2

একজন ছেলে হিসেবে বাসে যা করণীয়

আজকে কলেজ থেকে বাসে করে বাসায় ফিরছি। সাইন্সল্যাব থেকে গাড়ি ভরে লোক উঠলো, সাথে একজন পুলিশও। মহিলাদের জন্যে সংরক্ষিত সিটে বসে পড়লেন তিনি। কিছুক্ষণ পরই এক আন্টি তার মেয়েকে নিয়ে বাসে উঠলো, আর জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। পুলিশের লোকটাকে দেখলাম নির্বিকার, উনি বসেই আছেন। দাঁড়িয়ে থাকা লোকদের মধ্যে কয়েকজন লোক উনাকে বললো জায়গাটা ছেড়ে দিয়ে মহিলাদের বসতে দিতে। কিন্তু উনি জায়গা ছাড়তে নারায। বেশ অবাক হলাম আমি, পাশে থাকা বন্ধুটিকে জিজ্ঞেস করলাম তার দাঁড়াতে কোন অসুবিধা আছে কিনা ! সে জানালো কোন অসুবিধা নেই। দাঁড়িয়ে থাকা আপুকে আর আন্টিকে ডেকে বসতে দিলাম আর পুলিশের সেই লোকটার প্রতি ঘৃণায় নাক সিটকালাম। উল্লেখ্য পুলিশদের ছোট করে দেখানো আমার উদ্দেশ্য না।

একজন ছেলে হিসেবে বাসে আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে, যেগুলো হয়তো আমরা আমাদের পাঠ্যপুস্তকে পাবোনা। এগুলো নিতান্তই আমাদের চিন্তা-চেতনার ফলাফল। উপলব্ধি করতে হয় কিছু বিষয়, এটাও তার মধ্যে একটি হতে পারে। এ ধরণের লেখা হয়তো পাঠক আগে কখনো পড়েন নি, ঠিক একইভাবে এ ধরণের লেখা আগে কখনো লিখিওনি। কিন্তু আজকে ঘটে যাওয়া ঘটনার কারণে মনে হলো বিষয়টা নিয়ে লেখা যায়। সবাই নাহোক, অন্তত একজন মানুষের মনেও যদি কোন উপলব্ধি করাতে পারি আমি তাতেই খুশি। এটি আত্মউন্নয়ন পর্বের পঞ্চম আর্টিকেল।

একজন ছেলে হিসেবে বাসে যা করণীয়ঃ

টিকেট সংগ্রহ করে ওঠা

যেসব বাসের কাউন্টার আছে, সেসব বাসে টিকেট সংগ্রহ করে এরপরই ওঠা উচিৎ।  অনেককেই দেখা যায় ছাত্র হওয়ার সুবাদে বিনা টিকেটেই বাসে উঠে পড়ে কিংবা নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক কম ভাড়া দেয়। কি দরকার এর? কয় টাকাই বা আর ভাড়া? কাউন্টার বাসগুলোতে খানিকটা কম রাখলেও লোকাল বা অন্য কাউন্টার ছাড়া বাসগুলোতে হাফ ভাড়া রাখে ছাত্রদের জন্যে। আমরা একটু কষ্ট করে নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে দিলেই পারি। যারা এসবে অভ্যস্ত তারা হয়তো মনে মনে বলছেন “ভাড়া কি তুই দিবি?”। না আমি ভাড়া দিবোনা 😛 । একবার ভাবুন, বাসের মালিক যদি আপনার বাবা কিংবা স্বয়ং আপনি নিজেই হতেন, তখন যদি কেউ নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া দিতো কিংবা বিনা টিকেটেই উঠে পড়তো তখন আপনার কেমন লাগতো? একটু ভাবুনতো !

হয়তোবা ওই বাসের ভাড়া দিয়ে কারো সংসার চলে, কারো ছেলে-মেয়ে স্কুলে যেতে পারে, তিনবেলা দুমুঠো ভাত খেতে পারে ! কিন্তু আপনি ভাড়া না দিয়ে তাদের পেটেই লাথি মারছেন হয়তো ! তা কি উচিৎ হচ্ছে? নিজেকেই প্রশ্ন করুন। উত্তরটা খুজে নিয়ে সে অনুযায়ী চলুন।

বয়স্কদের সিট ছেড়ে দেয়া

আমাদের ব্লগের পাঠক হিসেবে ধরেই নিচ্ছি আপনি তরুণ কিংবা মধ্যবয়স্ক। হয়তো আয়েশ করে বসে আছেন বাসে আর এমন সময় বয়স্ক কোন বৃদ্ধা মহিলা কিংবা কোন বৃদ্ধ উঠলেন। অনেক দূরের পথ যেতে হবে আপনাকে, এ অবস্থায় যদি সিট ছেড়ে দেন তাদেরকে তাহলে আপনার অনেক কষ্ট হয়ে যাবে হয়তো। এই ভেবে যদি বসেই থাকেন তাহলে কি বিষয়টা ঠিক হচ্ছে? ঐ বয়স্ক মানুষের স্থানে নিজের দাদা-দাদী, নানা-নানীকে কিংবা নিজের বাবা-মা হলে কি আপনি পারতেন ওভাবে বসে থাকতে? নিশ্চয়ই সিট ছেড়ে দিতেন। একটু ভাবুন আপনি যথেষ্ট শক্ত-সামর্থ মানুষ। আপনি একটু কষ্ট টষ্ট করে হলেও কোনভাবে পথটা কাটিয়ে দিতে পারবেন। কিন্তু ঐ বুড়ো মানুষগুলোর কি সে ক্ষমতা আছে? তারা চাইলেও পারবেননা। তাই নিতান্তই মানবতার খাতিরে বয়স্ক কোন মানুষ দেখলেই তাদেরকে নিজের সিটটি ছেড়ে দিন। হয়তো বাসে আপনার বয়েসই কোন মানুষ কিংবা ছোট্ট কোন শিশু আপনার থেকে এই বিষয়টি শিখে নিবে ! হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আপনি বুড়ো হলে আপনাকেও এমনিভাবে কেউ তার সিটটি ছেড়ে দিবে ! সৃষ্টিকর্তা কারো প্রতিই অবিচার করেন না। যেমন কর্ম তেমন ফল 🙂

মহিলাদের সিট এ না বসা এবং সিট ছেড়ে দেয়া

মেয়েদের সম্মান

প্রায় সব বাসেই মহিলাদের জন্যে এবং প্রতিবন্ধীদের জন্যে নির্ধারিত কিছু সিট থাকে। সেগুলোর আবশ্যকতা এবং অনাবশ্যকতা নিয়ে অনেকেই হয়তো নিজের মনের মধ্যে ইতোমধ্যেই অনেকবার অনেক যুক্তি তর্কে মেতেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত যাবনা, শুধু এটুকু জানুন, যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত কারণ আছে এই সিটগুলো নির্ধারিত করার পেছনে। বাসে সিট খালি থাকলে পারতপক্ষে মহিলাদের সিটে বসবেন না। তবে বাসে সিট খালি না থাকলে আর কোন মহিলা দাঁড়িয়ে না থাকলে সেক্ষেত্রে পাশের সিটে বসা কোন মহিলার অনুমতি নিয়ে বসতে পারেন, অনুমতি নেয়ার কারণ হয়তোবা আপনার বসাতে তার কোন আপত্তি বা অসুবিধা থাকতে পারে। আর যদি বাসে মহিলা সিট ছাড়া অন্য সাধারণ সিটে বসেন আর কোন মহিলা বা আপুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন সেক্ষেত্রে যদি সম্ভব হয় নিজের সিটটি ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন। দেশে যেমন ভালো মানুষ আছে, ঠিক তেমনই লুইচ্চা প্রকৃতির মানুষ ও আছে। তারা দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েদের গায়ে ইচ্ছা করে ধাক্কা দেয়, গায়ে হাত দেয়। মোটকথা নোংরামি শুরু করে। কিন্তু যদি আপনি অনুগ্রহ করে তাদেরকে সিটটি ছেড়ে দেন হয়তোবা তারা এসব নোংরামি থেকে বেঁচে যাবে। এমনও কোনদিন হতে পারে যে আপনি বাসে কোন মহিলাকে সিট ছেড়ে দিয়েছেন সেদিন আপনার মা আপনাকে জানালো যে “জানিস, আজকে বাসে অনেক কষ্ট হচ্ছিলো দাঁড়াতে, তোর বয়েসি একটা ছেলে নিজের সিটটি ছেড়ে দিলো বলে শান্তিতে আসতে পারলাম

নোংরামি করা থেকে বিরত থাকুন

বাসে উঠলে প্রায়ই এমন কিছু দেখা যায়। বিশেষ করে একই স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অন্য কেউ যারা দল বেধে উঠে তাদের মধ্যেই এই প্রবণতা বেশি। বাসে মধ্যে মেয়েদের  টিজ করা, উচ্চস্বরে কথাবার্তা বলে বাসে থাকা অন্যান্য লোকদের বিরক্ত করা, ছোটখাটো কারণেই কারো সাথে মারামারি বাধিয়ে দেয়ার মতো নোংরামি থেকে দূরে থাকা উচিৎ। যখন কেউ কোন স্কুল-কলেজের ড্রেসে বাসে উঠে এভাবে নোংরামি করে তখন কিন্তু তার চেয়ে তার স্কুল-কলেজের বদনাম বেশি হয়। সবাই বলবে উমুক কলেজের,উমুক স্কুলের ছেলেরা/মেয়েরা খারাপ। এক্ষেত্রে মেয়েরা বলছি এই কারণে যে মেয়েরাও পিছিয়ে নেই, দল বেধে উঠলে তারাও অনেক সময় ছেলেদের টিজ করে, জোড়ে জোড়ে কথাবার্তা বলে সবাইকে বিরক্ত করে। কিন্তু এমনটা করা মোটেও উচিৎ না।

বদলে যাও বদলে দাও। 🙂

বদলে যাও বদলে দাও

আপনার অভিজ্ঞতা জানান আমাদেরকে, আপনি বাসে কি করেন বা সবার কি করা উচিৎ তাই তুলে ধরতে পারেন কমেন্টে। 🙂

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়