8

কেন সুন্দর মন থাকা জরুরী ?

বিশাল জমজমাট পার্টি হচ্ছে, অনেক মানুষের সমাগম। মানুষের কোলাহলে চারপাশ মুখরিত। এমন সময় একজন সুদর্শন পুরুষ, দামী কাপড়-চোপড় পরে আসলো। উজ্জ্বল চেহারা, সুঠাম দেহ, দারুণ চুল, সব মিলিয়ে দারুণ মানুষ মনে হচ্ছে বাহ্যিকভাবে। কিন্তু এতোকিছুর পরেও সে খুব চুপচাপ, আনমনে নিজেকে নিয়েই ডুবে আছে। পার্টিতে উপস্থিত মানুষদের যারা তার পরিচিত তারা যখন কথা বলতে যাচ্ছে তার সাথে, তখন হতাশ হয়ে ফিরে আসছে।  কারণ সে কারো সাথেই আন্তরিক না। নিতান্তই ভদ্রতা রক্ষার্থে দুই-একটা কথা বলছে শুধু। এর বাহিরে কিছুই না।

কিন্তু সেই পার্টিতেই অন্য এক পাশে আরেকজনকে দেখা যাচ্ছে। তেমন আহামরী সুদর্শন না, কাপড় চোপড় ও তেমন না। চেহারায় ঔজ্জ্বল্য নেই, দেখতে একদম রোগা। কিন্তু তাকে ঘিরে বেশ অনেকজন মিলে আড্ডা দিচ্ছে। কেউ তার সাথে কথা বলার পর হতাশ হচ্ছে না, বরং ভালো অনুভব করছে।

আসলে কি হচ্ছে এখানে?

একটা মানুষ তার শরীরকে আকর্ষণীয় করতে অনেক কিছুই করতে পারে। জিম এ গেলে শরীরের গঠন ঠিক করতে হাজারো ব্যায়ামের দেখা মিলবে। এছাড়া আরও অনেক উপায়ই আছে ভালো শরীর পাওয়ার জন্যে। চেহারাকে আকর্ষণীয় করতে বাজারে হাজারো প্রোডাক্ট পাওয়া যায়, চুলকেও চাইলে অনেকভাবেই রংচঙ্গা করে তোলা যায়। কিন্তু তাতে কি আসলেই খুব বেশি লাভ হয়ে যাচ্ছে?

উপরের দুইজনকে নিয়ে ভাবা যাক একজন সুদর্শন হওয়ার পরেও একা একাই আছে, খুব বেশি দাম পাচ্ছেনা কারো কাছে, মানুষ হতাশ হচ্ছে তার সাথে কথা বলে। অথচ আরেকজন, রোগা, খুব একটা সুন্দর না, কিন্তু তাকে ঘিরে রয়েছে মানুষের আড্ডা। মানুষ তার সান্নিধ্য কামনা করে। কেউই তার সাথে কথা বলে কিংবা তার সাথে মিশে হতাশ হচ্ছেনা।

মন

তাহলে তাদের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করলো কে? তাদের মন তাদের ব্যক্তিত্য আর তাদের মনই তাদের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে দিলো। সুন্দর মন আর ভালো ব্যক্তিত্য থাকার কারণে একজন মানুষদের কাছে আকর্ষনীয় হয়ে উঠছেন আরেকজন অনাকর্ষনীয় হয়ে উঠছেন। একটা মানুষ বাহ্যিকভাবে যতটা সুন্দরই হোক না কেন, ভেতরে ভেতরে ঠিক ততটাই কুৎসিত হতে পারে। আমরা সবাই বাহ্যিক সৌন্দর্যটাকেই দেখি। এটাকেই প্রতিনিয়ত বেশি বেশি করে মনোযোগ দেই, অথচ যে জিনিসটা আর দশটা মানুষের মনে দাগ কাটতে পারে সেই জিনিসটাকেই আমরা অবহেলা করি।

