৬টি বিষয় যা আপনার সৃজনশীলতা নষ্ট করছে !

সৃজনশীলতা

আজকে আপনি এমন কোন বিশেষ কাজ করেছেন যা আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আপনাকে এক ধাপ এগিয়ে দিবে? আচ্ছা, এক সপ্তাহই নাহয় ধরুন, করেছেন এক সপ্তাহে এমন কোন বিশেষ কাজ? বেশিরভাগ পাঠকের ক্ষেত্রেই উত্তরটা হবে “না”। আর যাদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম তারা নিজেদেরকে ভাগ্যবান মনে করতে পারেন। :wink:

সবাই বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখে। কেউ সেটা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আবার কেউ শুধু ভাবেই। স্বপ্ন বাস্তবায়ন এমনি এমনিই তো আর হয়না। এর জন্যে সঠিক পরিকল্পনার দরকার আর দরকার পরিকল্পনা অনুযায়ী কঠোর শ্রম। বেশিরভাগ মানুষই অনেক চাওয়ার পরেও তার স্বপ্নকে বাস্তব করার জন্যে যথাযথ কাজ করে উঠতে পারেন না। হয়তোবা আপনি একটু চাইলেই সৃজনশীল কিছু করে ফেলতে পারেন। কিন্তু আর দশটা মানুষের মতোই কিছু বিষয় প্রতিনিয়ত আপনার জান্তে-অজান্তে নষ্ট করছে সৃজনশীলতা।

চলুন সেই খলনায়কগুলোকে খুঁজে বের করি।

মাল্টিটাস্কিং

মাল্টিটাস্কিং বলতে আমি বোঝাচ্ছি একইসাথে একাধিক কাজে মনোনিবেশ করাকে। আমাদের ধারণা আমরা প্রতিনিয়ত মাল্টিটাস্কিং এর মাধ্যমে আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় বাঁচিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু সব কিছু মিলিয়ে ভাবলে দেখা যাচ্ছে মাল্টিটাস্কিং এ ক্ষতি বৈ লাভ কিছু হচ্ছেনা।

আমি খেয়াল করেছি ,যখন আমি ব্লগিং করার পাশাপাশি মোবাইলে মেসেজিং, ফেইসবুকে চ্যাট, মেইলের উত্তর দেয়া ইত্যাদি কাজগুলো একসাথে করি তখন একটা মাঝারি আকারের লেখা লিখতেই দুই থেকে তিন ঘণ্টা, কখনো কখনো তার চেয়েও বেশি লেগে যায়। অথচ যখন আর সব কিছু বাদ দিয়ে আমি শুধু লেখায় মনোনিবেশ করি তখন পৌনে এক ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যেই একটা মাঝারি আকারের লেখা দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারি।

মাল্টি টাস্কিং এর কারণে কাজে ভুল হবার সম্ভাবনা থাকে, একসাথে অনেকগুলো কাজ করার দরুন আমরা অতি ব্যস্ত হয়ে পড়ি যা মানসিক অশান্তি তৈরি করে। ব্রেইনের উপর অতিমাত্রায় চাপ সৃষ্টি হয়। তাছাড়া মনে রাখার প্রবণতাও কমে যায়। আপনি আজকে একটা মুভি দেখলে তার পরদিনও মুভির বেশিরভাগ অংশই মনে রাখতে পারবেন। কিন্তু একদিনে যদি ৫টা মুভি দেখেন তাহলে মনে রাখার প্রবণতাটা তুলনামূলক অনেক কম হবে।

আরও পড়তে পারেন - একসাথে অনেকগুলো কাজ করার ৮টি ক্ষতিকর দিক!

অতিমাত্রায় ঘুম বা কম ঘুম

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সুস্থভাবে থাকার জন্যে আমাদের ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমালেই হয়ে যায়। কিন্তু কোন কারণে এই ঘুমে ব্যাঘাত ঘটলে আপনার অজান্তেই ক্ষতি করতে শুরু করবে। ঘুম প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও যেমন সমস্যা; আবার ঘুম বেশি হলেও সমস্যা। পরিমিত ঘুম আপনাকে সারাদিনের জন্যে প্রস্তুত রাখতে যথেষ্ট।

প্রতিদিন গড়ে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। ঘুম কম হলে সারাদিনই একটা ঘুম ঘুম ভাব থাকবে। দুর্বল লাগবে, কোন কাজেই ঠিকভাবে মনোনিবেশ করতে পারবেন না। আর যদি ঘুম বেশি হয় তাহলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুমিয়ে আপনি আপনার মূল্যবান সময়কে হারাবেন…

এই লেখাগুলো কাজে আসতে পারে -

পরিকল্পনার অভাব

সৃজনশীল কিছু করতে হলে অবশ্যই পরিকল্পনা মাফিক কাজ করতে হবে। কি করবেন সেটার কোন পরিকল্পনা না থাকলে কখনোই সুষ্ঠুভাবে কাজ করা সম্ভব না। যেকোনো কাজ করার পূর্বে সেটা নিয়ে যথেষ্ট পরিকল্পনা করে সে অনুযায়ী কাজ করতে পারলে সফলতা অনেকাংশেই নিশ্চিত হয়ে যায়।

প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর পূর্বে আগামীকালের সব কাজ আর প্রতিটি কাজের সময় ভাগ করে নিন। আপনার চিন্তা-ভাবনা কোথাও লিখে রাখুন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আগের দিনের পরিকল্পনায় সংযোজন-বিয়োজন প্রয়োজন হলে করুন। আর সারাদিন আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী চলার যথেষ্ট চেষ্টা করুন। তাহলে নিজেকে আগের থেকে অনেক প্রোডাক্টিভ মনে হবে আপনার। :)

