চোখের যত্নে যা যা করা প্রয়োজন !

চোখ আমাদের দেহের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি অঙ্গ। আর এই চোখেই যদি দেখা দেয় নানা সমস্যা তাহলে আর ভোগান্তির অন্ত থাকেনা। আর বর্তমানে এমন একটা পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে যে রাস্তায় বের হলে অনেক ছেলেমেয়েকেই দেখা যায় চশমা পড়তে। চশমা ব্যবহারকারীর সংখ্যা বোধকরি এখন অন্য যেকোনো সময়ের থেকেই অনেক বেশি। অর্থাৎ এটা স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায় বর্তমানে মানুষ চোখের যত্নে ততোটা আগ্রহী নয়। যার ফলে দেখা দিচ্ছে চোখের নানা সমস্যা।

চোখের সমস্যার পিছনে রয়েছে বেশ অনেকগুলো কারণ। দিনের বেশিরভাগ সময়ই টিভি, কম্পিউটারের সামনে থাকা, ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার না খাওয়া, সর্বোপরি চোখের যত্ন কিভাবে নিতে হয় সে সম্পর্কে অজ্ঞতাই চোখের সমস্যার প্রধাণ কারণ। 

চশমা নেওয়ার আগ পর্যন্ত আমি তেমন একটা যত্নশীল ছিলাম না চোখের প্রতি। কিন্তু এখন অনেকটা বাধ্য হয়েই কাজটা করতে হয়। আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই যা শিখেছি তা ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরছি –

  • বার বার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন – দিনে যখনই সময় পাবেন তখনই চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে নিবেন। এতে চোখ পরিষ্কার থাকবে। পাচ-ওয়াক্ত নামাযী হলে অবশ্য এমনিতেই দিনে ৫x৩=১৫ বার মুখ ধোয়া হয়ে যাবে। তখন আর এতবার মুখ ধোয়ার ব্যাপারে ভাবার দরকার নেই।
  • প্রতিদিন অন্তত একবেলা মাছ খান – একসময় মাছে ভাতে বাঙ্গালি কথাটা খুব প্রচলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে মাছের যা দাম তাতে প্রচলিত সেই কথাটা শুধুই একটা “অতীত স্মৃতি” হিসেবে থেকে যাবে কিছদিন পর। মাছ আপনার চোখের জন্যে দারুণ উপকারী। বিশেষ করে ছোট মাছ। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। যা আমাদের চোখের জ্যোতি ঠিক রাখতে সহায়তা করে।
  • প্রতিদিন ডিম খাওয়ার চেষ্টা করুন -“ডিম খেলে চোখ ভালো থাকে?” – মনের মধ্যে অনেকটা এমন প্রশ্ন নিয়েই হয়তো এই পয়েন্ট টা পড়তে শুরু করেছেন। কিন্তু অবাক করার মতো হলেও কথাটা সত্যি। ডিম চোখের জন্যে অনেক উপকারী। ডিমের মধ্যে রয়েছে অ্যাণ্টিঅক্সিডেন্ট লুটিন ও যেযান্থিন যা চোখের বিভিন্ন সমস্যা থেকে চোখকে রক্ষা করে
  • প্রচুর সবজি আর ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন – শাকসবজি আর ফল চোখের জন্যে অনেক উপকারী এবং তা গবেষণায় প্রমাণিত । আর তাই আমি খাবারে ভাতের চেয়ে তরকারি-সবজিই বেশি খাই। আপনিও এই অভ্যাসটা করে নিতে পারেন। বিশেষ করে তাজা শাকসবজি আর ফল আপনার চোখের হারানো জ্যোতি ফিরিয়ে আনতে পারে। ফলে আর শাকসবজিতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, বিটা ক্যারোটিন, ফ্যাটি এসিড, জিঙ্ক, লুটিন, যেযান্থিন ইত্যাদি।
  • চোখের উপর অত্যাচার করবেন না- দীর্ঘ সময় একটানা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকা বা চোখে পীড়া দেয় এমন কাজ না করাই উত্তম। কিছুক্ষণ পর পর অন্তত ১৫-২০ মিটার দূরের কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকুন, প্রয়োজনে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধও করে রাখতে পারেন। এতে একটানা চোখের উপর অত্যাচারের মাঝে মাঝে কিছুটা হলেও উপকার হবে। আর চোখ ভালো থাকার জন্যে অবশ্যই আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম নিশ্চিত করতে হবে।
  • চোখে লেন্স পড়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন – যদি চোখে লেন্স পড়ার অভ্যাস থেকে থাকে তাহলে এক্ষেত্রে আপনাকে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। একটুখানি অসাবধানতা আপনার চোখের অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলতে পারে। চেষ্টা করবেন যাতে খুব বেশি সময় লেন্স পড়ে থাকতে নাহয়। লেন্স এর সলিউশন তিন মাস পর পর চেইঞ্জ করতে হবে। অনেকেই সলিউশন শেষ না হওয়ায় মাসের পর মাস ব্যবহার করতে থাকেন, যা কিনা চোখের জন্যে ক্ষতিকর। সলিউশনের মুখ খোলার তিন মাস পর সেটা ফেলে দিবেন ।

লেখাটা অসম্পূর্ণ মনে হচ্ছে? আপনার মতে আর কি কি করা যেতে পারে চোখের যত্নে? কমেন্টে জানান আমাদেরকে। 🙂

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

কেমন লাগলো পোস্ট? আপনার মতামত জানান