2

সংকেতের আগমন

spectacles

সংকেত এর আগে কিছু শব্দ জুড়ে দিলে তার বেশ কিছু অর্থ দাঁড়ায়। যেমন – ‘শুভ-সংকেত’ অর্থাৎ ভালো কিছুর আগমন, আবার ‘বিপদ-সংকেত’ অর্থাৎ অশুভ শক্তির ছোঁয়া। তবে সংকেত যে কারো নাম হতে পারে তা বিমল স্যার এর জানা ছিল না। ছেলেটা নতুন এসেছে। বড়ই মায়াবি চেহারা, দেখলেই আদর করতে ইচ্ছা করে। তবে স্যার হিসেবে তার যে কঠর ভাবটা রয়েছে তা ইচ্ছে করলেই ভাঙা যায় না।

তপ্ত রোদের মধ্য দিয়ে হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরতে বিমল স্যার এর মোটেই ভালো লাগে না। ছাতাটা ধরে থাকতে ক্যামন যেন অসহ্য লাগে। মানুষগুলোর উপদ্রবও বেড়েছে। বাড়ি ফেরার পথটা এখনও সুবিধের এই যা! ছেলেটার কথা এখনও মনে আছে স্যার এর। যেখানে কারো সাথে কথা হলে মিনিট দশেক পরে তার আর তা মনে থাকে না, সেখানে ছেলেটার কথা দিব্যি মনে আছে। বিশেষ করে চোখগুলো। চোখগুলো যেন কথা বলে। বোঝার উপায় নেই। বাড়ন্ত ছেলেদের স্যার হাড়ে-হাড়ে চেনেন। কুড়ি বছরের অভিজ্ঞতা। তবে এরকম ছেলে আর দেখেননি।

সন্ধ্যেটা বড়ই নির্মম। এখন আর স্যার পড়ান না। এমনিতেই দেশের যা অবস্থা! পান খেয়ে রেডিওটা অন করে বসলেন। তার বুকের ভেতরটা যেন কেমন করছে, আবার না জানি কি শুনতে হয়। একা থাকার এই অসুবিধা। কারো কোলে মাথা রেখে কাঁদার উপায় নেই। স্যার এর স্ত্রী বছর দশেক হল মারা গেছেন। ছেলেমেয়ে কেউ নেই। তার কন্যা জন্মের ঘণ্টাখানেক পরেই মারা যায়। এ নিয়ে স্যার এর আর কোনো আপসোস নেই।

ছেলেটা সত্যিই ভালো। মনের গভীরতাটা দৃঢ়। বিমল স্যার এখনও তার ভেতরে যেতে পারেননি। বাকি শিক্ষকদের নজরেও ছেলেটা পরেছে। সবাই প্রশংসাই করছে। পড়ালেখায়ও ভালো। তবে একটা সাংঘাতিক কিছু ওর মনে বাসা বেঁধে আছে। চা এর কাপটা টেবিলে রেখে স্যার উঠে পড়লেন। আর না! ছেলেটাকে কিছু প্রশ্ন করা দরকার।

দিন দশেক হল স্কুলটা বন্ধ। সবার যেন বুকটা পাথর হয়ে গেছে। সারাদিন ঘরে বসে থাকতে খুব একটা বিরক্ত লাগে না। তবে বিমল স্যার আজ চিন্তিত। সেদিন আর প্রশ্নগুলো করা হয়নি। ছেলেটার সাথে আর দেখা হবে কিনা, এ নিয়ে তিনি কিছুটা শঙ্কিত।

কেউ ডাকছে বিধায় ঘুমটা ভেঙে গেল। এছাড়া বিমল স্যার এর ঘুম সহসা ভাঙে না। গলাটা চেনা। গলায় একটা অসহ্য রকমের আনন্দ আছে। সেই সাংঘাতিক কিছুর উপস্থিতি! স্যার দেরি না করে ঝটপট উঠে পড়লেন। চশমাটা খুঁজে পেতেও দেরি হল না। দরজা খুলেই থমকে গেলেন, এ যে সংকেতের আগমন।

স্যার এর বিছানাটা বড়। স্যার এর পাশে সংকেত শুয়ে আছে। স্যার এর বাবা ডাক্তার থাকায় একটা সুবিধে হল। সংকেতের গুলিটা স্যার নিজেই বের করলেন। ডাক্তার ডাকা অবশ্য সম্ভবও হত না। চারিদিকে খবর পরে গেছে। বিমল স্যার গর্বিত বোধ করছেন। সাংঘাতিক মনের ছেলেটা তার ছাত্র। তার ছাত্র পাশের আর্মি ক্যাম্পটা জ্বালিয়ে এসেছে। দেশটা স্বাধীন হবেই। তার যে আরও ছাত্র রয়েছে।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

অচ্যুত সাহা জয়
 

"কখনো কোনো পাগলকে সাঁকো নাড়ানোর কথা বলতে হয় না। আমরা বলি না। আপনি বলেছেন। এর দায়দায়িত্ব কিন্তু আর আমার না - আপনার!"

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়