সময়ের অপেক্ষা

boy

সব কিছুর একটা সময় আছে রিহাদ জানে। তবে আর কত দিন সেই সময়ের অপেক্ষা করতে হবে তা রিহাদের জানা নেই। একটু পরে বন্ধুদের সাথে হয়তো অনেকটা দূরেই যাবে, ফিরবে কবে তা না জানা নেই। একটা চিঠির উত্তর দেয়া খুব দরকার তবে সাদা কাগজ না পাঠানোই ভালো। তাই সেটিও রিহাদ রেখে দিয়েছে, সঠিক সময়ের অপেক্ষায়।।

গাড়িটা এসি হলেও রিহাদ বলে অফ করিয়েছে। সুমন ওর কথায় কখনো অমত করেনি। হাতের কনুইটা জানালার বাইরে রেখে রিহাদ ভাবছে। পিছনে বসা ছেলেগুলো রিহাদের চেনা নয়। একজনকে আগে দেখেছে। বাকিদের সম্পর্কে সঠিক কিছু বলতে পারবে না। সুমনের সাথে মাঝে মাঝেই বেড়িয়ে পড়ে রিহাদ। তবে এতো অপরিচিতদের মাঝে আগে কখনো পড়েনি। শুনেছে যে আরও অনেকেই আসছে। তাদের চিনবে বলেও রিহাদ আশা করে না।

ঘরটা রিহাদের অনেক পছন্দ। সূর্যের আলোটা সোজা ঘরে এসে পড়ে। সুমনের তা পছন্দ না হলেও এ ঘরটাতেই থাকে। সুমনদের ফার্ম হাউসটা বিশাল। দো’তলার এই ঘরটিতে এসেই সুমন গড়িয়ে পড়েছে। বাকিরাও হয়তো যে যার ঘরে। আরও যাদের আসার কথা তারা এখনো আসেনি। রিহাদের কলমটা ওর ডায়েরির অপেক্ষায় ছিল। লেখা শেষে রিহাদ গোসলটা সেড়ে নেয়, চেনা পরিবেশে অচেনা হয়ে যায়।

অনেক বলার পরেও রিহাদ নিচে নামতে রাজি হয় না। সুমন একটা পার্টির আয়োজন করেছে। গানের শব্দ না শুনে উপায় নেই। রিহাদের বাংলা গান ছাড়া ভালো লাগে না। নিজের গিটারটা নিয়ে টুং টাং করতেই চোখ পড়লো নিচের পরিপাটি আয়োজনে। জানালা দিয়ে পুরোটাই দেখা যায়। অনেক মানুষ সেখানে। রিহাদের চেনা কেউ নেই। না গিয়ে কিছুটা ভালোই করেছে।

দূর থেকে মানুষের চলাফেরা দেখলে কিছু অভিজ্ঞতা হয়। রিহাদ তার একলা অধিকারী। যেমন একটি ছেলে গ্লাস হাতে দাঁড়িয়ে থাকলেও এখন পর্যন্ত মুখে দেয়নি। রিহাদ বাদে হয়তো তা কারো চোখে পড়েনি। কাউকে দেখে থমকে যাওয়ার মতো ছেলে রিহাদ না। তবে হঠাৎ আর চোখ সরাতে পারলো না। সবার সাথে বেশ আনন্দে মেতে আছে মেয়েটি। তার দিকে তাকিয়ে থাকাই যেতো তবে সে যে এতো তাড়াতাড়ি উপরে তাকাবে রিহাদের তা জানা ছিল না। সময়ের অপেক্ষাটা হয়তো একটু বেশিই লম্বা।

গিটারটা রেখে রিহাদ তার কলমটাকে সঙ্গী করে নিল। রাত গভীর পার্টিটা চলছিল। মাঝে সুমন বার’কয়েক এলেও রিহাদ এর মন ভাঙ্গেনি। সে নিচে যায়নি। সে তার মতই ঘরে রয়ে গেছে। ঘুমাবার জন্য এতদূর না এলেও হত। এই ভেবে রিহাদের আর ঘুম হল না।

দরজার শব্দ শুনেই রিহাদ সুমনের উপস্থিতি আশা করল। আশার আলো নিভিয়ে সেই মেয়েটির আগমন রিহাদের ভাবনায়ও ছিল না। ঠিকমত হাঁটতে না পারলেও দুলতে দুলতে মেয়েটি কাছে এসে দাঁড়ালো। মুখের উপর সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে ধপাস করে পড়ে গেলো। রিহাদ এর জানা ছিল সময়টা এখন তার নয়। তাই তো পাশে পেয়েও বলা হলো না কথা, হলো না পরিচয়।

ঘুম থেকে উঠেই রিহাদকে চেয়ারে বসে থাকতে দেখার আশা হয়তো মেয়েটি করেনি। তবে সব মনে পড়ায় তার দুঃখিত হবার চেষ্টা রিহাদের ভালো লাগে। কফির মগটা হাতে দিয়ে রিহাদ বেড়িয়ে যায় নামটা তার অজানাই থাকলো। নিচে নেমে অবশ্য মেয়েটিকে জানালায় দেখা গেছে। তবে এ নিয়ে আর রিহাদ ভাবেনি।

দরজায় পড়ে থাকা চিঠিটা রিহাদকে ফিরিয়ে আনলো। সুমন বাড়ি পর্যন্ত দিয়ে গেছে। শহরের এই বদ্ধ ঘরে রিহাদ ফিরে আসতে চায়নি। মায়ের কাছে এবার উত্তর দিতেই হবে। ভাবনার সেই ধোঁয়াটে মধ্যরাত থেকে বেড়িয়ে গুছিয়ে চিঠিটা লিখতেই হবে। দরজায় কে যেন এসেছে। বাড়িওয়ালা আবারো টাকা চাইবেন।।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

অচ্যুত সাহা জয়
 

"কখনো কোনো পাগলকে সাঁকো নাড়ানোর কথা বলতে হয় না। আমরা বলি না। আপনি বলেছেন। এর দায়দায়িত্ব কিন্তু আর আমার না - আপনার!"

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়