7

টরেন্ট কিভাবে কাজ করে এবং এর প্রয়োজনীয়তা কি?

ডাউনলোড

টরেন্ট এর অনন্য সুযোগ-সুবিধার দরুন বর্তমানে ফাইল শেয়ারিং এর অন্যতম বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম। ২০০১ এ পাইথন প্রোগ্রামার ব্র্যাম কোহেন বিট-টরেন্ট এর ধারণার উদ্ভব ঘটান। অতঃপর তিনি ২০০১ এ বিটটরেন্ট এর সর্বপ্রথম সকলের জন্যে ব্যবহার যোগ্য ভার্শন উন্মুক্ত করেন। যদিও তা রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে যায়নি। আসলে তখন অনেকেই এর গুরুত্বটা বুঝে উঠতে পারেনি, পরবর্তীতে ২০০৪ এর নভেম্বর থেকে হঠাতই জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। ২০০৫ এ সেই জনপ্রিয়তার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। ২০০৯ এর একটি জরিপ এর মতে ফেইসবুক এবং ইউটিউব এর ব্যবহারকারী সংখ্যার যোগফল হবে সমগ্র বিশ্বে টরেন্ট ব্যবহারকারীর সংখ্যার সমান।

টরেন্ট কিভাবে কাজ করে তা নিয়ে ছোট-খাট একটা ধারণা দেয়া হবে। টেকনিকাল টার্মগুলো এড়িয়ে রূপক উদাহরণের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করবো, যাতে নন-টেকি সাধারণ পাঠকও বুঝতে পারেন।

টরেন্ট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কি?

পছন্দের জিনিসগুলো চাইলে যেকেউ নেট থেকেই খুঁজে ডাউনলোড করে নিতে পারে। ধরা যাক পৃথিবীতে কোথাও এলিয়েন এর আগমন হয়েছে। আর কেউ একজন তার সাক্ষাৎকার নিয়ে তা ভিডিও আকারে কোন সার্ভারে আপলোড করেছে যাতে যেকেউ সহজেই সেটা ডাউনলোড করে দেখে নিতে পারে। যেহেতু এটা একটা অতি আশ্চর্যজনক ঘটনা সেহেতু সারা বিশ্বেই সেই ভিডিও ডাউনলোড করে দেখার জন্যে তোলপাড় শুরু হয়ে যাবে।

প্রায় সব দেশেই এই খবর ছড়ানোর সাথে সাথে কোটি কোটি মানুষ একই সাথে ভিডিও ডাউনলোডের চেষ্টা করবে। ফলাফল হিসেবে দেখা যাবে সার্ভার ডাউন হয়ে গেছে। এর ফলে এতোশতো আগ্রহী মানুষ তারা সেই মুহূর্তে দেখার আশা করে থাকলেও দেখতে পারছেনা যতক্ষণ না পর্যন্ত অন্য কোন সার্ভারে অন্য কেউ আপলোড করে দিচ্ছে, আর সেখানেও যে আগের সার্ভারের মতো অনর্থ ঘটবেনা সেটা কে বলবে?

অর্থাৎ স্বাভাবিক ভাবে আমরা যেভাবে কোন কিছু ডাউনলোড করি সেভাবে একই সাথে অনেক মানুষ সেই জিনিস ডাউনলোড করতে গেলে সার্ভার স্লো কিংবা ডাউন হয়ে যেতে পারে। তাই এটা বেশ বড় একটা ঝামেলা। এই ঝামেলাকে এড়ানোর জন্যেই ব্র্যাম কোহেন তার যুগান্তকারী আবিষ্কারটি করেন – বিটটরেন্ট।

অতিরিক্ত মানুষের চাপে সার্ভার ডাউন হয়ে যাওয়া থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম বিটটরেন্ট। এই পিটুপি (পিয়ার টু পিয়ার) ফাইল শেয়ারিং মাধ্যমে স্বাভাবিক মাধ্যমের ঠিক উল্টোটা ঘটে। অর্থাৎ যত বেশি মানুষ এক সাথে কোন ফাইল ডাউনলোড করতে চাইবে টরেন্ট এর মাধ্যমে ততো বেশি স্পিড পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। কিভাবে? সেটা নিচের প্যারা পড়ুন।

টরেন্ট কিভাবে কাজ করে?

