হরতাল-অবরোধে সাইক্লিং করার ক্ষেত্রে যা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে…

দেশে বর্তমানে একের পর এক হরতাল হচ্ছে তো হচ্ছেই। থামার কোন নামগন্ধ নেই। না হচ্ছে কোন সমঝোতা, না কিছু। সব মিলিয়ে হযবরল অবস্থা। কিন্তু হরতাল-অবরোধ যাই থাক না কেন আমাদের দৈদন্দিন জীবনের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজগুলোতো আর থেমে থাকে না। সব কিছুর সাথে তাল মিলিয়ে সেগুলোও সাড়তে হবে। আর এজন্যে আমাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হতেই পারে। বাস, সি এন জি কিংবা নিজস্ব গাড়ির চেয়ে এক্ষেত্রে সাইকেল হতে পারে অন্যতম নিরাপদ পরিবহন। একই সাথে নিরাপত্তা আর গতি হাতের নাগালে এনে দিবে সাইকেল । হরতাল-অবরোধে সাইক্লিং করার ক্ষেত্রে কি কি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সেগুলো নিয়েই সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের পোস্ট ! 🙂

বিনা প্রয়োজনে বের না হওয়া

লেখার মূল টাইটেলের সাথে উপরের সাবহেডিং টা ঠিক খাপ খাচ্ছে না, তাইতো? টাইটেলে লিখেছি হরতাল-অবরোধে সাইক্লিং করার ক্ষেত্রে যা খেয়াল রাখতে হবে। আর উপরে লিখেছি বিনা প্রয়োজনে বের না হওয়া ! খানিকটা সাংঘর্ষিক। হরতাল-অবরোধে নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে না বের হওয়াটাই ভালো। কিছুদিন আগে একটা নিউজ রিপোর্ট দেখেছিলাম, সেখানে হোন্ডা থেকে একজন কে নামিয়ে বেধড়ক পেটানো হচ্ছে। কোনদিন যে কোন সাইক্লিস্টকেও এমন করুণ পরিণতি বরণ করে নিতে হবেনা তার নিশ্চয়তা কে দিবে? তাই প্রয়োজন না হলে বাসাতেই থাকার চেষ্টা করুন।

কোথাও যাওয়ার আগে সেখানকার সামগ্রিক পরিস্থিতির সম্পর্কে ধারণা রাখা

যদি কোথাও যাওয়ার খুব প্রয়োজন পড়ে তাহলে সেখানে যাওয়ার পূর্বে সেখানকার সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নিন। খবর দেখুন, সেখানে থাকে এমন কোন বন্ধু-বান্ধবকে পরিস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। ফেইসবুকেও স্ট্যাটাস দিতে পারেন। যদি আপনার ফ্রেন্ড সার্কেলের কেউ ঐ এলাকার আশেপাশে গিয়ে থাকে তাহলে সে জানাতে পারবে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে। পরিস্থিতি খারাপ থাকলে, সেটার উন্নতি হওয়ার অপেক্ষা করুন। সব ঠিক ঠাক থাকলে এরপর যেতে পারেন। আর অনেক স্থানে যাওয়ার একাধিক রাস্তা আছে। সেক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট স্থানে খারাপ পরিস্থিতির ব্যাপারে নিশ্চিত করতে পারলে সে রাস্তা এড়িয়ে অন্য রাস্তা ব্যবহার করুন।

কোথাও বিকট শব্দ শুনলে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়া

বর্তমানে যে পরিমাণ ককটেল ফাটে সে পরিমাণ আর কখনই ফাটে নি। সাইকেল চালানোর সময় যদি আশেপাশে কোথাও বিকট শব্দ শুনেন তাহলে সাথে সাথে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে আশেপাশে গলি থাকলে সেখানে ঢুকে পড়ুন। এতে নিজেকে অনেকটাই নিরাপদ রাখতে পারবেন। তাছাড়া আশেপাশে বোমা-টোমা ফাটলে রাস্তায় গাড়ি যা থাকে তারা নিজেদের নিরাপদ করার জন্যে পাগলামি শুরু করবে সেটাই স্বাভাবিক। আর তখন আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না তাদের নিচে পড়তে। সেজন্যে কোথাও বিকট শব্দ শোনা মাত্রই নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার চেষ্টা করুন !

যথাসম্ভব মেইন রোড এড়িয়ে গলি ব্যবহার করা

হরতাল-অবরোধের কার্যকলাপ মূলত মেইন রোডেই সীমাবদ্ধ থাকে। ধাওয়া পালটা ধাওয়া শুরু না হলে সাধারণত পাড়া-মহল্লার গলিতে হরতাল-অবরোধকারীরা ঢোকে না। এভাবে বিবেচনা করলে মেইন রোডের তুলনায় গলি বা মহল্লার ভেতরের রাস্তাই বেশি নিরাপদ। তাই কোথাও যাওয়ার ক্ষেত্রে যদি গলি টলিওয়ালা রাস্তা চিনেন তাহলে সেখান দিয়েই যাতায়াত করুন।

পুলিশ চেক করতে চাইলে থামা

সন্দেহ হলে পুলিশ যে কাউকেই চেক বা তল্লাশি করতে পারে । আপনিও হতে পারেন সন্দেহভাজন। তাই পুলিশ চেক করতে চাইলে থামুন। তাদেরকে তাদের মতো করে চেক করতে দিন। যেহেতু আপনার কাছে বিপজ্জনক কিছু নেই তাই আপনার ভয় পাওয়ারও কিছু নেই। কিছু থাকলে কথা আলাদা 😉  😆

যারা বি এন পি অফিসের আশেপাশে থাকেন তারা হয়তো ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকবার এমন অবস্থায় পড়েছেন হয়তো ! পুলিশকে তাদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করুন ! তারা আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এগুলো করছে। 🙂 হরতাল-অবরোধে সাইক্লিং করুন, তবে নিজেকে নিরাপদ রেখে। Happy Cycling 🙂

সাইক্লিং সম্পর্কে আমাদের আরও লেখা –

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়