Zip এবং GZip ফাইলটাইপের মধ্যে পার্থক্য কি?

জিপ ফাইল (Zip) এবং জি-জিপ ফাইল (GZip) ফাইল হল ফাইল কম্প্রেসিং এর বহুল পরিচিত দু’টি ফাইল টাইপ। জিপ মেথডে কমপ্রেস করা ফাইল প্রায় সব কম্পিউটার ব্যবহারকারীরই দেখে থাকার কথা। যে ইন্টারনেটে শুধু পাইরেটেড গান-সফটওয়্যার ডাউনলোড করে সেও আর কিছু না হোক জিপ ফাইল সম্পর্কে থাকে। কারণ বেশিরভাগ ফাইলই জায়গা কমানোর জন্যে জিপ করে রাখা হয়। তবে জিপ ফাইল-টাইপ খুব বেশীমাত্রায় পরিচিত হলেও জি-জিপ ফাইল-টাইপ মানুষের কাছে খুব বেশি একটা সমাদৃত নয়। সে কারণে অনেকেই হয়তো এই ফাইল টাইপ সম্পর্কে জানেন না। এই লেখায় এই দুই ফাইল টাইপ এর ছোটখাটো পার্থক্য দেখানো হবে।

তবে জেনে অবাক হবেন যে জিপ থেকে জি-জিপ ফাইল কমপ্রেস করার জন্যে ভালো। বিশেষ করে যখন অনেক সংখ্যক ফাইল থাকে। অর্থাৎ ফাইলের সংখ্যা যখন বেশি তখন জিপ থেকে জি-জিপই বেশি কাজে দিবে। তাছাড়া অন্য ক্ষেত্রেও…

যেসব সফটওয়্যার জিপ ফাইল তৈরি করতে পারে তারা একই সাথে ফাইলকে কমপ্রেস করে এবং একটা আর্কাইভ ফাইল তৈরি করে। অর্থাৎ জিপ একই সাথে দু”টি কাজ করতে পারে। তবে জি-জিপ শুধুমাত্র ফাইলকে কমপ্রেসই করতে পারে, আর্কাইভ করে একটি নির্দিষ্ট ফাইল তৈরি করতে পারেনা। আর্কাইভ করার জন্যে জি-জিপ এর নির্ভর করতে হয় মূলত টার ফাইল-টাইপের উপর। সেই কারণেই জি-জিপ ফাইল টাইপ দেখতে অনেকটা এমন হয় *.tar.gz । কিন্তু জিপ দেখতে এমন হয় *.zip ।

উপরের আলোচনায় জি-জিপকে একটু বেশি ভালো ফাইল-টাইপ মনে হলেও এর ঝামেলাও আছে। ধরি যাক আমরা ১জিবি সাইজের ১০টা ফাইলকে কম্প্রেস করবো। এখন জিপ ফাইল তৈরি করতে চাইলে, প্রতিটা ফাইল আগে কমপ্রেস হবে এরপর তা একটা জিপ ফাইলে আর্কাইভ আকারে দেয়া হবে। কিন্তু জি-জিপ ফাইল তৈরি করতে চাইলে প্রথমে প্রতিটা ১জিবি ফাইল একত্রে টার ফাইল হিসেবে আর্কাইভ হবে, এরপর সেই টার ফাইলকে জি-জিপ ফর্মেটে কমপ্রেস করা হবে। এখন যদি আর্কাইভ থেকে একটা ১জিবি ফাইল ডিকমপ্রেস করতে চাই তাহলে জিপ এর ক্ষেত্রে শুধু ১ জিবি ফাইলটাকে ডিকমপ্রেস করলেই চলবে। কিন্তু জি-জিপ এর ক্ষেত্রে পুরো আর্কাইভটাকে ডিকমপ্রেস করে তারপর ১জিবি ফাইলটাকে নিতে হবে। এর মানে দেখা যাচ্ছে জিপ এ একটা একটা বা একাধিক ফাইল একসাথে ডিকমপ্রেস করতে চাইলে তা আলাদাভাবে করা সম্ভব। কিন্তু জি-জিপ এর ক্ষেত্রে তা সম্ভব না। পুরো আর্কাইভকেই ডিকমপ্রেস করে কাজ করতে হবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে জি-জিপ ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

তবে জি-জিপ যেহেতু একটা আর্কাইভ মানে একটা বিশাল ফাইলকে কমপ্রেস করে তাই এর কমপ্রেশন মেথড তুলনামূলক-ভাবে ভালো। পক্ষান্তরে জিপ প্রতিটা ফাইলকে আলাদাভাবে কমপ্রেস করে এরপর একটা আর্কাইভ তৈরি করে। তাই যদি আপনি ১০০টা ফাইলকে জি-জিপ করেন আর জিপ করেন সেক্ষেত্রে জি-জিপ ফাইলের সাইজ হবে জিপ ফাইলের তুলনায় অনেক অনেক কম।

নানাবিধ ঝামেলার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, তাই সময় বের করে ভালো কিছু লেখা সম্ভব হচ্ছেনা। জানি এই টাইপের পোস্ট কারো ভালো লাগার কথা না, তাও অনেকের জানার প্রয়োজন থাকতে পারে। সেই কারণেই দেয়া। চেষ্টা করবো সব ঝামেলা এড়িয়ে লেখার জন্যে যথেষ্ট সময় বের করার। 🙂

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি

চুলের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায়