লিপ ইয়ার কেন হয়?

লিপ ইয়ার শব্দটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। লিপ ইয়ার হচ্ছে সাধারণ ধারণায় সেই বছর যা ৩৬৫ দিনের পরিবর্তে ৩৬৬ দিনে হয়। লিপ ইয়ার সম্পর্কে এই হচ্ছে আমাদের সাধারণ জ্ঞান, চলুন এবার এ সম্পর্কে আরেকটু বিশদভাবে জানি।

প্রথমেই  জানা যাক,  লিপ ইয়ার কেন হয়  – প্রতিটি সৌর বছর ৩৬৫ না বরং প্রকৃতপক্ষে ৩৬৫.২৪২ দিনে সম্পূর্ণ হয়। এই অতিরিক্ত সময়টুকুর ভারসাম্য রক্ষার্থে  বিভিন্ন ক্যালেন্ডার একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর একটি নির্দিষ্ট নিয়মে অতিরিক্ত দিন বা মাস যোগ করে। খ্রিস্টপূর্ব  ৪৫ সালে জুলিয়াস সিজার লিপ ইয়ার ধারণার প্রবর্তন করেন। পূর্বে  রোমানদের ৩৫৫ দিনের ক্যালেন্ডার ছিল এবং বিভিন্ন উৎসব একই  ঋতুতে রাখার জন্য একটি ২২ অথবা ২৩ দিনের মাস প্রতি দ্বিতীয় বছরে যোগ করা হত। সিজার নিয়মটাকে সহজ করার জন্য বিভিন্ন মাসে দিন যোগ করে ৩৬৫ দিনের বছর সৃষ্টি করলেন। মূল গণনা করেন সিজারের জ্যোতির্বিজ্ঞানী  সোসিজেনেস। প্রতি ৪ বছরে ফেব্রুয়ারি মাসে ২৮তম দিনের পর একটি দিন যোগ করার নিয়ম করা হয়। অর্থাৎ প্রতি চতুর্থ বছরকে লিপ ইয়ার করা হয়। ১৫৮২ সালে পোপ অস্টম গ্রেগরী ক্যালেন্ডারটিকে পরিমার্জন করেন এই নিয়মে যে লিপ ইয়ার সে বছরগুলোতে আসবে যে সকল বছর  ৪ দ্বারা সম্পূর্ণরূপে বিভাজিত। কিন্তু যেহেতু একটি বছর ৩৬৫.২৫ দিনের চেয়ে একটু কম , প্রতি ৪ বছরে  ১ দিন যোগ করার ফলে  ৪০০ বছরে প্রায়  ৩টি অতিরিক্ত দিনের সৃষ্টি হয়। তাই ৪টির মধ্যে কেবলমাত্র একটি শতাব্দী বছর লিপ ইয়ার হিসেবে পরিগণিত হয়। এ কারণে ১৭০০,১৮০০ ও ১৯০০ সাল লিপ ইয়ার ছিল না এবং ২১০০ সাল লিপ ইয়ার হবে না। কিন্তু ১৬০০ এবং ২০০০ লিপ ইয়ার ছিল কারণ ওই বছরগুলো ৪০০ দ্বারা সম্পূর্ণরূপে বিভাজিত।

বিভিন্ন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী  লিপ ইয়ার :

 

গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার – এই ক্যালেন্ডারই বিশ্বব্যাপী সাধারণ ক্যালেন্ডার হিসেবে প্রচলিত। এটিতে উপরোক্ত নিয়মানুসারে প্রতি ৪ বছরে ফেব্রুয়ারি মাসে একটি অতিরিক্ত দিন যোগ হয়, যা “লিপ ডে” নামে পরিচিত।

হিজরি ক্যালেন্ডার – এ ক্যালেন্ডারে বছরের শেষ মাসে প্রতি ৪ অথবা ৫ বছর অন্তর একটি অতিরিক্ত দিন যোগ করা হয়।

হিব্রু ক্যালেন্ডার – হিব্রু ক্যালেন্ডার একটি চান্দ্র ক্যালেন্ডার।  এই ক্যালেন্ডারে একটি ত্রয়োদশ চান্দ্র মাস যোগ করা হয় ৭ বার ১২টি চান্দ্র মাসের সাথে প্রতি ১৯ বছরে যাতে ঋতু পরিবর্তনের সাথে ক্যালেন্ডার বছরের মিল থাকে।

চাইনিজ ক্যালেন্ডার- এটিও একটি চান্দ্র ক্যালেন্ডার তাই লিপ ইয়ার এ এতে একটি অতিরিক্ত মাস যোগ করা হয় একটি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী।

হিন্দু ক্যালেন্ডার- সকল চান্দ্র ক্যালেন্ডারের মত এটিতেও একটি অতিরিক্ত মাস যোগ করা হয় প্রতি ২ অথবা ৩ বছর অন্তর। এই অতিরিক্ত মাসটি “অধিক মাস” নামে পরিচিত।

ইসলামিক ক্যালেন্ডার- সাধারণ ইসলামিক ক্যালেন্ডারে নিয়মিত “লিপ ডে” নেই তবে মধ্যযুগে ব্যবহৃত এবং বর্তমানেও কিছু মুসলিম দ্বারা ব্যবহৃত “ট্যাবুলার ইসলামিক ক্যালেন্ডার” এ একটি নিয়মিত “লিপ ডে” আছে। এই অতিরিক্ত দিন ৩০ বছর চক্রের প্রতি ১১ বছরে যোগ করা হয়।

বাংলা ক্যালেন্ডার-  বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী লিপ ইয়ার এমনভাবে সাজানো হয় যাতে লিপ ডে সর্বদা গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার এর ২৯ ফেব্রুয়ারির কাছাকাছি থাকে। এতে করে উভয় ক্যালেন্ডারের মধ্যে তারিখ পরিবর্তন করা সহজ হয়।

এভাবে প্রতিটি ক্যালেন্ডারেই লিপ ইয়ার সংঘটিত হয়।

গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার

যেসব শিশুর জন্ম লিপ ইয়ারে তাদেরকে লিপার  বা লিপ্লিং বলা হয়। এসকল শিশুরা তাদের প্রকৃত জন্মদিন ৪ বছর অন্তর পালন করতে পারে এবং সাধারণ বছরগুলোতে ২৮ ফেব্রুয়ারি অথবা ১ মার্চ তারা জন্মদিন পালন করে। কিছু দেশে এ সম্পর্কে নীতি নির্ধারণ করা আছে। চীনে ১০ অক্টোবর ১৯২৯ থেকে সিভিল কোড অনুযায়ী একজন লিপ্লিং এর আইনগত জন্মদিন সাধারণ বছরগুলোতে ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৯০ থেকে হংকং এ একজন লিপ্লিং এর সাধারণ বছরগুলোর জন্য জন্মদিন ১ মার্চ নির্ধারিত।

২০১২, অর্থাৎ বর্তমান বছরটি লিপ ইয়ার ছিল। আশা করি এই লিপ ইয়ার সম্পর্কে লেখাটি কিছু হলেও নতুন তথ্য দিয়েছে। লেখাটি সম্পর্কে আপনাদের মতামত জানাবেন প্লিজ।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

দেবশ্রী মুখার্জী টুনটুনি
 

সাধারণ একটা মেয়ে, নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে চাই…:)

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়