মানুষের ব্যক্তিত্য আর মন-মানসিকতায় মানুষকে জীবন্ত করে রাখে, তার সৌন্দর্য তা পারেনা। হয়তো সৌন্দর্য মানুষকে কাছে আনতে পারে, তবে সেটা নিতান্তই সাময়িক সময়ের জন্যে। কিন্তু চিরস্থায়ী দাগ কেটে যায় একমাত্র ভালো মনের মানুষই। আমাদের সকলকে চেষ্টা করতে হবে অভ্যন্তরীন সৌন্দর্য মানে মনকেও সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার।

গম্ভীর মানুষের চেয়ে হাসিখুশি মিশুক মানুষকেই সবাই প্রাধান্য দেয়। এমন কাউকেই সবাই পছন্দ করে যে কারো দুঃসময়ে দুহাত বাড়িয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না, কোন রকম প্রাপ্তির আশা ছাড়াই সহায়তা করে। তাই চেষ্টা করুন মানুষকে সহায়তা করার, তাকে হাসাবার, তাহলেই অন্যের কাছে প্রিয় হয়ে উঠতে পারবেন। শুরুর দিকে যে অবাস্তব ঘটনা তুলে ধরা হলো সেখানে সুন্দর মানুষটির চেয়ে কম সুন্দর মানুষটিই তার সুন্দর মন আর ভালো ব্যক্তিত্বের কারণে অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছিলো।

জন্মের সময় আপনি একটি নির্দিষ্ট চেহারা আর দেহ নিয়ে আসেন। ঘষে-মেজে সেটার খানিকটা পরিবর্তন হয়তো করতে পারবেন, কিন্তু গায়ের রং কালো হলে সেটাকে একদম সাদা করে তুলতে পারবেন না, তেমনই সাদা হলে সেটাকে একদম কালো করে তুলতে পারবেন না । কিন্তু জন্মের পর যেমন নিষ্পাপ মন নিয়ে জন্মেছিলেন চাইলে যেকোনো সময় ঠিক তেমন করতে না পারলেও অনেকটাই ভালো করে তুলতে পারবেন।

সুন্দর মন আর ভালো ব্যক্তিত্যের জন্যে সবচেয়ে দরকারী হচ্ছে উদার মনের হওয়া। উদার না হলে কখনোই সুন্দর মনের অধিকারী হতে পারবেন না। অবশ্যই আপনাকে আপনার ধর্মীয় অনুশাসনগুলো মানতে হবে এবং অবশ্যই তা যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে। ধর্মগ্রন্থগুলো সবসময়েই একটা মানুষকে বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করেই কাজ করতে বলে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে –

তিনিই তো তোমাদেরকে অজৈব পদার্থ (ধুলা) থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর এক ফোঁটা তরল (পুরুষ, মহিলার শুক্র বিন্দু) থেকে, তারপর একটি গেঁথে থাকা ঝুলন্ত অবয়ব (ভ্রূণ) থেকে, তারপর তিনি তোমাদেরকে বের করে নিয়ে আসেন শিশু অবস্থায়, তারপর তিনি তোমাদেরকে শক্ত সামর্থ্য [যৌবন, প্রাপ্ত বয়স্ক] হতে দেন, তারপর তিনি তোমাদেরকে বৃদ্ধ হতে দেন – যদিও তোমাদের কেউ কেউ তার আগেই মারা যাও – এবং তোমাদেরকে তোমাদের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পৌঁছাতে দেন এবং যাতে করে তোমরা আ’ক’ল (বিচার-বুদ্ধি) ব্যবহার কর

এতটুকু মনে রাখা উচিৎ একজন মানুষ যদি ভালো হয় তখন কেউ তার চেহারা, পোষাক-আশাক দেখবেনা, তার অঢেল টাকা আছে কিনা সেটা কেউ দেখতে যাবেনা। তার প্রধাণ পরিচয় হবে তিনি একজন ভালো মনের মানুষ। 🙂 সুন্দর মনের মানুষ হওয়ার চেষ্টা করুন। আর এর জন্যে প্রথম ধাপটা শুরু করুন বাবা-মার সাথে ভালো ব্যবহার করে, তাদেরকে নিয়মিত যথেষ্ট সময় দিয়ে, তাদের সাথে কথা-বার্তা বলে।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়