হীরা কি ও কেন এতো দামী এবং হীরা সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য !

হীরা ! শব্দটি শোনামাত্রই আমাদের কল্পনায় ভেসে ওঠে অতিমাত্রায় উজ্জ্বল ধবধবে কোন পদার্থের কথা ! সৌখিন মানুষদের মধ্যে যাদের টাকা পয়সার কমতি নেই তারা তো হীরা নিয়ে রীতিমতো তুলকালাম শুরু করে দেন। হীরার গহনা, হীরার আংটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে হীরার ব্যবহার করেন। যাদের সেই সাধ্য নেই তাদের শুধু হীরা দেখেই দুধের সাধ ঘোলে মিটাতে হয়। অনেক মেয়েরই হয়তো স্বপ্ন থাকে তার বর থাকে হীরার আংটি দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিবে আর ছেলেদের ক্ষেত্রেও অনেকের এমন ইচ্ছা থাকে যে প্রিয় মানুষকে হীরার আংটি দিয়েই বিয়ের প্রস্তাবটা দিবে। বাংলাদেশের মানুষও সৌখিনতায় পিছিয়ে নেই। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে অনেক স্থানে ভালো হীরার গহনা আর আংটির দোকান আছে। বেইলী রোডের আশেপাশে বেশ কিছু বিলবোর্ডও দেখা যায় শুধু হীরার ব্যবসা করে এমন অনেক দোকানের। এই লেখায় হীরা কি এবং এতো দামী হওয়ার কারণ সামান্যভাবে তুলে ধরা হবে।

হীরা

হীরা কি?

হীরা বলতে চোখের সামনে যে সাদা ধবধবে উজ্জ্বল বস্তু ভেসে ওঠে শুধু তাকেই বোঝায় না। এছাড়াও অন্য রঙের হীরাও আছে। হীরা আপাতত মানুষের জানা সবচেয়ে কঠিন পদার্থ [১]। শুধুমাত্র কার্বন দিয়েই তৈরি হয় হীরা। একটি হীরা পাথর তৈরি হতে সময় লাগে কয়েক বিলিয়ন বছর ! চিন্তা করা যায়? 😉 এতো দীর্ঘসময়ের ফলাফল হিসেবে আমরা অল্প কিছু হীরা পাচ্ছি ! সাদা হীরার পাশাপাশি কালো, সবুজ, নীল বাদামী, হলুদ, লাল, গোলাপি, বেগুনী সহ আরো কিছু রঙের হীরা পাওয়া যায় !

হীরা এতো দামী কেন?

হীরা কেবল সৌখিন বড়লোকদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে আছে, এর পিছনে কাজ করছে এর আকাশচুম্বী দাম ! সামান্য একটু হীরার বাজারদর অনেক হতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২০৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় জেনেভায় বিক্রি হয়েছে আফ্রিকার বোতসোয়ানা খনি থেকে প্রাপ্ত একটি দুর্লভ নিখাত হীরা ! এতো দাম কেন হীরার? হীরার দুর্মূল্যের পেছনে রয়েছে এর দুষ্প্রাপ্যতা। পৃথিবীতে যেসব দুষ্প্রাপ্য পদার্থ রয়েছে তার মধ্যে হীরা অন্যতম।

একটি হীরার দাম কেমন হবে তা নির্ভর করে তার প্রাপ্যতা বা দুষ্প্রাপ্যতার উপর, এর রঙের উপর, এটি কতটা নিখাদ তার উপর আর এর ঔজ্জ্বল্যের উপর। তবে ক্রেতারা অন্য সব কিছু ছাড়িয়ে ঔজ্জ্বল্যকেই সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আর সবচেয়ে মজার কথা হল হীরার কোন বিকার হয়না, অর্থাৎ হাজার হাজার বছর পরেও হীরার নষ্ট হয়ে যাওয়ার কোনরূপ সম্ভাবনা নেই।

হীরা সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য ! (জানাও হতে পারে 😉 )

১.ধারণা করা হয় সর্বপ্রথম হীরা আবিষ্কার হয় ভারতবর্ষে !

২.শুধুমাত্র হীরা দিয়েই হীরাকে কাটা যায়।

৩.পৃথিবীর প্রায় ৫০ ভাগ হীরা আফ্রিকাতেই পাওয়া যায়।

৪.স্বর্ণের ক্ষেত্রে ক্যারেট বিশুদ্ধতার একক হলেও হীরার ক্ষেত্রে ক্যারেট হচ্ছে ভরের একক।

হীরা ২

৫.হীরা কিন্তু খনি থেকে এতো সুন্দর অবস্থায় পাওয়া যায়না। একে কেটে পালিশ করে এমন সুন্দর রূপ দেয়া হয়।

৬.রঙ্গীন হীরাগুলোর মধ্যে লাল রঙের হীরা সবচেয়ে কম পাওয়া যায়। বাংলায় একে রক্ত হীরকও বলে।

৮.বাংলাদেশে কোন হীরার খনি না থাকলেও হীরা কাটার কারখানা রয়েছে। বিদেশ থেকে খনিজ হীরা আমদানী করে সেগুলোতে হীরা কাটা আর পালিশ করা হয়ে বিভিন্ন জুয়েলারীর দোকানে বিক্রি করা হয়।

তো এই ছিল হীরা নিয়ে আজকের হুদাই প্যাচাল ! ! 🙂

[১]মানবসৃষ্ট  কার্বন ন্যানোটিউব পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন পদার্থ

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

কেমন লাগলো পোস্ট? আপনার মতামত জানান