4

যেভাবে নিবেন আপনার চশমার যত্ন…

চশমা

চশমা ব্যবহার করছি প্রায় চার বছর হয়ে এলো। এর মধ্যে চশমা নিয়ে কতশত মজার ঘটনা ঘটে গেছে ভাবলে হাসিই পায়। এতদিন ধরে ব্যবহার করছি এর মধ্যে চশমার যত্ন নেয়ার কথা কোনদিন মাথায়ই আসে নি ঠিকমতো। প্রথম প্রথম যখন চশমা নেই তখন বেশ খাতির যত্ন করতাম। সাবধানে রাখতাম, কিছুক্ষণ পরপর পরিষ্কার করতাম, চশমার বাক্সটা সাথেই রাখতাম। যখন চশমার প্রয়োজন পড়তে সাবধানে ঢুকিয়ে রাখতাম।

দিনে দিনে অভ্যাসটা বদলে গেছে। এখন এতো কিছুর ভিড়ে যে জিনিসটা আমাকে সুন্দর এই পৃথিবী পরিষ্কার দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে তা নিয়ে ভাবার সময় কই? ঘটনাটা আমার না, প্রায় সবারই যারা দীর্ঘদিন যাবত চশমা ব্যবহার করে আসছে। তাও যে চশমার কারণে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি তার জন্যে প্রতিদিন খানিকটা সময় দেয়া যেতেই পারে, আর যাই হোক চশমার দেখাশোনা করলে লাভটা আমাদেরই। চশমার যত্ন নেয়ার জন্যে ধুমধাম করে গাঁটের পয়সা খরচ করে কিছু করার প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন জীবনে চশমা নিয়ে খানিকটা সতর্কতাই চশমার যত্নের জন্যে যথেষ্ট।

চশমার ব্যবহারবিধি

১.যদিও হাতে গোনা দুই একজন ব্যবহারকারী ছাড়া কেউই চশমার বাক্স আর সাথে দেয়া কাপড়টা কাছে রাখেন না, তবুও চেষ্টা করা উচিৎ এগুলো সাথে রাখার জন্যে। এতে করে চশমায় ময়লা লাগলে তা পরিষ্কার করার কাপড়টা সাথেই পাওয়া যাচ্ছে এবং ময়লা লাগার সম্ভাবনা থাকলে কিংবা চশমা ব্যবহার করার দরকার না পড়লে সেটা নিশ্চিন্তে রেখে দেয়া যাচ্ছে।

২. চশমা খুলে ফেলার সময়ে দুই হাত দিয়ে ফ্রেম ধরে খুলতে হবে। এক হাত দিয়ে চশমা খুললে ফ্রেম বেঁকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। (বিশেষ করে যদি তা রিম-লেস হয়)

৩.দীর্ঘদিন চশমা ব্যবহার করার পরেও আমরা জানিনা সঠিকভাবে চশমা গুটানোর জন্যে চশমার কোন অংশ আগে বন্ধ করতে হয়। চশমা গুটানোর জন্যে আগে বাম অংশ নামিয়ে এরপর ডান অংশ নামাতে হবে। যদিও এর ব্যতিক্রম করলেও সাধারণত সমস্যা হয়না। তবুও চশমা যেভাবে গুটানোর জন্যে তৈরি করা সেভাবে গুটানোটাই ভালো।

৪.চশমা কোথাও রাখতে হলে চশমার লেন্স নিচের দিকে রাখা উচিৎ না। এতে ময়লা লাগা খুব স্বাভাবিক আর চশমায় দাগ ও পড়ে যেতে পারে।

৬.কাপড় পাল্টানোর সময় চশমা খুলে নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে, চশমা পড়া অবস্থায় কাপড় পড়তে গেলে ফ্রেম এ চাপ লেগে ফ্রেম বাঁকা হয়ে যেতে পারে। গ্লাস ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেয়া যায়না।

৭.সরাসরি সূর্যের আলোয় কিংবা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা স্থানে ( ফ্রিজও হতে পারে :-P) চশমা রাখা উচিৎ না।

৮.ঘুমানোর সময় অবশ্যই চশমা খুলে নিতে হবে। অনেকেরই বালিশের পাশে চশমা রাখার অভ্যাস থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে অভ্যাস পরিবর্তন করে সতর্ক হতে হবে। বালিশের পাশে চশমা রাখলে ঘুমন্ত অবস্থায় নিজের অজান্তেই চশমা ভেঙ্গে যেতে পারে বা বেঁকে যেতে পারে। তাই উঁচু কোন স্থানে রাখা উচিৎ।

৯.দীর্ঘদিন চশমা ব্যবহার করে থাকলে ইতোমধ্যেই কাছেই কোথাও রেখে হারিয়ে ফেলার অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। মাত্র চশমা খুলে রেখে পরবর্তী কিছু সময়ের ব্যবধানে সেটা কোথায় রাখা হয়েছে সেটা মনে করতে না পারাটা আমাদের অভজার্ভেশন এর অভাবে হয়ে থাকে। তাই বাসায় চশমা রেখে কোন কাজ করতে হলে সেটাকে সবসময় একটা নির্দিষ্ট স্থানে রাখা উচিৎ যাতে করে সবসময়ে একই জায়গা থেকে খুঁজে নেয়া যায়। তবে যদি এমন হয় যে চশমা চোখে দিয়েই চশমা খুঁজছেন সেক্ষেত্রে কিছু বলার নেই :-p । আমি নিজেই এমন বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি বেশ কয়েকবার।

