10

লেখার মান বা গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে করণীয় বিষয়গুলো

প্রথমেই বলে নিচ্ছি যে বিষয়ে লিখছি সে বিষয়ে আমার কোনই পারদর্শিতা নেই। আমি নামীদামী লেখকও নই। সাধারণ একজন শখের ব্লগার মাত্র যে ব লিখতে কলম ভাঙ্গে। তবে চেষ্টা করবো সবার সাথে কিছু বিষয় শেয়ার করার যাতে করে যে কেউ কিছুটা হলেও তার লেখার মান বা গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে পারে এবং পাঠকের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে।

লেখার মান বাড়ানোর উপায়

অযথা কথা এড়িয়ে চলা

লেখার সময় লেখককে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে সে যে বিষয়ে লিখছে সেই বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক কথাই বলছে কিনা। অপ্রাসঙ্গিক কথা যতটা পারা যায় এড়িয়ে চলা উচিৎ। লেখক যে বিষয়ে লিখতে চাচ্ছে সেই বিষয়েই কথা বলা উচিৎ, অযথা বাড়তি কথা বলে পাঠকের মনোযোগ নষ্ট করা বা বিরক্ত করার কোন মানে হয়না। তবে পাঠকের বোঝার সুবিধার জন্যে উদাহরণ দেয়ার ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা যেতে পারে।

নিজের মতো করে লেখা

লেখককে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে লেখা উচিৎ না। সে অন্য কোন লেখককে আদর্শ হিসেবে নিতে পারে কিন্তু তারমানে এই নয় যে ঐ লেখকের মতো করেই তাকে লিখতে হবে। লেখার সময় মাথায় যা আসে লিখে ফেলা উচিৎ নিজের মতো করে। এসময় মাথায় আনা উচিৎ না যে লেখা কোন আদর্শ লেখকের মতো হলো কিনা কিংবা লেখা ব্যাকরণ মেনে হলো কিনা। যেভাবে মাথায় আসে সেভাবেই নিজের মতো করে লিখে ফেলাটাই ভালো। এতে করে নিজের স্বকীয়তা বজায় থাকবে, অন্য কাউকে অনুকরণ করে লেখার ঝামেলাটাও থাকবেনা।

বড় বাক্যগুলোকে ভেঙ্গে ছোট করা

পাঠককে বোঝানোর স্বার্থে বিশাল বিশাল বাক্য ব্যবহার করাটা মোটেও উচিৎ নয়। ফলাফল উলটো হয়, পাঠক বিরক্ত হন এবং স্বভাবতই মূলভাব বুঝে উঠতে পারেন না। তাই সবসময় বড় বাক্যগুলোকে ক্ষুদ্র করে ভেঙ্গে লেখা উচিৎ। নানারকম বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করা যেতে পারে বড় বাক্যকে ভেঙ্গে ছোট করার জন্যে

প্রচলিত শব্দ ব্যবহার

প্রচলিত শব্দ ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। লেখার সময় লেখককে অবশ্যই অবশ্যই প্রচলিত এবং সহজ শব্দগুলো ব্যবহার করা উচিৎ। নানা রকম অপ্রচলিত দাঁত ভাঙ্গা শব্দ ব্যবহার করে পাঠককে বিরক্ত করা মোটেও উচিৎ নয়। পড়ার সময় নিশ্চয়ই পাঠক লেখকের পাঠোদ্ধারের জন্যে অভিধান নিয়ে বসবেন না। তাই প্রচলিত শব্দ ব্যবহারের প্রতি নজর দেয়া উচিৎ লেখার মান উন্নত করতে চাইলে।

উদাহরণ ব্যবহার

পাঠক বেশ কয়েক ধরণের থাকেন। কেউ অভিজ্ঞ জানাশোনা, যে অল্পতেই মূল ব্যাপারটা ধরতে পারেন, কেউবা খানিকটা সময় নিয়ে বুঝেন আর কেউবা মাথা চুলকান যার বুঝতে সমস্যা হয়। লেখার সময় সবরকম পাঠকের বোঝার মতো করেই লেখাটা বাঞ্ছনীয়। সেক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো একটু ঘোলাটে সেগুলো বোঝানোর জন্যে উদাহরণ দেয়া দরকার।

বিষয় সম্পর্কে ধারণা

লেখক যে বিষয়ে লিখবেন সে বিষয়ে বেশ ভালো একটা ধারণা রাখা উচিৎ। বিষয় সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকলে ভুল তথ্য দিয়ে পাঠককে বিভ্রান্ত করে দেয়ার সম্ভাবনা থাকে। স্বভাবতই একজন পাঠক লেখকের কথার গুরূত্ব দিয়ে থাকেন। তাই লেখকের কোন ভাবেই উচিৎ হবেনা ভুল তথ্য দিয়ে পাঠককে বিভ্রান্ত করা। তাই কোন বিষয়ে লেখার আগে সে বিষয়ে পরিপূর্ণ বা যতটুকু পারা যায় ভালো ধারণা নিয়ে নেয়া উচিৎ। এতে করে নিজের জ্ঞান যেমন বাড়বে তেমনই লেখায় ভালো তথ্য দিয়ে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো যাবে।

প্রুফ-রিড

লেখা পাবলিশ করার আগে অবশ্যই প্রুফ রিড করে নেয়া উচিৎ যাতে কোন বানান ভুল বা ভুল তথ্য আছে কিনা চেক করা যায়। এমনও হতে পারে প্রুফ-রিড করার সময় নতুন কোন তথ্য মাথায় আসলো যা লেখার সাথে জুড়ে দেয়া যায় বা কোন অংশ যা অযাচিত মনে হচ্ছে সেটাকে ঝেড়ে ফেলা যায়।

নিজের লেখা অবশ্যই নিজে প্রুফ-রিড করা উচিৎ প্রথমে। এরপর যদি সম্ভব হয় তাহলে কাছের কোন বন্ধুকে দিয়ে বা অন্য কাউকে দিয়ে প্রুফ রিড করানো যেতে পারে। বানান চেক করার জন্যে লেখা উলটো দিক থেকে পড়লে ভুল বানান সহজেই চোখে পরে, যা এমনিতে তেমন একটা চোখে পড়ে না।

আপাতত ঝুড়িতে এই ছিল। আমি চেষ্টা করেছি সহজভাবে মূলভাবটা বুঝিয়ে দেয়ার। তবু কোথাও যদি বুঝতে অসুবিধা হয় বা কোন ভুল থেকে থাকে লেখায় নির্দ্বিধায় জানাতে ভুলবেন না। আর আপনার কাছে যদি কোন টিপস থেকে থাকে তাহলে সেটাও শেয়ার করতে পারেন আমাদের সাথে। আপনাদের কাছ থেকেও আমাদের শেখার অনেক কিছুই আছে।  Happy Writing… :mrgreen:

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়