম বাতাসের ফলে তাপমাত্রার যে অসামাঞ্জস্যতা দেখা যায় সে কারণেও খুশকি হয়ে থাকে।

২। চুল যথেষ্ট পরিমাণে না আঁচড়ালেও খুশকি হয়ে থাকে। এর কারণ হচ্ছে মাথার ত্বকের চামড়ার ঝরে যাওয়ার প্রবণতা। চুল কম আঁচড়ালে মৃত চামড়াগুলো ঝরে পড়ে না ও খুশকির সৃষ্টি করে।

৩। যারা ঈস্ট এ এলার্জিক তাদের খুশকির প্রবণতা বেশি। সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি ও ঈস্ট কাউন্টারএক্ট করে ও খুশকি সৃষ্টি করে।

৪। পর্যাপ্ত পরিমাণে শ্যাম্পু না করলে মাথার ত্বক অপরিষ্কার হয় যা থেকে খুশকির উৎপত্তি হতে পারে।

৫। খাদ্যাভাসও খুশকির অন্যতম কারণ। পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি ও জিংক গ্রহণ না করলে খুশকি হয়ে থাকে। কিছু বিশেষ চর্বি জাতীয় খাদ্য অধিক গ্রহণ করে থাকলেও খুশকি হয়।

৬। ম্যালেসেজিয়া নামক এক ধরণে ফাঙ্গাসের কারণেও খুশকি হয়ে থাকে। এটি সকলের স্ক্যাল্পেই থাকে এবং কোন সমস্যার সৃষ্টি করে না। কিন্তু এটির পরিমাণ বেশি বেড়ে গেলে তা ত্বকের ক্ষরিত তেল শোষণ করে নেয়। যার ফলে স্ক্যাল্প অতিরিক্ত ত্বকীয় কোষ উৎপাদন করে থাকে। এ সকল অতিরিক্ত কোষ মৃত হলে স্ক্যাল্প ও চুলের তেলের সাথে মিশে খুশকির সৃষ্টি করে।

৭। মানসিক চাপও খুশকির একটি কারণ। যারা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকেন তাদের মধ্যে খুশকি প্রবণতা বেশি পরিলক্ষিত হয়।

৮। কিছু বিশেষ রোগ (যেমন- পারকিন্সন ডিসিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি) খুশকি প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া সেন্সিটিভ ত্বক ও ত্বকের কিছু সমস্যা (যেমন – সোরিয়াসিস, একযেমা ইত্যাদি) খুশকি সৃষ্টি করে। ওষুধ, চুল ও ত্বকের নানা দ্রব্যের রিএকশনের ফলেও খুশকি হয়। এছাড়া যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের খুশকি বেশি হয়ে থাকে।

৯। অনেকসময় পানি থেকেও খুশকি হয়। পানিতে ক্লোরিনের পরিমাণ বেশি হলে তা খুশকির কারণ হয়ে ওঠে। ক্লোরিন ত্বক শুষ্ক করে থাকে এর ফলেই খুশকি বৃদ্ধি পায়।

১০। কিছুদিন আগের একটি গবেষণায় পাওয়া যায় যে ১০.৬% মানুষ যাদের এইচ.আই.ভি আছে তাদের খুশকির সমস্যা বেশি হয়ে থাকে।

উপরোক্ত কারণগুলোর ফলেই মূলত খুশকি হয়ে থাকে। সচেতন হয়ে যদি যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া যায় তবে অনায়াসে খুশকি প্রতিরোধ করা যায়।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

দেবশ্রী মুখার্জী টুনটুনি
 

সাধারণ একটা মেয়ে, নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে চাই...:)