চাঁদের দেশে

মাথাটা আউলে গেছে কিংবা পাগল হয়ে গেছে, এসব প্রতিদিনই শুনতে হয় অলকের। তবু তারার আলো আর ঐ নীল সীমানা দেখতে ওর বেশ লাগে। সবাই এসে মাথা দিতেই চলে যায় গভীর ঘুমের অচেনা রাজ্যে। অলক জেগে থাকে। ওর ধারণা একদিন ও ঐ চাঁদের দেশে পাড়ি জমাবে। চেনা এই মানুষগুলো ছেড়ে চলে যাবে বহুদূর। ভাবনাগুলোতে হারিয়ে গেলে ঘুমটা চলে আসে। মধরাতে শব্দে ঘুমের ব্যাঘাত হলেও তা খুব একটা সুবিধা করতে পারে না। সবাই ঘুমিয়ে পড়লে নিজের টাকাগুলো একবার দেখে নেয় সে। 
 
এখানে বলা যায় না যে কেউ আমার টাকা নেবে না। প্রতিদিন পাবার সম্ভাবনাও কম। তবুও দেখে নিয়ে স্বস্তি পায় অলক। চাঁদের দেশে যেতে অনেক টাকার দরকার পড়বে ওর। কবে কিভাবে এখানে আসা তা ঠিক মনে করতে পারে না। প্রতিদিন ভাবে আজ চলেই যাবে…অনেক দূরে। তবে আর যাওয়া হয় না। কিসের যেন একটা ভয় তাড়া করে ফেরে। যেতে দেয় না। নিজের অজান্তেই সকাল থেকে দুপুর, দুপুর থেকে বিকেল, বিকেল গড়িয়ে রাত পার করে দেয় এখানে। এভাবেই রাতে ভাবতে থাকে নানান কথা। 
 
সারাদিন ছুটে চলার বাঁধা পেড়িয়ে হারিয়ে যায় আপন জগতে। অনেক প্রশ্ন ওর মনে। প্রশ্নের উত্তর দেবার কেউ নেই। ঘুম এসেও যেন আসে না। তাই তো বাকিরা বলে পাগল। বলে এসব ভেবে কি হবে। অলক জানে না। জানতেও চায় না। চোখের পলকে চলে যায় নতুন সীমানায়। সেখানেও কি উত্তর মেলে?
 
“আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে,
বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে৷
পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি,
দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি৷
 
চিকচিক করে বালি, কোথা নাই কাদা,
এক ধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা৷
কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক,
রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক৷’
 
“মা, খুব খিদে পেয়েছে মা। মা……মা। কোথায় গেলে? শুনছো? মা………আমার খিদে পেয়েছে মা।”
রোদের আলো চোখে পরতেই ক্যামন অসহ্য লাগে। আর মার কাছে থাকা যাবে না। প্লাটফর্মে হাজারো মানুষের ভীর মায়ের স্বপ্নে বিভোর ছেলেটিকে ঘুমিয়ে থাকতে দেবে কি?? একটু পরেই ট্রেন আসবে।। 
স্টেশন
ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

অচ্যুত সাহা জয়
 

"কখনো কোনো পাগলকে সাঁকো নাড়ানোর কথা বলতে হয় না। আমরা বলি না। আপনি বলেছেন। এর দায়দায়িত্ব কিন্তু আর আমার না - আপনার!"

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়