12

লেখাকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম সারিতে স্থান করিয়ে নিতে যা যা করতে হবে

লেখা সার্চ ইঞ্জিনে প্রথম স্থানে আনা

আপনি লিখছেন, হয়তো খুব ভালো লিখছেন, কিন্তু কোন অজ্ঞাত কারণে আপনার লেখা স্থান পাচ্ছেনা সার্চ ইঞ্জিনে প্রথম সারিতে? বিষয়টা অস্বাভাবিক না। আপনাকে অবশ্যই বেশ কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হবে। আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই সেই নিয়ম-নীতি মেনে মানুষের জন্যে লিখতে হবে । হয়তো খানিকটা অবাক লাগছে আপনার, “মানুষের জন্যে লিখলে কি করে সার্চ ইঞ্জিনে উপরের দিকে স্থান পাবো?” এমন প্রশ্ন আসছে মাথায়?

আচ্ছা ধরূণ আপনি এই লেখাটা যখন পড়তে আসলেন তখন পড়ার সময় দেখলেন আমি লেখার মধ্যে লিখছি “এই পোস্টে আপনাদের দেখানো হবে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম সারিতে স্থান করে নিতে যেভাবে লিখতে হবে, তো চলুন দেখা যাক সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম সারিতে স্থান করে নিতে যেভাবে লিখতে হবে তা বলি” এটা কি পড়ার যোগ্য কিছু ছিলো? মোটেও না! এখন আমি যদি এভাবে কিছু লিখে ভাবি বাহ একদম সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি একটা আর্টিকেল লিখলাম। এবার আমার লেখা হাই র‍্যাঙ্ক না পেয়ে যাবে কোথায় ! আর দশদিন পরে দেখলাম, প্রথম সারিতে তো দূরেই থাক, প্রথম চার পাঁচটা পেজেও কোথাও আমার লেখা নেই। আর আপনি একজন ভিজিটর হিসেবে যখন এই লেখা পড়বেন তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার বিরক্ত লাগতে শুরু করবে লেখার মান দেখে, আর এটাই স্বাভাবিক।

তো সার্চ ইঞ্জিনে প্রথম সারিতে থাকতে হলে প্রথমেই আপনাকে আর সব কিছু বাদ দিয়ে ভাবতে হবে পাঠকের কথা। আপনার লেখা যারা পড়বে তাদের কথা ভাবুন। কিভাবে তাদের সন্তুষ্ট করা যায়, তাদের আকর্ষণ ধরে রাখার চেষ্ট করা যায় সেটা নিয়ে ভাবুন। মানুষের জন্যে লিখুন সাথে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর বেসিক কিছু জিনিসও মাথায় রাখুন। তাহলেই কেবল আপনি ভালো র‍্যাঙ্ক করতে পারবেন। ধাপে ধাপে ভালো আর্টিকেল লেখার পদ্ধতি তুলে ধরছি যাতে করে  সহজেই সার্চ ইঞ্জিনে আপনার লেখা ভালো স্থান করে নেয়।

রিসার্চ

আপনি যত এক্সপার্টই হোন না কেন চেষ্টা করবেন যে বিষয়ের উপর লিখবেন সে বিষয়ে লেখার আগে খানিকটা রিসার্চ করে নিতে। এমন অনেক কিছুই থাকতে পারে যা হয়তো আপনার জানা নেই। এমন অনেক কিছুই থাকতে পারে যা হয়তো আপনি ভুল জানেন। অনেক কিছুই নতুন সংযোজন হতে পারে, অনেক কিছুই বিয়োজন হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, আমি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে জানি, কিন্তু আমি এই বিষয়ে সর্বশেষ পড়াশোনা করেছি ২০০৮ এ, তো এখন আমি যদি ২০০৮ এ শেখা জিনিসগুলোর উপর ভিত্তি করে লিখি তাহলে কি আমি আপনাদের সঠিক এবং সময়োপযোগী কিছু দিতে পারবো? মোটেও না, বেসিক কিছু ব্যাপার একই থাকলেও অভ্যন্তরীন আর বাহ্যিকভাবে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। অনেক কিছু নতুন এসেছে, অনেক কিছু বাদ হয়েছে। ২০০৮ এ মেটা কিওয়ার্ডস ব্যবহারের উপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হতো, কিন্তু ২০০৯ এর শেষের দিকে যখন গুগল ঘোষণা দিল যে গুগল  সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং এ মেটা কিওয়ার্ডসের একটুও মুল্যায়ণ করেনা, তখন সম্পূর্ণ ধারনা পাল্টিয়ে গেলো। এখন আমি যদি লিখি যে মেটা কিওয়ার্ড অনেক গুরত্বপূর্ণ বিষয়, তাহলে সেটা কি মোটেও ঠিক হবে এখনকার সময় অনুযায়ী? মোটেও না। কারণ মেটা কিওয়ার্ডস ২০০৮ এ কার্যকর থাকলেও ২০০৯ এ সেটা সম্পুর্ণই বাতিল হয়ে যায়।

তাই যে বিষয়ে লিখবেন সে বিষয়ে যথেষ্ট জেনে শুনে তারপরেই লেখা উচিৎ, ভুল তথ্য দিয়ে পাঠককে বিভ্রান্ত না করাই ভালো। আর লেখার সুবিধার্থে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে নেওয়াটাও বাঞ্ছনীয়।

খসড়া করে নেওয়া

ভালোভাবে লিখতে হলে খসড়া করে নেওয়াটা একটা জরুরী বিষয়। যারা নতুন নতুন লিখতে শুরু করেছেন তাদের জন্যে খসড়াটা অতীব গুরত্বপূর্ণ। কারণ এমন হতে পারে যে, আপনি লেখার শুরু আগে অনেক কিছু ভাবলেন। কিন্তু লিখতে গিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা যা বলবেন বলে ভেবেছিলেন সেগুল ভুলে যেতে পারেন। তাই চেষ্টা করবেন যেকোনো বিষয়ে লেখার আগে খসড়া করে নিতে যাতে করে কোন কিছুই মিস না হয়ে যায়। আর যাদের নিয়মিত লেখার অভ্যাস আছে তাদের ক্ষেত্রে খসড়াটা ততটা প্রয়োজনীয় না হলেও আমি খসড়া লিখতেই রিকমেন্ড করবো।

অনুকরণ করবেন না

আপনি হয়তো অনেক ব্লগারের লেখা পড়েছেন, তাদের অনেকেই হয়তো ভালোভাবে গুছিয়ে লিখতে পারে, কেউ হয়তো কঠিন কিছু বিষয়কে সহজেই বুঝিয়ে ফেলতে পারে। আপনি স্বাভাবিকভাবেই তাদের মতো করে লিখতে চাইবেন, তাদের অনুকরণের চেষ্টা করবেন। কিন্তু আমার মতে সেটা করাটা ঠিক নয়, আপনার নিজস্ব ব্যক্তিসত্বা আছে। কারো অনুকরণ করতে গিয়ে নিজের মেধাকে পদদলিত করবেন না। নিজের উপর আস্থা রাখুন, বিশ্বাস করুন নিজের উপর, ভাবুন আপনিও লিখতে পারবেন।

অন্যের অনুকরণ  না করে নিজেকেই বিকশিত করুন, যাতে অন্য কেউ আপনার অনুকরণ করতে চায়। প্রথমবার লিখেই যে আপনি ভালো লিখবেন এমন না, চেষ্টা করুন, নিয়মিত লিখুন। কে জানে আপনিই একদিন অন্য কারো আদর্শ হয়ে উঠতে পারেন। শুভকামনা।

অনুরকরণ করার সাথে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর কি সম্পর্ক এই প্রশ্নটা মাথায় আসাটা স্বাভাবিক। আপনি কারো অনুকরণ করলে নিজের স্বকীয়তা থাকবেনা, ফলে আপনি কখনোই ভালো আর্টিকেল লিখতে পারবেন না। তাই অনুকরণ পরিহার করা উচিৎ।