ধরা যাক আগের উদাহরণে যে এলিয়েনের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছিলো, সেটি এবার কোন সার্ভারে না রেখে টরেন্টের মাধ্যমে শেয়ার করা হল। এবার আগ্রহী সবাই ফাইল ডাউনলোড না করে টরেন্ট ডাউনলোড করলো। টরেন্টের মধ্যে বিভিন্ন তথ্য থাকবে এবং একটি ট্র্যাকার এই টরেন্ট ডাউনলোডকারীদেরকে একে অপরকে খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। ভয় নেই, আপনাকে কিছুই করতে হবে, টরেন্ট ডাউনলোডের সফটওয়্যার নিজে থেকেই এগুলো করে নিবে।

টরেন্ট কিভাবে কাজ করে

সাধারণ ডাউনলোডিং আর টরেন্ট ডাউনলোডিং এর পার্থক্য

ধরা যাক সবাই টরেন্ট ফাইলটি ডাউনলোড করছে যাতে এলিয়েনের সাক্ষাতকারের ফাইলটি সম্পর্কে তথ্য আছে। এখন ফাইলটা বিভিন্ন ছোট ছোট অংশে ভাগ হয়ে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর কাছে যাবে এবং যারা ডাউনলোড করছে তাদের একজনের কাছ থেকেও আরেকজনের কাছে যাবে। বিষয়টাকে আরেকটু পরিষ্কার করা যাক। রহিম এলিয়েনের ভিডিওটি টরেন্ট আকারে আপলোড করলো। করিম, মফিজ, হালুয়া, কালুয়া এরা সবাই সেই টরেন্ট ফাইল ডাউনলোড করলো। এবার ট্র্যাকার এদেরকে এই ফাইলের ডাউনলোডকারী হিসেবে চিহ্নিত করে রাখবে এবং একে অপরকে খুজে পেতে সহায়তা করবে। যেহেতু রহিম টরেন্ট আপলোড করছে সেহেতু মূল সাক্ষাৎকারের ফাইলটা তার কাছেই আছে। তাই অন্যরা ডাউনলোড করা শুরু করলে ফাইল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ হিসেবে ডাউনলোডকারীদের কাছে যাবে। ধরা যাক, ফাইলের চারটা অংশ ক খ গ ঘ। এর মধ্যে রহিমের কাছ থেকে করিম পেলো ক, মফিজ পেলো খ, হালুয়া পেলো গ আর কালুয়া পেলো ঘ। প্রত্যেকের তিনটি করে অংশ আরো দরকার ফাইল সম্পূর্ণ করতে। এবার টরেন্ট ডাউনোলোডিং প্রোগ্রাম গুলো পরবর্তী ফাইলের জন্যে সরাসরি রহিমের কাছে ফাইলের অংশ চাবে না, যারা ডাউনলোড করছে তাদের যার কাছে যে অংশ আছে তাদের কাছে থেকে নিবে। এভাবে প্রতিটা ডাউনলোডকারীই ফাইলের উৎস হয়ে উঠছেন। তাই যত বেশি ডাউনলোডকারী তত বেশি উৎস আর ততো বেশি স্পিড।

টরেন্ট কাজ করে একটা টরেন্ট ডাউনলোডিং প্রোগ্রাম, টরেন্ট ট্র্যাকার এবং একটি বৈধ টরেন্ট ফাইলের মাধ্যমে। মানে টরেন্ট ডাউনলোড করার জন্যে আপনার কাছে ইউটরেন্ট কিংবা ইউটরেন্টের বিকল্প কোন সফটওয়্যার থাকতে হবে যা আপনাকে টরেন্ট এর মাধ্যমে ফাইল ডাউনলোড করে দিবে। আর বিভিন্ন টরেন্ট শেয়ারিং ওয়েবসাইট থেকে আপনাকে ছোট্ট একটা টরেন্ট ফাইল নামাতে হবে যাতে টরেন্ট এর সব তথ্য থাকবে।

শেষ কথা

চেয়েছিলাম সহজ করে লিখতে কিন্তু লেখা শেষে বুঝলাম যথেষ্ট ঘাপলা পাকিয়ে ফেলেছি 😉 । সহজ করে লিখতে গিয়ে আরো কঠিন করে তুলেছি বিষয়টাকে। কারো যদি বুঝতে অসুবিধা হয় নিঃসন্দেহে বিনা দ্বিধায় কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

আপনার কি মনে পড়ে সর্বপ্রথম আপনি টরেন্টে কি ডাউনলোড করেছিলেন? কমেন্টে জানাতে পারেন।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়