1

মোবাইল ভাঙ্গা প্রতিরোধ করার ৬ উপায় !

ওয়াল্টন প্রিমো এক্স-ওয়ান মোবাইলটা নিয়েছি এখনো ৬ মাস পেরোয় নি। এর মধ্যেই স্ক্রিন এর অবস্থা যাচ্ছেতাই। কতশত আছাড়-টাছাড় যে এখন পর্যন্ত সহ্য করেছে বেচারা তার সঠিক হিসাব হয়তো আমি দিতে পারবো না। পুরো স্ক্রিন জুড়ে সাতটা বড় ফাটল আছে। তারপরেও ভালো সার্ভিস দিচ্ছে। অনেকের মনে হতে পারে যে “নিজের মোবাইল ভাংসে আবার আমাদের আইছে মোবাইল ভাঙ্গা থেকা বাঁচানো শিখাইতে“। যারা এমন ভাবছেন তাদের জন্যে এটা :mrgreen:

*উল্লেখ্য উপরের ছবিটা আমার মোবাইলের না 😉

চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে, এমন কথা নিশ্চয়ই শুনেছেন। আমার বিষয়টা হয়েছে অনেকটা এমনই। মোবাইল ভাঙ্গার পরে বাকিটুকুকে ঠিকভাবে রাখতেই এখন হুমড়ি খেয়ে পড়েছি। এর মধ্যেই বের করার চেষ্টা করলাম বেশ কিছু উপায় যাতে যেকেউই তার শখের মোবাইলটাকে ভাঙ্গা থেকে বাঁচাতে পারে ! BTW এই লেখাটা অনেকটা মজার ছলেই লিখছি, তাই এটাকে মজা হিসেবে দেখে উলটাপালটা পয়েন্টগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার অনুরোধ থাকবে। মোবাইল ভাঙ্গা প্রতিরোধ করতে যা যা করা যায় –

  • মোবাইলের ফ্লিপ কভার লাগানো
  • নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল হাতে না রাখা
  • যত্রতত্র মোবাইল না রাখা
  • সাইকেল বা হোন্ডা চালানোর সময় বা কোথাও বসলে যেন মোবাইল পরে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখা
  • বাচ্চাদের হাতে মোবাইল না দেয়া
  • ভালো স্ক্রিন প্রোটেক্টর লাগানো

হয়তো চাইলে আরও অনেক কিছুই করা যেতে পারে। তবে মেইনলি ফ্লিপ কভার লাগালেই হয়ে যায়। তো চলুন এবার পয়েন্টগুলোর গভীরে ঢোকা যাক –

মোবাইলের ফ্লিপ কভার লাগানো

বাজারে প্রায় সবধরনের মোবাইলেরই ফ্লিপ কভার পাওয়া যায়। সেখান থেকে আপনার পছন্দমতো কভার কিনে লাগিয়ে নিতে পারেন। যদিও এতে মোবাইলের সৌন্দর্য অনেকটাই বিনষ্ট হবে। অনেকের কাছে “খ্যাত” ও লাগতে পারে। তবে কিছু করার নেই। যদি চান মোবাইল ভালো থাক তাহলে আপনাকে একটা কভার লাগাতেই হবে…

ভালো-মন্দ, সুন্দর-অসুন্দর বিভিন্ন রকমের কভারই পাওয়া যাবে। তবে একটু খোজ খবর করে কনলে হয়তো দারুণ কিছু কভারও পেয়ে যেতে পারেন । গ্যালাক্সি এস ফোর এড় ফ্লিপ কভারগুলো দেখুন !

