ফ্রিল্যান্সিং করার আগে যে ৫টি বিষয় অবশ্যই ভাবতে হবে !

আজকে হঠাত মনে হলো ফ্রিল্যান্সিং করবো, ব্যাস ফ্রিল্যান্সার ডট কমে আর ওডেস্কে একটা অ্যাকাউন্ট করলাম। আর কাড়ি কাড়ি টাকা আমার অ্যাকাউন্টে জমা হতে শুরু করলো। ব্যাপারটি  কি এরকম? 😛 মোটেও এরকম না। ফ্রিলান্সিং করার জন্যে প্রয়োজন যোগ্যতা, নিষ্ঠা, সময় ও সুযোগ।

আপনি যদি এখনো ফ্রিল্যান্সিং শুরু না করে থাকেন বা সবে মাত্র শুরু করেছেন তাহলে কিছু বিষয় অবশ্যই ভাবতে হবে ফ্রিল্যান্সিং পুরোদমে শুরু করার আগে।  আর সেগুলোই রয়েছে এই নিবন্ধে… তো ঝটপট জেনে নিন আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর জন্যে তৈরি কিনা।

আপনার যোগ্যতা কতটুকু?

ফ্রিল্যান্সিং এ যে বিষয়ে কাজ করবেন বলে মনস্থির করেছেন, সে বিষয়ে আপনার যোগ্যতা কতটুকু? আপনার যোগ্যতা না থাকলে ফ্রিল্যান্সিং করতে গেলে একেতো দেশের বদনাম, দ্বিতীয়তো নিজের বদনাম। যেই বিষয়েই কাজ করুন না কেন; সেই বিষয় সম্পর্কে আগে ভালোভাবে শিখে নিতে হবে। যদি দীর্ঘমেয়াদি সময় নিয়ে শেখার প্রয়োজন হয়, তবে তাও করতে হবে। কোনভাবেই কাজ না শিখে ফ্রিল্যন্সিং শুরু করার চিন্তা মাথায় আনা যাবে না। যারা কাজ শিখতে চান তারা এই লেখাটা দেখতে পারেন –  ফ্রিল্যান্সিং এর জন্যে কাজ কোথায় শিখবো?

যদি ইতোমধ্যেই কাজ শিখে থাকেন তবে সে কাজে আপনার যোগ্যতা যাচাই করে নিতে পারেন। মার্কেটপ্লেস গুলোতে পাওয়া যায় এমন কাজগুলো নিজে নিজে করার চেষ্ট করতে পারেন। ওয়েব ডিজাইন করে থাকলে নিজে নিজেই বিভিন্ন ধরণের ওয়েবসাইট দেখে সেটার মতো করে ডিজাইন করার চেষ্টা করতে পারেন। যদি প্রতিক্ষেত্রেই সফল হন তাহলে ধরে নেয়া যেতে পারে যে আপনি শতভাগ যোগ্যতা নিয়ে কাজ করার জন্যে প্রস্তুত আছেন।

কতটুকু সময় দিতে পারবেন?

চাকরি বা ব্যবসার পাশাপাশি অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং করে, তবে সেক্ষেত্রে সময় একটা বড় ব্যাপার। কেউবা পড়াশোনার পাশাপাশিও ফ্রিল্যান্সিং করার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে এক্ষেত্রে নিজের পড়াশোনাকে একেবারেই তুচ্ছ করে দেখলে চলবেনা।

আপনি কতটুকু সময় দিতে পারবেন? ভাবুন এ বিষয়টা নিয়ে। অনেকসময় হয়তো ক্লায়েন্ট এর কাছ থেকে খুব অল্প সময়ে করে দেয়ার জন্যে কাজ পেলেন। তখন কি পারবেন? যদি আপনাকে মাত্র দুই-তিনদিনের মধ্যে বড় কোন কাজ শেষ করতে হয় তাহলে কি পারবেন?

