4

সঠিক ডোমেইন নেম নির্বাচনের জন্যে যা অবশ্যই জানতে হবে…

এর আগে আমরা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এ পর্বে আমরা শিখবো সঠিক ডোমেইন নেম নির্বাচন করার জন্যে কি কি বিষয় জানতে হবে। সেইসাথে কি কি বিষয় এড়িয়ে চলতে হবে সেগুলোও তুলে ধরা হবে। সবার আগেই আমরা আজকের বিষয়ে আলোচনা করা জন্যে বেসিক জিনিস গুলো জেনে নিবো।

ডোমেইন নেম কি?

ডোমেইন নেম হচ্ছে ওয়েবসাইটের ঠিকানা। যেমন পিপীলিকার ডোমেইন নেম হচ্ছে www.pplika.com এবং গুগলের ডোমেইন নেম হচ্ছে www.google.com। অর্থাৎ ইন্টারনেটে কোন ওয়েবসাইটের অস্তিত্ব থাকতে হলে অবশ্যই তাকে একটি ঠিকানার অধিকারী হতে হবে। আর সেটাই হচ্ছে ডোমেইন নেম। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এ ডোমেইন নেম এর বেশ ভূমিকা আছে বলা চলে। সুন্দর এবং সহজেই মনে রাখা যায় এমন ডোমেইন নেম স্বাভাবিক অর্থেই বিশাল বিশাল নামের ডোমেইন নেম থেকে বেশি গুরুত্ব পাবে সার্চ ইঞ্জিন এর কাছে।

সঠিক ডোমেইন নেম নির্বাচন করার জন্যে যা অবশ্যই জানতে হবে –

-> যত ছোট ততই ভালো – আপনার নাম যদি হতো “আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন আবদুল রহমান বিন ফায়সাল বিন তুরকি বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন সাউদ” [১] তাহলে হয়তো নিজেই নিজের নাম ঠিকঠাকমতো মনে রাখতে পারতেন না। অন্যে কিভাবে মনে রাখবে ! ঠিক একইভাবে কোন ওয়েবসাইটের ডোমেইন নেম যত বড় হবে সেটা মনে রাখাও কষ্টকর হবে। আর এতো বড় নাম স্বাভাবিকভাবেই কিওয়ার্ড দিয়ে ভরপুর থাকে আর তাই সার্চ ইঞ্জিন একে স্প্যামি হিসেবে ধরে নিতে পারে। কারণ কোন ওয়েবসাইটের ডোমেইন নেম বড় হলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহারকারীরা নামটা মনে রাখতে ভোগান্তিতে পড়বেন। তাছাড়া এতো বড় নামের বানান মনে রাখাও একটা ঝামেলার ব্যাপার। আর যারা মোবাইল দিয়ে নেট ব্রাউজ করে তাদের কেউ যদি আপনার ওয়েবসাইটে ঢুকতে চায় তখন এতো বড় নাম টাইপ করা তাদের জন্যে যথেষ্ট ভোগান্তিকর ব্যাপার। আর বর্তমানে গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিন যখন ব্যবহারকারীদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে কাজ করছে তখন ব্যবহারকারীর ঝামেলার ব্যাপারগুলো মাথায় রেখে আপনাকে নিচু র‍্যাঙ্ক দিতে পারে। হতে পারে আপনার কন্টেন্ট অন্যের থেকে অনেক ভালো, কিন্তু শুধু ডোমেইন নেম বড় হওয়ার কারণেই ঝামেলায় পড়ে যাবেন।

ডোমেইন নেম যত ছোট সেটা মনে রাখাও ততো সুবিধার। তাছাড়া মোবাইলে নেট ব্যবহারকারীরাও সহজেই ঢুকতে পারবে আপনার ওয়েবসাইটে। যেহেতু নাম ছোট তাই ব্যবহারকারীর মাধ্যমে বানান ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও কম। ব্র্যান্ডিং করার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সুবিধা পাবেন। তাই ডোমেইন নেম নির্বাচন করার সময় যথাসম্ভব ছোট নাম নির্বাচন করা উচিৎ। তবে যদি এমন হয় যে নামটাকে বড় রাখতেই হবে কোন কারণে, সেক্ষেত্রে হাইফেন দিয়ে শব্দগুলো আলাদা করে দিতে হবে। যেমন – ওয়েবসাইটের নামকে যদি “amarnamemofiz” রাখতে হয় তাহলে “amar-name-mofiz” এভাবে রাখতে হবে। তাতে নাম মনে রাখাও সুবিধা আর উচ্চারণ করতেও সুবিধা।

