2

আত্মউন্নয়ন – ঘুমানোর পূর্বে যা যা করণীয় !

ঘুম আমাদের জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ।  তবে তা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা আমরা দৈনন্দিন কাজ কর্মের ভীড়ে উপলব্ধি করার সময়টুকুও পাইনা। ঘুমের গুরুত্ব বোঝা যায় তখন, যখন হাজারো কাজের ফাকে ঘুমানোর অবসরটুকুও মিলে না। ঘুমে দুই চোখ যেন আড়ষ্ট হয়ে আসতে চায়। ঐ মুহুর্তের ঘুম যেন রীতিমত অমৃত। 😀

এই লেখায় আমি তুলে ধরবো ঘুমানোর আগে আমাদের যা যা অবশ্য করণীয় আছে সেগুলো –

  • মানসিক প্রস্তুতি নিন – ঘুমানোর জন্যে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘুমানোর আগে আপনাকে মানসিক ভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে ঘুমানোর জন্যে। কাজের ফাকে, পড়ার ফাকে, বাসে একটুখানি ঘুম দেয়ার সময় ঘুম হয় বটে, তবে সেই ঘুম আর বাসায় শান্তির ঘুমের পার্থক্য নিশ্চ্যই আমরা উপলব্ধি করতে পারি। বাসায় মানসিক ভাবে ঘুমের জন্যে প্রস্তুতি বলতে সব কাজ বাদ দিয়ে, একাগ্রচিত্তে ঘুমের জন্যেই বিছানায় শোয়া। দিন-দুনিয়ার সব কিছু বাদ তখন…
  • মাথা থেকে যাবতীয় চিন্তাভাবনা ঝেড়ে ফেলুন ! – মাথায় চিন্তার ঝড় বইতে থাকলে ঘুম কোন রাস্তা দিয়ে পালাবে সেটা খুঁজেও বের করতে পারবেন না। ঘুমানোর আগে আগেই মাথায় যাবতীয় যত চিন্তা আছে সেগুলোকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।  এর জন্যে আপনি নিজস্ব ডায়েরি রাখতে পারেন। সেখানে আপনার সব চিন্তা-ভাবনা এক করে লিস্ট করে লিখে ফেলুন। আগামীকালকের করণীয় বিষয়গুলোও এনি-ডু মোবাইল অ্যাপস এর মাধ্যমে সাজিয়ে লিখে ফেলতে পারেন।  এর ফলে আপনার মাথায় যা যা ঘুরছে সেগুলোকে আপনি ঝেড়ে ফেলতে পারলেন। আর লিখে রাখার ফলে কোনটাই ভুলে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকলোনা।
  • ঘুমানোর জায়গা পরিষ্কার করে নিন – ঘুমানোর জায়গা যদি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না থাকে ঠিকমতো তাহলে সেটা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আর ঘুমানোর খাটে এসব ময়লা টয়লা বিরক্তির কারণও হতে পারে। তাই বিছানা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেয়া উচিত।
  • ঘর যথাসম্ভব অন্ধকার করে নিন – ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে না চাইলে শোবার ঘর যতটুকু পারা যায় অন্ধকার করে নিন। জানালায় পড়দা টেনে নিন। যদি এমন হয় যে, যেখানে আপনি ঘুমাচ্ছেন সেখানে জায়গা অন্ধকার করা সম্ভব না সেক্ষেত্রে একটা হাত মাথার কাছে এনে সেটা দিয়ে চোখে আলো আসা বন্ধ করতে পারেন।
  • হাতে কাছে কাথা রাখুন – শীতের দিনে ঘুমানোর সময়তো ল্যাপ-কম্বল নিশ্চয়ই সাথে রাখবেন নিঃসন্দেহে 😉 । গরম কালেও হাতের কাছে একটা পাতলা কাথা রাখতে পারেন। রাতে কখনো যদি ঠান্ডা পড়ে তখন সেটা ব্যবহার করতে পারবেন।
  • ঘরে পানি রাখুন – রাতে কোন দুঃস্বপ্নে দেখে ঘুম ভাংলে বা হঠাত কোন কারণে অস্থির লাগলে এক গ্লাস পানি খেয়ে ধীরে ধীরে লম্বা শ্বাস নিন আর ছাড়ুন। কিছুটা ভালো বোধ করতে পারেন এতে।
  • ঘুমাতে যাওয়ার দেড় দুই ঘণ্টা আগেই রাতের খাওয়া শেষ করুন – রাতের খাবার শেষ করেই ঘুমাতে যাওয়া অনেকেরই অভ্যাস। এটা শরীরের জন্যে অনেক ক্ষতিকর। সবসময়ই চেষ্টা করা উচিত ঘুমানোর প্রায় দেড়-দুই ঘন্টা পূর্বেই রাতের খাবারের ঝামেলা চুকিয়ে নেয়ার…
  • অ্যালার্ম দিন – সকালে কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে থাকলে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার জন্যে অ্যালার্ম দিন। মোবাইলের থেকে অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করা ভালো হবে।  মোবাইলে অ্যালার্ম দিলে সবাই ই  মাথার কাছে মোবাইল রাখে। মোবাইলের রেডিয়েশনের খারাপ প্রভাব সারারাত যাবত পরে।
  • মোবাইল মাথার থেকে দূরে রাখুন – রাতের বেলায় মোবাইল মাথার কাছে রাখলে রেডিয়েশনের প্রভাবে দেহের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। মেজাজ বিগড়ে যাওয়া অতি সাধারণ লক্ষণ। নূন্যতম ১৫-২০ সেন্টিমিটার দূরে মোবাইল রাখা উচিত।
  • সারাদিনের ভুলগুলোর জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করুন – দিনশেষে যখন ঘুমাতে যান, তখন কোন ব্যস্ততা থাকেনা। সারাদিনে কি কি ভুল কাজ, খারাপ কাজ করলেন সেগুলো ভাবুন। সেগুলোর জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করুন। পরবর্তীতে সেই খারাপ কাজের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সেই দিকে খেয়াল রাখার জন্যে মনস্থির করুন।
  • আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করুন – সারাদিনে মহান স্রষ্টার কাছ থেকে যত অনুগ্রহ পেয়েছেন তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করুন। যারা বেশি কৃতজ্ঞ মানসিকভাবে অন্যদের থেকে অনেক ভালো থাকেন। অমূলক ভয়, দুশ্চিন্তা করা, প্রয়োজনের বেশি খাবার গ্রহণ করা, মানসিক অবসাদ, নেশাজাতীয় দ্রব্যেরপ্রতি তাদের আকর্ষণ কম থাকে।  এ নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের একটি আর্টিকেল আছে।

ঘুমানোর পূর্বে কি কি করতে হবে তা নাহয় জানলেন, তো চলুন এবার জেনে নেয়া যাক ঘুম থেকে উঠার পর পর কি করণীয় আছে…

আপনি উপরের কোনগুলো ইতোপূর্বে কোনগুলো করতেন?

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়