সময় ভাগ করে নেয়া শেখাটা সবার জন্যেই গুরুত্বপূর্ণ। এই গুণটা অর্জন করতে পারলে জীবনের অনেক বড় কিছু অর্জন করে নিলেন বলে ধরে নিতে পারেন :mrgreen: । এই ভিডিওটি নিঃসন্দেহে কাজে আসবে আশা করি।

 

ছাত্র-শিক্ষক মনোভাব না থাকা

ছাত্র-শিক্ষক মনোভাব বলতে শেখা এবং শেখানোকে বুঝাতে চাচ্ছি । সৃজনশীল কিছু করতে হলে প্রতিনিয়তই আপনাকে শেখার মধ্যে থাকতে হবে, চর্চা করতে হবে। কোন কিছুই শেখার শেষ নেই। সব বিষয়েই প্রতিনিয়ত নতুন কিছু যুক্ত হচ্ছে, পুরনো কিছু বাদ পড়ছে।

ধরে নেই ”মি.ডিজাইনার” একজন ক্রিয়েটিভ গ্রাফিক্স ডিজাইনার । সৃজনশীল ডিজাইনের জন্যে তিনি প্রসিদ্ধ। কিন্তু তার ভাব অনেক। ভাবের ঠেলায় তিনি অন্য কোন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাজ দেখেন না, তাদের থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করেন না। ধীরে ধীরে একসময় দেখা গেলো “মি.ডিজাইনারের” দাম কমে গেছে। তার স্থান দখল করে নিয়েছে তরুণ কোন ডিজাইনার।

তো মি.ডিজাইনারের অধঃপতন এর কারণ কি? সে অন্যের কাছ থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করতো না; নিজে যা পারতো তাই করতো। একজন সৃজনশীল মানুষ সব কিছু থেকেই কিছু শেখার চেষ্টা করবেন, আইডিয়া নিবেন সেটাই স্বাভাবিক। অর্থাৎ তার মধ্যে শেখার ইচ্ছা থাকবে তথা সে ছাত্রের ভূমিকা পালন করতে লজ্জাবোধ করবেন না।

আর যা শিখা হয় তা যদি অন্য কাউকে শেখানোর চেষ্টা করা হয় তাহলে সেই জ্ঞানটুকু ঝালাই হয়ে যায়। ভবিষ্যতে সেটা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।

ফেইসবুক

অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ার কিছু নেই। একটু ভাবলেই বুঝতে পারবেন প্রতিদিন আপনার কতটুকু মূল্যবান সময় মেরে দিচ্ছে ফেইসবুক। সকাল-সন্ধ্যা-রাত আমরা প্রতিনিয়তই নিজেদের অতি গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করছি ফেইসবুকে।

আমি ফেইসবুক বাদ দিতে বলছি না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে এর বিকল্প নেই। তবে সময়টাকে সংকীর্ণ করে নিতে হবে। সারাদিন এ নিয়ে থাকলে চলবেনা। আধা ঘণ্টা, ঊর্ধ্বে গেলে এক ঘণ্টা। এর চেয়ে বেশি সময় ফেইসবুকে থাকা মানেই সময়ের অপব্যয় করা।

“না” বলতে না পারা

এটাও আমাদের অনেক বড় একটা ব্যর্থতা যে আমরা “না” বলতে পারিনা। সবক্ষেত্রে না, তবে কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে না বলা শিখতে হবে। আপনার কাল পরীক্ষা, আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়ছেন। এ সময় বন্ধুদের ফোন এলো ঘুরতে যাওয়ার জন্যে। আপনার উচিৎ হবে না বলা। পরীক্ষাটা দিয়েই আপনি চাইলে ঘুরতে পারবেন। কিন্তু ঘুরে এসে পড়ার এই সময়টুকু পাবেন না।

ক্ষেত্র বিশেষে যখন আপনার নিজেকে নিজের সময় দেয়া প্রয়োজন, নিজের কাজের জন্যে সময় দেয়া প্রয়োজন তখন অন্যকে না বলাটা শিখে নিতে হবে। আপনি কাউকে কষ্ট না দিয়েও তাকে না বলতে পারেন। ধরুন আপনি অফিসে গভীর মনোযোগ দিয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন। এমন সময় আপনার কোন সহকর্মী এলো তার বোনের বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে। আপনি তাকে মুখের উপর মানা না করে দিয়ে বলতে পারেন “মি.আলু আমি আপাতত একটু ব্যস্ত আছি, কাজটা সেরেই তোমার সাথে এ ব্যাপারে আলাপ করবো”। ব্যস ! কেউ খানিকটা মন খারাপ করলেও নিজের স্বার্থে আপনাকে এইটুকু করতে হবে।

এবার পালা আপনার 

উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও আপনার নিজের কোন বিষয় থাকতে পারে যা আপনার সৃজনশীলতাকে নষ্ট করছে। সেগুলো খুঁজে বের করেন আর কমেন্টে জানান।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন :)
About আরিফুল ইসলাম পলাশ

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

Trackbacks

  1. […] সৃজনশীল চিন্তাভাবনা করা সম্ভব হয়না। ৬টি বিষয় যা আপনার সৃজনশীলতা নষ্ট করছে …-শিরোনামে আর্টিকেলটিতে সৃজনশীলতা […]

কেমন লাগলো পোস্ট? আপনার মতামত জানান

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়