-> কিওয়ার্ডের জঞ্জাল বানানো যাবেনা – সার্চ ইঞ্জিনে ভালো র‍্যাঙ্ক পাওয়ার আশায় অনেককেই দেখা যায় ডোমেইনে কিওয়ার্ড ব্যবহার করে একদম উল্টিয়ে ফেলেন। বিশেষ করে লং টেইল কিওয়ার্ড এর ব্যাপারটা যখন সবার নজরে আসে তখন থেকেই এটা বেড়ে চলেছে। নির্দিষ্ট কোন কিওয়ার্ড নিয়ে সেটার সাতে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিওয়ার্ড দিয়ে ডোমেইন নেমকে ভরে ফেলার কোন মানেই হয়না। বছরখানেক আগেও হয়তো এমন কিছু করে খানিকটা ভালো ফল পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই। শুধু ডোমেইন নেম না, কন্টেন্টেও যদি কিওয়ার্ড এর জঞ্জাল দিয়ে ভরে ফেলা হয় সেজন্যেও শাস্তি পেতে হবে। শাস্তি মানে নিচু র‍্যাঙ্ক কিংবা কোন র‍্যাঙ্ক ই না পাওয়া। গুগল ওয়েবস্প্যাম টিম এর হেড ম্যাট কাটসের কিওয়ার্ড স্টাফিং নিয়ে লেখা আর্টিকেলটা পড়ে দেখতে পারেন।

ধরা যাক কেউ একজন একটি ওয়েবসাইট খুললো যার ডোমেইন নেম  “houstonseointernetmarketing.com”। এখানে পুরো ডোমেইনটা মোট চারটি কিওয়ার্ডকে কভার করেছে। “houstonseo”. “seo”, “internetmarketing”, “houstoninternetmarketing”. এ জাতীয় ডোমেইন নেম কিওয়ার্ড এর জঞ্জাল হওয়ার একটি ভালো উদাহরণ হতে পারে। গুগলে খোঁজ করে দেখা যায় যে চারটি কিওয়ার্ডকে কভার করা হয়েছে তার কোনটির জন্যেই প্রথম পেজে তো নেইই দ্বিতীয় পেইজেও নেই। 🙂

-> ইউনিক ডোমেইন নেম নির্বাচন করা – ডোমেইন নেম নির্বাচন করার আগে অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিৎ যে আপনার কাছাকাছি বানানে বা নামে অন্য কোন ওয়েবসাইট আছে কিনা। যদি থেকে থাকে তাহলে অন্য নাম বাছাই করাটাই বাঞ্ছনীয়।  কারণ এতে আপনিও ঝামেলার সম্মুখীন হবেন পাশাপাশি অন্য লোকটিও হবে। যেমন পিপীলিকা ব্লগ রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে পিপীলিকা সার্চ ইঞ্জিন এর প্রায় ৪ মাস আগে। এখন দুইটা ওয়েবসাইটেরই বাংলায় নাম এক, শুধুমাত্র ইংরেজী স্পেলিং এ দুইটার দুই নাম। পিপীলিকা সার্চ ইঞ্জিন নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। কিন্তু তাদের উচিৎ ছিলো একই নামে আর কোন ওয়েবসাইট আছে কিনা তা যাচাই করে নেয়া। ঠিক একই ভাবে আপনাকেও ডোমেইন নেম নির্বাচন করার আগে নিশ্চিত করতে হবে যে সেটা ইউনিক।

-> বড় কোন কোম্পানীর নামের সাথে মিলিয়ে নাম রাখা – এই বিষয়টিও এড়িয়ে চলতে হবে। নয়তো পরে একটু আকটু না অনেক বেশি ঝামেলা পোহাতে হতে পারে। কোম্পানী আপনার নামে কেস ঢুকে দিলেও দিতে পারে। যেমন beximco-pharma.com হচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস বাংলাদেশ এর ডোমেইন নেম। এখন কেউ যদি নতুন ওয়েবসাইটের ডোমেইন নেম এভাবে রাখে “beximco-pharmaceuticals.com” তাহলেও কিন্তু ইউনিক ডোমেইন হলোনা। এক্ষেত্রে চাইলেই বেক্সিমকো সেই ব্যক্তির নামে কেস ঢুকতে পারে। তাই প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীর নামের সাথে নাম মিলিয়ে রাখার কাজটা করা যাবেনা।

