পানি দূষণ করে আমরা অভাবনীয় ক্ষতি করছি !

পানি দূষণ – কিভাবে হচ্ছে?

মানুষ সৃষ্টির শুরুতে হয়তো এমনটা ছিল না।  ধীরে ধীরে উন্নতি করার সাথে সাথে প্রতিনিয়ত আবর্জনা তৈরী করছি আমরা আর পানি দূষণ করছি। আর এই আবর্জনার বেশিরভাগ এ যাচ্ছে নদী কিংবা সাগরে। সারা বিশ্বের কথা বাদ দিলেও শুধু বাংলাদেশেই আছে বেশ অনেকগুলো নদী, যেগুলো নামে নদী হলেও আদতে নদী নয়। এগুলোকে মরা নদীই বলা চলে। আবর্জনার কারণে মরে যাওয়া নদী দেখতে হলে খুব দূরে যেতে হবে না। ঢাকার বুড়িগঙ্গা আর তুরাগ নদী দেখলেই বোঝা যাবে আমরা কি করছি !  প্রতিনিয়ত টনকে টন আবর্জনা ফেলে আমরা দূষিত করে তুলছি পানিকে। সেই পানি এতোটাই দূষিত যে কোন মাছও বাচতে পারছেনা সেখানে, আর পানি খাওয়ার অযোগ্য হয়ে গেছে সেই অনেক আগেই !

বড় বড় মিল-কারখানা প্রতিনিয়ত তাদের আবর্জনা ফেলছে নদীগুলোতে, যার ফলাফল হিসেবে শুধু মৃত নদীই পাচ্ছি না, গৌণভাবে আরো অনেক ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পাঠ্যপুস্তকে অনেকেই বিভিন্ন সময়ে পরিবেশ দূষণ কিংবা Environment Pollution প্যারাগ্রাফ অথবা রচনা পড়েছি আমরা। কিন্তু কয়জনে সেটার মূলভাব উপলব্ধি করে পরিবেশকে দূষণ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি? আমরা যাই শিখি সেটা যদি ভালো কিছু হয় তবে বাস্তব জীবন সেটাকে প্রয়োগ করা উচিৎ।

পৃথিবীতে প্রায় সাত বিলিয়ন মানুষের বাস। এই বিশাল জনসংখ্যার তিনভাগের একভাগও যদি প্রতিদিন একটু একটু করে পানি দূষিত করে তাহলেও বিপূল পরিমাণে পানি দূষিত হবে। একটু ভাবুন, আপনি বেশি কিছু না শুধু একটা বোতল আজকে পানিতে ফেললেন, এমনই আরো কতো লোক কতো কিছু ফেলবে পানিতে। ফলাফল কিন্তু হবে অনেক ভয়ানক। আপনার এই সামান্য অসাবধানতার কারণেই অনেক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে পরিবেশের ভারসাম্যে।

বাংলাদেশে পানি দূশণ করার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে মিল-ফ্যাক্টরিগুলো। তাদের বর্জ্য নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। যাবতীয় উৎপাদিত বর্জ্যের সবই তারা ফেলছে নদীতে। তাছাড়া আমাদের দেশে সারের ব্যবহার প্রচুর, এইসব সার মাটির জন্যে যতটা উপকারী পানির জন্যে ততটাই মারাত্মক। ভালো ফলনের জন্যে কৃষক জমিতে সার প্রয়োগ করে, বৃষ্টির পানিতে কিংবা বন্যায় সেই সার পানিতে মিশে পানিকে ব্যাপকভাবে দূষিত করে তুলছে।

পানি দূষণ এর কারণে কি হচ্ছে?

পানি দুষণের কারণে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। পানিতে বিষাক্ত আবর্জনা ফেলার কারণে পানি মাছের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। পানিবাহিত রোগের সৃষ্টি হচ্ছে, যাতে একই সাথে মানুষ ও অন্যান্য পশুপাখিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশের খাদ্যজাল এ প্রভাব পড়ছে। একটি খাদ্য-জালের উদাহরণ – জুপ্যাঙ্কটন -> ছোট মাছ -> বড় মাছ -> মানুষ। এখন কোন কারণে যদি ছোট মাছ পর্যাপ্ত খাবার না পায় তাহলে ধীরে ধীরে এদের সংখ্যা হ্রাস পাবে, ফলাফল স্বরূপ বড় মাছ ও পর্যাপ্ত খাবার পাবেনা তাই মানুষেরও খানিকটা খাদ্য ঘাটতি দেখা দিবে।ওয়ার্ল্ড ওয়াটার এসেস্মেন্ট প্রোগ্রাম এর তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন ২ মিলিয়ন টন বর্জ্য পানিতে ফেলছে মানূষ। প্রতিদিন প্রায় ৪,৫০০ শিশু মারা যাচ্ছে পানিবাহিত রোগাক্রান্ত হয়ে। ১.২ মিলিয়ন মানুষ আর্সেনিক এ আক্রান্ত হচ্ছে।

খাদ্যজাল

 

নিচের ভিডিওটি একবার হলেও দেখার জন্যে অনুরোধ করবো। তাহলে হয়তো পানি দূষণের একটা ক্ষতিকর দিক সম্বন্ধে সঠিক ধারণা পাবেন। ভিডিওটিতে জনমানবশূণ্য একটা দীপকে দেখানো হচ্ছে আর পানি দুষণের কারণে সেই দ্বীপের পাখিগুলো কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা তুলে ধরা হয়েছে।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়