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ফোর ফ্লিপ কভার

নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল হাতে না রাখা

আমার ওয়াল্টন সেট টা অপ্রয়োজনে হাতে রাখার কারণেই ভেঙ্গেছে। মোবাইলটা তখন আমার হাতেই ছিল, আর পাশে একটা রিকশা যাচ্ছিলো।  রিকশা হুড উঠানোর লিভার দিয়ে হাতে সেরাম জোড়ে লাগে আর তখন হাত থেকে মোবাইলটা পরে যায়। উঠানোর পরে দেখে উহা ভাঙ্গিয়া চৌচির ! শকড হয়ে গেছিলাম তখন…
উপরের কাহিনী থেকে আমরা কি শিখলাম? বিনা প্রয়োজনে মোবাইল হাতে রাখলে দুনিয়া যেকোনো সময় আপনাকে শকড করে দিতে পারে !  🙄

যত্রতত্র মোবাইল না রাখা

আমার একটা অভ্যাস আছে। বাহিরে থেকে এসে ফ্রেশ হওয়ার আগেই রুমে ঢুকে মোবাইলটাকে খাটের উপর ছুড়ে মারি। ইদানীং অনেকটাই কন্ট্রোল করতে পারছি। ভদ্র ছেলের মতো চুপচাপ এসে মোবাইলটাকে টেবিলের উপর সযত্নে রাখি। আমার মতো যাদের এমন অভ্যাস টভ্যাস আছে তারা একটু নড়ে চড়ে বসেন। এখন থেকে আর এই অভ্যাস রাখা যাবেনা। মোবাইলে বাঁচাইতে চাহিলে উহাকে নিরাআআআআপদে রাখিতে হইবে !  😉

সাইকেল বা হোন্ডা চালানোর সময় বা কোথাও বসলে যেন মোবাইল পরে না যায়

প্যান্টের পকেট ঢিলেঢালা হলে পকেট থেকে মোবাইল পরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে যদি সাইকেল বা হোন্ডায় চড়া হয় কিংবা অন্য কোথাও বসা হয়। একবার রিকশায় চড়ে বসলাম। রিকশা চলতে শুরু করবে ঠিক তখন একজন লোক তাড়াতাড়ি করে রিকশা থামালেন। ঘটনা কি জানতে চাইলে তিনি বলেন রিকশার চাকার নিচে মোবাইল ! টিনের চালে কাক আমিতো অবাক ! নিচে তাকিয়ে দেখি সত্যি সত্যিই আমার মোবাইলটা পড়ে আছে। রিকশা চলতে শুরু করলেই মোবাইলটা চাকার নিচে চলে যেতো। আমি ট্রাউজার পড়া ছিলাম। ট্রাউজারের পকেট ঢিলা। তাই সেখান থেকে পড়ে গেছে। অতএব যেখানেই বসুন না কেন, মোবাইল সাবধান !

বাচ্চাদের হাতে মোবাইল না দেয়া

মোবাইল এমন একটা জিনিস ছোট থেকে বড় সবাইকেই আকর্ষণ করে। ছোট বাচ্চারা মোবাইল দিয়ে খেলতে চাইতেই পারে, আর এটাই স্বাভাবিক। তবে তাদের হাতে মোবাইল দেয়া যাবেনা।  অসাবধানতাবসত ফেলে দিতে পারে কিংবা আছাড়ও মারতে পারে ! আমার এক ভাগিনা তো তার দাদুর মোবাইল জানালা দিয়েই ফেলে দিয়েছিলো ! 😀

স্ক্রিন প্রটেক্টর লাগানো

প্রশ্ন হতে পারে, স্ক্রিন প্রটেক্টর কিভাবে মোবাইল ভাঙ্গা রোধ করবে ? আসলে মোবাইল ভাঙ্গা রোধ করবেনা কিন্তু সরাসরি স্ক্রিনে আঘাত লাগা থেকে রক্ষা করবে।

রাগ কন্ট্রোল করুন (বোনাস পয়েন্ট)

নিজের রাগ কন্ট্রোল করা শিখুন। রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা খুব খারাপ একটা গুণ। আমি নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনা 🙁 । ইতোমধ্যেই আছাড় দিয়ে চারটা  মোবাইল ভেঙ্গেছি ! কেউ যদি আমার মতো বদরাগী হয়ে থাকেন তাইলে ভাই রাগ কন্ট্রোল করুন নয়তো রাগলে হাতের কাছে মোবাইল রাখবেন না । 😛

আপনার কি মনে হয় মোবাইল ভাঙ্গা রোধ করতে এই উপায়গুলো যথেষ্ট?  আর কিকই করা যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়