যদি আপনার উত্তর হয় “হ্যা” এবং আপনি যদি নুন্যতম ৪-৫ঘণ্টা সময় দিতে পারেন ফ্রিল্যান্সিং এর জন্যে তাহলে আপনি প্রস্তুত।

আপনার উপর কি পরিবার কতটা নির্ভরশীল?

আপনার উপর কি আপনার পরিবার নির্ভরশীল? যদি উত্তর “হ্যা” হয় তাহলে প্রথমেই ফ্রিল্যান্সিং করার সিদ্ধান্ত নেয়াটা উচিৎ হবেনা বলে আমি মনে করি। আপনি সফলও হতে পারেন, তবে অসফল যে হবেন না তার নিশ্চয়তা আপনাকে কেউওই দিতে পারবেনা।

তাই যদি আপনার পরিবার আপনার আয়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে তাহলে চাকরি/ব্যবসার পাশাপাশি পার্ট টাইম হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করুন। যদি ধীরে ধীরে সফলতা আসতে থাকে এবং তা যদি এমন পর্যায়ে হয় যে আপনি আরও সময় দিলে অনেক ভালো করতে পারবেন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন। নয়তোবা এই চিন্তা ঝেড়ে ফেলতে হবে।

আর যদি আপনার পরিবার আপনার প্রতি নির্ভরশীল না হয় তাহলে ফ্রিল্যান্সিং দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।

কত সহজে হতাশ হয়ে পড়েন আপনি?

আপনি কি খুব সহজেই হতাশ হন? হয়ে থাকলে ফ্রিল্যান্সিং বোধহয় আপনার জন্যে না। এমন হতে পারে যে এক সপ্তাহ যাবত প্রতিদিন কাজের জন্যে আবেদন করেও আপনি কাজ পাচ্ছেন না। কিংবা আপনার করা কাজ ক্লায়েন্টের মন মতো হচ্ছেনা, প্রতিবারই কিছুনা কিছু ভুল-ভ্রান্তি থেকে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে কি খুব সহজেই হতাশ হয়ে পড়বেন আপনি?

মানুষের জীবনে ভালো দিন খারাপ দিন, উভয়ই আসবে। তবে তা নিয়ে সহজেই যদি কেউ হতাশায় মুষড়ে পরে তাহলে জীবন চলবে কি করে? ফ্রিল্যান্সিং করতে চাইলে অতি সহজে হতাশগ্রস্ত হওয়া যাবেনা। নিজের উপর অটুট বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

আপনার ইংরেজি দক্ষতা কতটুকু?

ফ্রিল্যান্স কাজ করার জন্যে ইংরেজি দক্ষতা থাকা চাই। কারণ সবক্ষেত্রেই ক্লায়েন্টদের সাথে আপনাকে ইংরেজিতে কথাবার্তা বলতে হবে। তারা আপনাকে কাজ কিভাবে করতে হবে, কি করতে হবে ইত্যাদি সবই ইংরেজিতে বুঝিয়ে দিবেন। আপনার ইংরেজিতে দক্ষতা ভালো থাকলে খুব সহজেই বুঝে নিতে পারবেন। মোটামোটি দক্ষতা থাকলে বুঝতে খানিকটা কষ্ট হলেও হতে পারে। আর যদি অদক্ষ হন তাহলে কেল্লা ফতে ! আপনি কিছুই বুঝবেন না। আর শুধু যদি বুঝতে পারেন তাহলেও তো আর শেষ হয়ে যাচ্ছেনা সব, আপনাকেও যে তাদের কথার প্রেক্ষিতে কথা বলতে হবে। সেই যোগ্যতাটাও থাকা চাই !

ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে যাওয়ার আগে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজিতে যথেষ্ট দক্ষ হতে হবে, যতটুকু দিয়ে আপনি কথাবার্তা বলতে পারবেন এবং কাজ বুঝতে পারবেন।

এবার আপনার পালা

আপনার মতে ফ্রিল্যান্সিং এ যোগ দেয়ার আগে আরও কিছু ভাবার প্রয়োজন আছে কি? থাকলে কমেন্টে জানাতে দ্বিধা করবেন না। 🙂

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আরও পোস্ট

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়