2

লাবণ্য

লাবণ্য

শখ করে নাম দিয়েছিলেন লাবণ্য। নামটা যে খুব প্রিয় তা না, নামটার প্রতি একটা মায়া আছে। প্রথম প্রেমে পড়ার মায়া। অনেক কষ্ট করে নামটা জানতে হয়েছিল। পরে যেদিন গোলাপ কেনা হল সেদিন হাত ধরা হয়নি, বলা হয়নি মনের কথা। সেদিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সন্ধ্যে দেখা হয়েছে। চোখে এসেছিল সে অন্য কারো! সেদিন গোলাপটি সেখানেই পরে থাকে। এরপর আর তার খোঁজ নেয়নি। দেখাও হয়নি একটিবার। মাঝে খবর এসেছিল সে বিলেত চলে গেছে। এরপর কেটে গেছে বহু বছর। তার চিন্তা আর করতে হয়নি। মা জোর করে বিয়ে দিয়ে দেন। কনের নাম মরিয়ম খাতুন সৈয়দা বিনতে জালাল। শুনেই একটা নাম দিয়ে নিতে ইচ্ছে হয়েছিল। সেই থেকেই সে লাবণ্য।

বিয়ের দিন তাকে দেখে আবার প্রেমে পড়তে ইচ্ছে হয়। তবে পুরনো লাবণ্য তা হতে দেয়নি। ভেবেছিলেন কনে তাকে জয় করে নেবে, সেই সৌভাগ্যও হয়ে ওঠেনি। মাস ঘুরে গেলেও তার সাথে বিশেষ আলাপটা পর্যন্ত সাড়া হয়নি। শুধু থাকার জন্য যেটুকু প্রয়োজন লাবণ্য তার চেয়ে বেশি কথা বলে না। মনে এই নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই।

সেদিন ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে যায়। অফিস কোনো কারণে বন্ধ থাকায় সে নিয়ে আর ভাবতে হয়নি। তবে উঠেই তার চুল শুকানো দেখতে পাওয়া মনকে শুকিয়ে পুরো কাঠ করে দেয়, যেন এ পৃথিবীতে সবচেয়ে অভাগা একমাত্র তিনিই!

অফিসের একগাদা ফাইলের সামনে বসে চেয়ার দোলাতে কারোই খুব ভালো লাগে না। ভালো লাগার জন্য তারা একগাদা পয়সাও দেয় না। তবে বন্ধুর থেকে পাওয়া ফ্রেমে লাবণ্যর ছবি দেখতে তার খারাপ লাগে না। হোক না তার কাছে তিনি এখনও অপরিচিত। হোক না সে নয় তার লাবণ্য। সে তো তার স্ত্রী!

ফেরার পথে বাদাম চিবুতে বেশ লাগে, মনের ভেতর অনেক রকম ভাবনা চলে আসে। চলচ্চিত্র দেখার ভাবনাটাও এসেছিল। তবে সাহস করে বলা হয়নি, সে যে বিদেশিনী! মা বলেছিলেন তার শৈশব দেশেই কেটেছে। তবুও কিঞ্চিৎ অমতের আভাস থাকায় বাড়ি ফিরে বোকা বাস্কেই আশ্রয়।

তার রান্না নিয়ে কথা বাড়াবো না। বিয়ের পর থেকে আর দাওয়াত খেতে যাননি। শুধু শুধু পয়সা দিয়ে বাইরেও খাননি। কেননা তাদের তো বলতে পারেন না, তার স্ত্রী অনেক ভালো রাঁধে। এত গুণের মাঝে কৈশোরের লাবণ্যও হয়তো হার মেনে যেতো।

বাঁধাগুলো ভেঙে মনে হয়েছিল তার বন্ধু হলে মন্দ হয় না। মা বলেছিলেন তার অনেক বন্ধু-বান্ধব ছিল। হয়তো তার পুরনো বন্ধুরা ঢের ভালো এই ভেবে সেটিও মনেতেই থেকে যায়। তবে পুরোদমে ভেবেই রেখেছিলেন এতদিনের সব উপহার তাকেই বুঝিয়ে দেবেন। প্রশ্নের কড়া সম্মুখীন হবার ভয়েই কিংবা মনের হালকা ক্ষয়েই, তা আর হয়ে ওঠেনি।

জ্যোৎস্নার আলো চারিদিকের স্নিগ্ধতা বাড়িয়ে দেয়। এরই মাঝে ছাদে বসে আলো দেখা। হঠাৎ লাবণ্য তার কৈশোরের ছবি দেখায়। সেদিন তার ভাইকে দেখে দাঁড়িয়ে থাকার স্মৃতিও আওড়ায়। তার ডাক নামটা আর বলতে হয়নি। চেনা দু’জনে মিলে জ্যোৎস্না দেখে।।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

অচ্যুত সাহা জয়
 

"কখনো কোনো পাগলকে সাঁকো নাড়ানোর কথা বলতে হয় না। আমরা বলি না। আপনি বলেছেন। এর দায়দায়িত্ব কিন্তু আর আমার না - আপনার!"

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়