পদ্মা ভ্রমণ

পদ্মা নদী, বাংলাদেশের প্রধান একটা নদী। এ নদী নিয়ে আছে নানা গল্প, আছে অনেক কাহিনী। বাংলাদেশের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষায় বাংলা প্রথম পত্রে মানিক বন্দোপাধ্যায়ের রচিত “পদ্মানদীর মাঝি” উপন্যাসটিও অন্তর্ভুক্ত। এক সময় এই নদী ছিলো অত্যন্ত তেজস্বিনী, অনেক মানুষকে করেছে নিঃস্ব; কেড়ে নিয়েছে তাদের ভিটে-বাড়ি সবকিছু। পদ্মার প্রবল ছোবলে প্রাণ হারিয়েছে বহু মানুষ। তখন নদীভাঙ্গনে অনেক দক্ষ ছিলো পদ্মা। আগের দিনের মুরুব্বীরা বলতেন পদ্মা নদীর বিয়ে না হওয়াতে পদ্মা এত তেজস্বিনী ছিলো।

পদ্মা বাংলাদেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী। এর দৈর্ঘ্য ৩৬৬ কিঃমিঃ। হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন গঙ্গা নদীর প্রধান শাখা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় (মানাকোসা ও দুর্লভপুর ইউনিয়ন) প্রবেশ করে, এখান থেকে নদীটি পদ্মা নাম ধারণ করে। গঙ্গার অন্য শাখাটি ভগীরতি নামে ভারতে হুগলীর দিকে প্রবাহিত হয়। উৎপত্তিস্থল থেকে ২২০০ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দে যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়ে মিলিত প্রবাহ পদ্মা নামে আরো পূর্ব দিকে চাঁদপুর জেলায় মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। সবশেষে পদ্মা-মেঘনার মিলিত প্রবাহ মেঘনা নাম ধারণ করে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়।

কালের স্রোতে পদ্মার সেই তেজও হারিয়ে গিয়েছে বলা যায়। সেই আগের মত স্রোত এখন আর নেই পদ্মায়। পদ্মার পাড়ে দাঁড়ালে যেন মনে হয় সাগর, কোনো কিনারা দেখা যায় না; কিন্তু নদীর মাঝে নানা জায়গায় জেগে উঠেছে বহু চর। নদীর গভীরতাও কমে গেছে, সেই সাথে এর রাগও। নদীভ্রমণের জন্য পদ্মা একটি উত্তম পছন্দ। কারণ এর পারিপার্শ্বিক নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য মুগ্ধ করার মতো। তবে পদ্মায় ভেসে ঘোরার মতো মাঝি নৌকা দুর্লভ। এপার হতে ওপারে যাওয়ার জন্য আছে লঞ্চ আর স্পীড-বোট। ফেরীতেও পারাপার হতে পারেন। স্পীড বোটে এপার হতে ওপারে যেতে ২০-২৫ মিনিটের মতো লাগে; ভাড়া ১৫০ টাকা। যারা একটু ভীতু এবং সাঁতার জানেন না, তাদের স্পীড-বোটে না চরাই ভালো; দ্রুতগতির এই স্পীড-বোট পদ্মার বুকে অনেক সময় লাফিয়ে লাফিয়ে চলে, রোমাঞ্চকর এবং মজাদার বটে, কিন্তু ভয় পেলে তাতে না চড়াই শ্রেয়।  লঞ্চ পারাপারে সময় একটু বেশী লাগে, আশেপাশের প্রকৃতিও দেখা যায় বেশী। ভাড়া ৩০ টাকা (লোকাল) এবং ৪০ টাকা (ডাইরেক্ট)

কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই যাওয়া হয় পদ্মায়। পুরো বিকেল ছিলাম পদ্মার উপর। সূর্যকে রুপালি থেকে ধীরে ধীরে হলুদ, কমলা, লাল এবং অস্ত যেতে দেখেছি। সূর্যের রঙ বদলানোর সাথে আশেপাশের দৃশ্যটাও ছিলো মনোরম। ধীরে ধীরে দিন শেষে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে চারপাশে কুয়াশাও পড়তে শুরু করে। মাঝে মাঝে জনমানবহীন বিশাল চর দেখা যায়, চরগুলো সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত। খোলা আকাশের নিচে নদীর বুকে ঠান্ডা বাতাস বইছিলো বেশ। শীতকালে অন্য সব জলাশয়ের মতো পদ্মাও অনেক শান্ত থাকে। চারপাশের শান্ত মনোরম পরিবেশে হারিয়ে যাওয়াটা বেশ স্বাভাবিক। এক অন্য রকম ভালো লাগা অনুভুতি।

পদ্মার বুকে সূর্য

পদ্মার বুকে রোদ

তার দুদিন পর সন্ধ্যার দিকে আবারো যাওয়া হয় পদ্মায়। এবার ছিলো পদ্মার রাতের পরিবেশ দেখার সময়। মাগরিবের আযানের পর ধীরে ধীরে অন্ধকার বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশার পরিমাণও বাড়তে থাকে। দূরে শুধুই সাদা কুয়াশা, আর কিছুর দেখা পাওয়া যায় না। অর্ধেক চাঁদ ছিলো আকাশে। আকাশ ভরা ছিলো তারা। এর আগে দিনের বেলায় নদী ভ্রমণ করলেও রাতের বেলায় কোনোদিন নদীর বুকে ভাসিনি। পদ্মায় সন্ধ্যাত্তর রাতের বেলায় চারপাশ রহস্যময় লাগছিলো। এক অসম্ভব সৌন্দর্য্য, যা আমি কখনো এর আগে উপভোগ করি নি। চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় সবকিছুই রূপকথার মতো লাগছিলো।

পদ্মা ভ্রমণের আরো একটা আকর্ষণ হচ্ছে পদ্মার ইলিশ। পদ্মার পাড়ে লঞ্চ ঘাটের বাজারের হোটেলে পদ্মার ইলিশ পাওয়া যায়। যদিও ততটা হোটেলে পরিবেশ ততটা পরিষ্কার নয়, তবুও এর স্বাদ অন্য সব জায়গা থেকে অন্যতম।

পদ্মার ইলিশ

পদ্মার ইলিশ ভাজা

কেউ যদি পদ্মায় না যেয়ে থাকেন এখনো, তাদের আমি রিকমেন্ড করছি একবার ঘুরে দেখে আসার জন্য। আর রাতের বেলা হলে ভালো হয়, আর রাতটা অবশ্যই চাঁদনী রাত হতে হবে। 😉

পদ্মা নদী সম্পর্কে আরো জানতে পড়ুন পদ্মা নদী

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আসাদুজ্জামান নূর অন্তর
 

"আসাদুজ্জামান নূর" শব্দ দু'টোর আভিধানিক অর্থ দাঁড়ায় "কালের সিংহ মানে সময়ের বীর, আলো/ আলোপ্রাপ্ত/ আলোকিত বা আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়াতের আলোয় আলোকিত"... জানি না আমি তেমন কিনা.. আশায় আছি, এক প্রানবন্ত ভবিষ্যতের.. ফেসবুকে, টুইটারে, গুগল প্লাসে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়