রংধনু কীভাবে তৈরি হয়? 

 

একটা সময় ছিল যখন ঢাকায়ও বৃষ্টি হলে দেখা মিলত রংধনুর। কিন্তু বর্তমানে উঁচু উঁচু দালানকোঠার আড়ালে আর জীবনে যান্ত্রিক যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে রংধনু চোখেই পড়েনা আমাদের। রংধনু বাদ যাক, অনেকেরতো মাথার উপরের বিশাল আকাশটাই দেখার ফুরসত মিলেনা।

ছোটবেলায় নিশ্চয় রংধনু দেখেছেন, আর নিজের মনের মধ্যে নিজের মতো করে ব্যাখা তৈরি করে নিয়েছেন এর সৃষ্টি সম্পর্কে। অনেকেই আবার প্রভাবিত হয়েছেন টিভির পর্দায় দেখানো কার্টুন দেখে। তবে কার্টুনে যেভাবে রংধনু দেখানো হয় বাস্তব রংধনু তার থেকে অনেক ভিন্ন। আর সেখানে যেভাবে রংধনুর উৎপত্তি দেখানো হয় সেটা নিছক বাচ্চাদের আনন্দদানের জন্যে।

সূর্যের আলো আপাত দৃষ্টিতে দেখতে সাদা হলেও তা সাতটি রঙের মিশ্রণ। বেগুনি, নীল, আসমানি (আকাশী), সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল। যাকে সংক্ষেপে বেনীআসহকলাও বলা হয়। 

প্রকৃতপক্ষে রংধনু সৃষ্টি হয় বাতাসে ভেসে থাকা পানির কণার মধ্য দিয়ে সূর্যের আলোর সাতটি মৌলিক রঙে বিভাজিত হওয়ার মাধ্যমে। বৃষ্টি শেষে বাতাসে যে পানির কণা ভাসমান থাকে তা অনেকটা প্রিজমের মতো কাজ করে সূর্যের আলোকে বিভাজিত করে। যখন প্রিজমের মতো আচরণ করে পানির কণাগুলো সূর্যের সাদা আলোকে সাতটি আলাদা আলোতে ভাগ করে তখনই তা আমাদের চোখে রংধনু হিসেবে ধরা দেয়। রংধনুতে একদম উপরের দিকে থাকে লাল রং আর একদম নিচের দিকে থাকে বেগুনী রং। তবে রংধনুতে সবসময়ই যে সাতটি রং দেখা যাবে এমনটি নাও হতে পারে। কখনো কখনো সাতটির কম রং নিয়ে রংধনু সৃষ্টি সম্ভব। রংধনু কিভাবে সৃষ্টি হয় তা বোঝার জন্যে নিচের ভিডিওটি দেখতে পারেন –

[youtube https://youtu.be/mGY9jV11FuU]

তবে বৃষ্টির পরপর আকাশে থাকা জলকণা যে রংধনু সৃষ্টি করবেই তার কোন নিশ্চয়তা নেই। রংধনু দেখার জন্যে সূর্য আপনার পেছনের দিকে থাকা বাঞ্ছনীয় আর পানির কণা থাকতে হবে সামনের দিকে। আর সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় হল বৃষ্টি শেষে ঝকঝকে সূর্যের আলো। বৃষ্টি ছাড়াও কিন্তু রংধনু সৃষ্টি সম্ভব ! ফোয়ারা বা ঝরনার আশেপাশে প্রায়ই রংধনুর দেখা মিলতে পারে।

যদি এখন অবধি রংধনু দেখে না থাকেন তাহলে অপূর্ব একটি দৃশ্য মিস করেছেন জীবনে। বৃষ্টির পর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলে রংধনুর দেখা মিললেও মিলতে পারে 😉

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়