কিওয়ার্ড ব্যবহার

সার্চ ইঞ্জিনে ভালো র‍্যাঙ্ক পাওয়ার পিছে ভালো লেখার সাথে সাথে কিওয়ার্ডের সঠিক ব্যবহারও অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এদের একটি ছাড়া আরেকটি অচল। তবে লেখার মানের উপরেই বেশি গুরত্বারোপ করা উচিৎ। যে কিওয়ার্ডটির উপর ফোকাস করা হবে তা টাইটেলে, মেটা ডিসক্রিপশনে আর মূল আর্টিকেল বা লেখায় অবশ্যই থাকতে হবে। তবে তার মানে এই না যে কিওয়ার্ড দিয়ে টাইটেল, মেটা ডিসক্রিপশন আর আর্টিকেল ভরিয়ে রাখতে হবে। টাইটেলে আর ডিস্ক্রিপশনে একাধিকবার যদি প্রয়োগের প্রয়োজন না পরে, তাহলে একবারই ব্যবহার করা ভালো

একটা সময় ছিলো যখন কিওয়ার্ড ডেনসিটি নিয়ে অনেকেই মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে শুরু করে দিতো, হয়তো এখনো অনেককে পাওয়া যাবে যারা কিওয়ার্ড ডেনসিটি নিয়ে অতিরিক্ত ভাবছেন। কিওয়ার্ড যত বেশি ব্যবহার করা হবে সাইটের র‍্যাঙ্ক করার সম্ভাবনা তত বেশি এটা একটা ভুল ধারণা। আপনি মানুষের জন্যে লিখছেন, সার্চ ইঞ্জিনের জন্যে না। আর সার্চ ইঞ্জিন এমন লেখাকেই প্রাধান্য দিবে যা পাঠকের জন্যে উপকারী, পাঠকের পাঠের উপযোগী। লেখার সময় যেখানে যেখানে আপনার কিওয়ার্ড অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে, ঠিক সেখানেই কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন। অযথা কিওয়ার্ড ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।  ম্যাট কাটসের এই ভিডিওটি দেখে নিতে পারেন কিওয়ার্ড ডেনসিটি নিয়ে।

ছবির ব্যবহার

আপনি একজন পাঠক হিসেবে অবশ্যই লেখাতে যেখানে প্রয়োজন সেখানে  মানানসই ছবি দেখতে চান। আপনার এই চাহিদার কথা ভেবেই সার্চ ইঞ্জিনও মানানসই ছবিকে মুল্যায়ন করে। আপনার লেখায় যেখানে যেখানে প্রয়োজন ছবি ব্যবহার করুন, মাত্রাতিরিক্ত না। যেখানে প্রয়োজন মনে করবেন কেবল সেখানেই ছবি ব্যবহার করুন, আর ছবির অল্ট ট্যাগ ঠিক মতো দিন। এতে করে সার্চ ইঞ্জিন বুঝবে আপনার ছবিটি কি নিয়ে, ফলে কেউ উক্ত বিষয়ে সার্চ করলে আপনার ছবিকেও দেখানোর সম্ভাবনা থাকবে।+

আপনার লেখার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবিই কেবল দিবেন, আপনি যদি লিখেন বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আর ছবি দেন বাংলাদেশের পদ্মা নদীর তাহলে সেটা মোটেও ভালো কিছু হলোনা। আপনাকে সামঞ্জস্যতার কথা অবশ্যি মাথায় রাখবেন।

ইউ আর এল স্ট্র্যাকচার

লেখা পাবলিশ হয়ে গেলে যে ঠিকানায় আপনার লেখা পাওয়া যাবে সেটাকে বলে ইউ আর এল। আর সার্চ ইঞ্জিনে ভ্যালো র‍্যাঙ্ক পেতে ইউ আর এল স্ট্রাকচার ভালো হতে হবে। মেইন কিওয়ার্ড অবশ্যই ইউ আর এল এ থাকতে হবে। 🙂

শেষ কথা

যে বিষয়ে লিখছি সে বিষয়ে আমি মোটেও এক্সপার্ট নই। আমি আমার সীমাবদ্ধ জ্ঞানের মধ্যে থেকেই লেখার চেষ্টা করেছি নিজের মতো। অনেক কিছুই বাদ পরে যাওয়া স্বাভাবিক। আর উপরের সব কিছু নিশ্চিত করার পরেও যে সাইট প্রথম সারিতে দেখাবেই এমন কোন নিশ্চয়তা আমি দিতে পারছিনা। ধন্যবাদ। 🙂

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়