মানবজীবন, প্রতিধ্বনির মতই

একদা রহিম আর তার ছেলে করিম এক পাহাড়ি বনের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে করিম পা পিছলে পড়ে যায় এবং হাঁটুতে প্রচন্ড ব্যথা পায়। ব্যথার চোটে সে “আহহ” বলে চিৎকার করে উঠে। ঠিক পর মুহুর্তেই সে শুনতে পায় পাহাড়ের দিক থেকে সেই “আহহ” চিৎকার। বাচ্চা ছেলে করিম তখনও প্রতিধ্বনি চিনে না। তাই সে অনেকটা অবাক ও বিচলিত হয়ে পড়ে। তার দ্বিধাদ্বন্দ এড়াতে সে আবারো “আহহ” বলে চিৎকার দিয়ে উঠে। তার চিৎকারের জবাবে সে আবারো “আহহ” প্রতিধ্বনিই পায়। এবার করিম তার বাবার দিকে একবার তাকায়, তারপর চিৎকার করে জিজ্ঞেস করে, “কে আপনে?” পাহাড় থেকেও ভেসে আসে “কে আপনে?” করিম তখন রেগে-মেগে বলে উঠলো, “কাপুরুষ, বুকে পাটা থাকলে সামনে আইয়া কথা ক।” জবাবে পাহাড় থেকে ভেসে আসে “কাপুরুষ, বুকে পাটা থাকলে সামনে আইয়া কথা ক।”

তারপর করিম তার বাবা রহিমের কাছে জিজ্ঞাসা করে, “আব্বা, এগুলা কি হইতাছে?” রহিম তখন তার করিমকে বলে, “বাপ আমার, একটু খেয়াল কর্‌।” এবার রহিম চিৎকার করে, “তুমি অপরূপ, তুমি অনন্য।” প্রতুত্তরে পাহাড় থেকে আসে, “তুমি অপরূপ, তুমি অনন্য।” তারপর রহিম বলে, “আমি তোমার গুণে মুগ্ধ।” পাহাড়ও বলে উঠে, “আমি তোমার গুণে মুগ্ধ।”

করিম হতবিহ্বল, বিস্ময় আর কৌতুহলভরা দৃষ্টিতে তার বাবার দিকে তাকিয়ে আছে, এখনো সে এর রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ।
করিমের কৌতুহলী দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে রহিম একটু হাসলো। তারপর বললো, “আমরা যদি ইয়া বড় ফাঁকা জায়গায় যেমন, এই পাহাড়ি জায়গায় জোরে চিল্লাই, তাইলে আমাগো চিল্লানি এই বড় বড় পাহাড়ে বাড়ি খাইয়া আবার আমাগো কানে ফিরা আহে, এইডারে হগলতে প্রতিধ্বনি কয়।”
রহিম তার ছেলেকে বোঝায়, “আসলে আমাগো জীবনডাও ঠিক এই রকম, আমরা যা করি হেইডার আয়না হইতাছে আমাগো জীবন। যদি তুই কারো ভালোবাসা চাস্‌, তাইলে আগে হেরে বেশী কইরা ভালোবাসা দে; যদি কারো কাছ থিকা আদর চাস্‌, তাইলে আগে হেরে বেশী কইরা আদর কর; যদি তুই চাস্‌ যে কেউ তোরে বুঝুক, তাইলে তুই আগে ওরে বুঝবার চেষ্টা কর; কারো কাছ থিকা সম্মান পাইবার চাইলে আগে হেরে বেশী কইরা সম্মান দে। এই নিয়ম আমাগো হগলতির লাইগা, জানোয়ার, পশুপাখি, মানুষ হগলতির লিগাই এই নিয়ম খাটে।”

 

 

 

 

আমাদের জীবন কোনো অকস্মাৎ সংঘটিত কোনো রহস্যময় কর্মের আধার নয়, আমাদের কর্মকান্ডের প্রতিফলনই আমাদের জীবন। জীবন আমাদেরকে তাই দেয় যা আমরা তাকে দেই।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আসাদুজ্জামান নূর অন্তর
 

"আসাদুজ্জামান নূর" শব্দ দু'টোর আভিধানিক অর্থ দাঁড়ায় "কালের সিংহ মানে সময়ের বীর, আলো/ আলোপ্রাপ্ত/ আলোকিত বা আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়াতের আলোয় আলোকিত"... জানি না আমি তেমন কিনা.. আশায় আছি, এক প্রানবন্ত ভবিষ্যতের.. ফেসবুকে, টুইটারে, গুগল প্লাসে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়