তবু তপু

চিলেকোঠার আড়ালে হাজারো স্বপ্নের ছায়া, কখনো নিভৃতে তার সাথেই দেখা। আবার নিজের হাতেই তাকে মেরে ফেলা। অপমৃত্যুর নামে সব ভুলে থাকা। এসব ভেবে কিছু হবে না তপু জানে। তবু অর্থহীন শব্দ নিয়ে নিজের মাঝে খেলা, একবার করে প্রতিনিয়ত নিজের সাথে প্রতারণা। সব ফেলে চলে জেতে ইচ্ছে করে, তবু জেতে পারে না। আজ মনটা খুব বেশি ছটফট করে ওঠে।

তপু

একা নৌকায় থেকে মাঝিকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। মাঝ নদীর নীরবতা শব্দগুলোকে আর ফিরতে দিলো না। তবুও চোখ বন্ধ করে তার অপেক্ষা। অন্ধকারে কার যেন ছায়া। চেনার আগেই চোখ খোলা। এভাবেই নিজের সাথে খেলা, প্রতি মুহূর্তে মিছে প্রতারণা। অনেকদিন পর তপু খোলা আকাশের নিচে, বাড়ি থেকে দূরে। ফেরার কোনো তাড়া নেই। কেউ তার অপেক্ষাতেও নেই। বাবার সাথে শেষ কবে দেখা হয়েছে তার হিসাব আর সে করে না। মেইল এর উত্তর দেবারও অভিপ্রায় নেই। এখন আর আসেও না। মাস শেষে টাকা চলে আসে, তাতেই যেন দায়ের ইতি। এতে আর কোনো ক্ষোভ নেই। বলতে গেলে কিছু করারও নেই। চেনা মানুষেরা মাঝে-সাঝে আসে, তাদেরও ফেরার তাড়া। একা বাড়িতে শুধুই শব্দের দেখা। মায়ের কথা মনে পড়ে আর তার মন কাঁদে না। নিজের মাঝে অন্যরকম ভালো লাগা। তার তো কোনো দোষ নেই। একা ফেলে যাবার তাই আর প্রশ্নও নেই। সময়ের কাছে তপুর অনেক দাবি। তবু আজ মাঝ নদীতে শুধুই একাকী। আর ক্লাসে যেতে ভালো লাগে না তার। রসায়ন পড়ার ইচ্ছেটাও মাটি। কেনো যে ভর্তি হল তা সে জানে না, সিট টাই নষ্ট। অন্য কেউ হলে অনেক গর্বিত হত। তপুর গর্ব হয় না।

তপু বিশ্বাস করতে পারছে না। তার ক্লাসে পড়ে তা চিনতে পেরেছে। তবে বাসার সামনে এভাবে অপেক্ষা করবে তা কখনো ভাবেনি। ঘুমিয়ে পড়েছে। ডাকবে কিনা বুঝতে পারছে না। হয়তো কোনো দরকারে এসেছে। অনেক ভালো লাগলে মনে হয় কিছু বলার থাকে না। তপুর কিছু বলার নেই। তাকিয়ে আছে মেয়েটির দিকে। দীপা…হ্যাঁ নামটা ঠিক মনে আছে। সেদিনও কথা বলতে চেয়েছিল। তপু বলেনি। বলার কিছু ছিল না।

 

তুমি এসেছ?’

‘……’

‘আমি সেই দুপুরে এসেছি। তুমি নেই দেখে বসে আছি। ক্লাসে আসো না কেন? কথা বলতে চেয়েছিলাম দেখে? আর বলবো না। কিছু খেয়েছ? কখন বেরিয়েছ? মন খারাপ তোমার?’

তপু আর কিছু বলতে না দিয়ে হাত ধরে সিঁড়ি থেকে ওঠালো।

 

রাতের শহর অনেক সুন্দর। সেই শহরে তপু দীপার হাত ধরে হাঁটছে। নীরবতার মাঝেও যেন অনেক অনেক কথা, সেই সাথে তপুর সময় ছেড়ে দেয়া। মাঝপথে দু’জনে এসে বসলো। দীপা তপুর কাঁধে মাথা রাখল। তপুর মন আর ছটফট করছে না। সময়ের প্রতি আর দাবিও নেই। রাতেই একটা মেইল করবে, টাকা আর পাঠাতে হবে না।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

অচ্যুত সাহা জয়
 

"কখনো কোনো পাগলকে সাঁকো নাড়ানোর কথা বলতে হয় না। আমরা বলি না। আপনি বলেছেন। এর দায়দায়িত্ব কিন্তু আর আমার না - আপনার!"

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়