-> সংখ্যা ব্যবহার না করা – যদি নিতান্তই প্রয়োজন না পরে তাহলে সংখ্যা ব্যবহার না করাই ভালো। সংখ্যার ব্যবহার ঠিকানা মনে রাখাকে কঠিন করে তুলবে। আমাদের ডোমেইন যদি হতো pplika570393.com তাহলে একেতো এটা মনে রাখা কঠিন হতো দ্বিতীয়ত এটা টাইপ করতেও শুধু pplika.com থেকে বেশি সময়ের প্রয়োজন। যাদের টাইপিং স্পিড ভালো তাদের কথা আলাদা। কিন্তু অনেকেই আছেন যাদের প্রতিটা অক্ষর খুজে খুজে টাইপ করতে হয়। গুগল সব কিছু ভালো-মন্দ বিচার বিবেচনা করেই একটি ওয়েবসাইটকে র‍্যাঙ্ক দেয়।

-> ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট এর সাথে ডোমেইন এর সামঞ্জস্যতা রাখা – আপনার ডোমেইন নেম এর মধ্যে যদি কোন কিওয়ার্ড থেকে থাকে তাহলেতো অবশ্যই আপনাকে সে কিওয়ার্ড এর সাথে সাঞ্জস্যপূর্ণ কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বেসিক ধারণা বিষয়ক পোস্টে আমরা উদাহরণে এক আলু ব্যবসায়ীর সাথে পরিচিত হয়েছিলাম যে কিনা তার ওয়েবসাইটকে এসইও অপটিমাইজড করতে চায়। ধরে নিই আলু ব্যবসায়ীর ডোমেইন “bangladesheralu.com”। এখন যদি সে তার ওয়েবসাইটে আলু বিষয়ক কিছু না রেখে সব পটল বিষয়ক তথ্য রাখে তাহলে বিষয়টা কেমন দাঁড়ালো?  ডোমেইন দেখে যে কেউ ভাববে যে এটা বাংলাদেশের আলু বিষয়ক ওয়েবসাইট। অথচ কেউ ওয়েবসাইটে ঢুকলে দেখবে পটল বিষয়ক ওয়েবসাইট। যেই এই ওয়েবসাইটে ঢুকবে স্বাভাবিকভাবেই সে বাংলাদেশের আলু বিষয়ে জানতে চায়। কিন্তু সে গিয়ে তথ্য পেলো পটল নিয়ে। অর্থাৎ আলু ব্যবসায়ী পাঠকের আশা পূর্ণ করতে পারলেন না।  ডোমেইন নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই বিষয়টাও মাথায় রাখতে হবে।

-> ডোমেইন পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করা – ডোমেইন নেম কেনার সময় সম্ভব হলে কয়েক বছরের জন্যে কিনে নেয়া উচিৎ। এমন হতে পারে যে আপনার ডোমেইন নেম এর ডেট এক্সপায়ার হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আপনার মনে নেই কিংবা নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে আপনার  অনেক স্বপ্ন অনেক আশাই ধুলায় মিশে যাবে। তাই ডোমেইন এক্সপায়ার হওয়ার আগেই পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করার ব্যাপারটা নিশ্চিত করুন। যাতে অন্য কেউ আপনার ডোমেইন নেম কিনে নিতে না পারে।

আপনি যখন আপনার জন্যে প্রথম নির্বাচন করেন তখন কি কি বিষয় মাথায় রেখে করেছিলেন? কমেন্টে জানাতে পারেন আমাকে। তাছাড়া কোন বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে সেটাও জানাতে পারেন। আমি উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো। 🙂

[১]“আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন আবদুল রহমান বিন ফায়সাল বিন তুরকি বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন সাউদ” নামটি বর্তমান সৌদি বাদশাহর...

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়