১০.চশমার ব্যবহারকারী নন এমন কাউকে চশমা না দেয়াই ভালো।

১১.চশমা কেনার ক্ষেত্রে সামান্য কিছু টাকা বেশি দিয়ে হলেও ভালো কিছু কেনা উচিৎ। যেহেতু প্রতিদিনই কেনা হচ্ছেনা, অনেকদিন পর পর কেনা হবে সেহেতু দীর্ঘদিন ভালো সাপোর্ট পাওয়ার জন্যে ভালো লেন্স আর ভালো ফ্রেমের চশমা কেনা উচিৎ।

১২.দীর্ঘদিন ব্যবহারে চশমার লেন্সের আসল রঙ পরিবর্তিত হয়ে লালচে রঙ ধারণ করতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই নতুন লেন্স নিয়ে নেয়া উচিৎ।

১৩.আর্থিক সমস্যা না থাকলে একাধিক চশমা কিনে রাখা ভালো। অসতর্কতাবশত চশমা ভেঙ্গে গেলে বা কোন ক্ষতি হলে অন্তত অন্যটা ব্যবহার করে সাময়িক অন্ধত্ব ( 😉 ) থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

১৪.চশমায় যেন ঘাম না লাগে সেটা খেয়াল রাখতে হবে।

১৫.যতটুকু পারা যায় ধুলাবালি এড়িয়ে চলতে হবে।

১৬.চশমার লেন্স হাত দিয়ে ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে, কখনোই লেন্সে হাত দিয়ে চশমা খোলা উচিৎ না।

১৭.দুই-তিন মাস পরপর চশমার দোকানে নিয়ে গিয়ে চশমার স্ক্রুগুলো টাইট করিয়ে নিতে পারেন। চাইলে ঘরেও করা যায়, তবে অসাবধানতা বসত দাগ ফেলে দেয়া বা কিছু ভেঙ্গে ফেলা অস্বাভাবিক কিছুনা। চশমার দোকানে এর জন্যে আলাদা টাকা চাবেনা সাধারণত।

*কিছু পয়েন্ট হয়তো আরও দেয়া যেতে পারতো, যা হয়তো আমি খেয়াল করিনি। কারো কোন মতামত বা টিপস থাকলে সেটা সাদরে গৃহীত হবে।

চশমা পরিষ্কার করা

১.চশমায় ময়লা লাগলে হাতের কাছেই কোন কাপড় দিয়ে, তোয়ালে দিয়ে কিংবা নিজের পড়নের কাপড় দিয়েই আমরা পরিষ্কার করার চেষ্টা করি। এটা মোটেও ঠিক না, খসখস কাপড় হলে দাগ পড়ে যেতে পারে লেন্সে। কটন কাপড় ব্যবহার করতে হবে পরিষ্কার করার জন্যে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি চশমার সাথে দেয়া কাপড়টা সবসময় কাছে রাখা যায়। সেটা দিয়ে চশমা পরিষ্কার করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

২.মাঝে মাঝে হাল্কা গরম পানিতে চশমা ধুয়ে নেয়া যেতে পারে, বাসন-পেয়ালা মাজার তরল সাবানও ব্যবহার করতে পারেন চাইলে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি চশমা পরিষ্কার করার লিকুইড কিনে নিতে পারেন।

৩.চাইলে ঘরে থাকা ভিনেগারও ব্যবহার করতে পারেন। কয়েক ফোটা ভিনেগার নিয়ে চশমার লেন্সে ডলে পরিষ্কার করা যেতে পারে।

৪.যেকোনো সময় পানির কলের নিচে হালকা করে পানি চালু করে চশমা পরিষ্কার করা যেতে পারে

৫.কাগজ বা টিস্যু পেপার দিয়ে চশমার লেন্স পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকুন। অনেকেই টিস্যু কে নিরাপদ মনে করে থাকেন চশমা পরিষ্কার করার জন্যে। ধারণাটা ভুল, টিস্যু দিয়ে ঠিকভাবে পরিষ্কার করা যায়না। আর টিস্যু বা কাগজ ব্যবহার করলে দাগ পড়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।

শেষ কথা

উপরে যতটুকু পকর পকর করেছি তার কোনটাই একজন এক্সপার্ট হিসেবে করিনি, নিতান্তই একজন সাধারণ চশমা ব্যবহারকারী হিসেবে করেছি। ভুল ত্রুটি হতে পারে। সেক্ষেত্রে শুধরে দিতে পারেন চাইলে, আর যেকোনো মতামত সাদরে গৃহীত হবে।

আপনি কতদিন যাবত চশমা ব্যবহার করছেন? আপনি কি কি করেন চশমার যত্ন নেয়ার জন্যে? এই লেখা থেকে কি নতুন কিছু জানতে পারলেন?

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়