“মুক্তি”

মুক্ত থাকার অদম্য ইচ্ছা সব মানুষের মধ্যেই বর্তমান। এটা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। কিন্তু কেন এই আকাঙ্খা? খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান – দাসত্বের জীবনেও জীবনধারণের এই অতি প্রয়োজনীয় তিনটি উপাদান পাওয়া যায়। দিব্যি খেয়ে, পড়ে বেঁচে থাকা যায়। কিন্তু তাতে আত্বিক সুখ মেলে না। Moshe Dayan বলেছেন –

” Freedom is the oxygen of soul”

স্বাধীন, মুক্ত জীবন না পেলে আত্মার মৃত্যু হয়। একবিংশ শতাব্দীর ব্যস্ত যান্ত্রিক জীবনে এই আত্বিক সুখ খুব কম মানুষই পায়। বাঁধাধরা জীবনের দম আটকানো পরিবেশে আমরা প্রায়শই রোবট হয়ে যাই। তাই যখন একটু বৈচিত্রের সন্ধান পাওয়া যায়, নিজের মত বাঁচার একটু আশ্বাস পাওয়া য়ায় তখন সবার মনই আনন্দে নেচে ওঠে।

উচ্চ লম্ফ!!

মুক্ত জীবন, স্বাধীনতার গুরুত্ব প্রভৃতি বিষয় নিয়ে গুরুগম্ভীর রচনা লেখার চেয়ে আমি বরং “মুক্তি” শব্দটা আমার কাছে কি সেটাই লিখি। গবেষনাধর্মী লেখার কাজটা যারা এ বিষয়ে রীতিমত পি.এইচ.ডি করেছেন তারাই করুক। “মুক্তি” মানে কি? এক এক মানুষের কাছে মুক্তির অর্থ এক এক রকম। আমার কাছে যা, আপনার কাছে মুক্তি মানে তা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বাকি ১০টা কিশোর-কিশোরীর মতো আমার কাছেও মুক্তি মানে পড়াশোনা, মায়ের বকুনি এসব থেকে রেহাই পাওয়া। পরীক্ষার বালাই নেই, শিক্ষকের বকুনির ভয় নেই, মায়ের পিটুনি খাওয়ার চিন্তা নেই, ইচ্ছেমত দুষ্টুমি করা…মুক্ত জীবন আমার কাছে এটাই। হাস্যকর শোনায়…জানি। কিন্তু সবকিছুর মানে যে গম্ভীর হতে হবে সেটা তো কোথাও বলা হয়নি।

মুক্তির আনন্দ

যাই হোক, আমার মুক্ত জীবনের উপাদানগুলোর কথা তো বললাম এখন আমার এমন ধারণার কারণটা বলি। সারাবছর, এমনকি পরীক্ষার আগেও যে পড়াশোনা করে যে বাড়ি মাথায় তুলে ফেলি তা না, বরং ফাঁকিবাজ হিসেবে আমার সুনাম আছে! পরীক্ষার ভয়ে যে জবুথবু হয়ে থাকি তাও না, বরং আমার চিন্তামুক্ত ভাব দেখে মা প্রায়ই বকে কান ঝালাপালা করে! আমার মত অনেক শিক্ষার্থীরই এই অবস্থা। তবে কেন সবার পরিক্ষা খেকে মুক্তি পাওয়ার এ ইচ্ছা? এর কারণ হচ্ছে পরীক্ষার সময় গল্পের বই, টেলিভিশন, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ফোন ইত্যাদির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা। সবকিছু বাদ দিয়ে বন্দী কারাগারে জীবনযাপন করার মত দশা হয়ে ওঠে! পরীক্ষা শেষ হওয়া মানে কারাগার থেকে মুক্তি। তখন যে আত্মিক সুখ প্রতিটি শিক্ষার্থী লাভ করে তার তুলনা হয়না। আনন্দের ঔদারয্যবশতঃ অনেকেই তখন দু’-তিন হাত উঁচু লাফ দিয়ে দেয়।

মুক্তির অর্থ এরকম এক একজনের কাছে এক একরকম। কিন্তু এই সোনার হরিণটার দেখা পাওয়ার আশায় সবাই ছুটে বেড়ায়। সবাই নিজের মত করে খুঁজে বেড়ায় একে। এটি না পেলে যে জীবনকে প্রকৃত অর্থে উপভোগ করা যায়না।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

দেবশ্রী মুখার্জী টুনটুনি
 

সাধারণ একটা মেয়ে, নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে চাই…:)

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়