অন পেজ অপটিমাইজেশন – সর্বোচ্চ ফলাফল পাওয়ার উপায়

অন পেজ অপটিমাইজেশন কখনোই খুব সহজ কিছুনা। বাধা ধরা কোন নিয়ম নেই যা মেনে চললে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া সম্ভব। একটা সময়ে কিছু টেকনিক ছিলো, যা মানলেই ওয়েবসাইটের হাই র‍্যাঙ্ক অনেকটাই নিশ্চিত। কিন্তু সে দিন আর এখন নেই। ব্যবহারকারীদের তথা পাঠকদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে সার্চ ইঞ্জিন গুলো সদা তৎপর। এ দিক থেকে গুগল সবচেয়ে এগিয়ে আছে। যারা গুগলে সার্চ করছেন তাদেরকে কাঙ্ক্ষিত এবং সেরা ফলাফল দিতে গুগল  সবসময়েই কাজ করে যাচ্ছে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কোর্স এর এ পর্বে অন পেজ অপটিমাইজেশন সম্পর্কে কিছু বিষয় আলোচনা করা হবে, যা শুধুমাত্র বর্তমান সময়ের জন্যে না, ভবিষ্যৎ এও সর্বোচ্চ ফলাফল দিতে সক্ষম।

আবারও বলছি, অন পেজ অপটিমাইজেশন এর জন্যে বাধা-ধরা কোন নিয়ম নেই যা করলে হাই র‍্যাঙ্ক নিশ্চিত। অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে আর ওয়েবসাইটকে ইউজার ফ্রেন্ডলি করে তুলতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে যেন পাঠক  বিরক্ত না হয়, পাঠক যেন সাইটের স্ট্রাকচার দেখে ব্যাক বাটনে ক্লিক করে না বেরিয়ে যায়। পাঠককে ওয়েবসাইটে ধরে রাখতে চেষ্টা করতে হবে। যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যানার, এড কিংবা এলোমেলো লেখা দিয়ে পাঠককে বিভ্রান্ত করা উচিৎ নয়।

যথাযথ কিওয়ার্ড ব্যবহার করা

আপনি যে বিষয়ে লিখছেন বা কনটেন্ট তৈরী করছেন ঠিক সে বিষয়ের সাথে মানানসই কিওয়ার্ড নির্বাচন করবেন। এতে করে সার্চ ইঞ্জিন বট সহজেই বুঝতে পারবে যে আপনার পেইজটি কোন বিষয়ের সাথে সবচেয়ে বেশি মানানসই। ধরা যাক একজন আলু ব্যবসায়ী মিষ্টি আলু নিয়ে লিখেছেন তার ব্লগে। এখন সে যদি সেই আর্টিকেলে “মিষ্টি আলু” শব্দটি কোথাওই না লিখে তাহলে সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে বুঝবে যে পেইজটি মিষ্টি আলু সম্বন্ধীয়? সেক্ষেত্রে পেইজের টাইটেলে, ইউ আর এল এ এবং আর্টিকেলের মাঝে অবশ্যই “মিষ্টি আলু” শব্দটির প্রাধাণ্য থাকতে হবে। তবে এর মানে এই না যে সমস্ত পেইজ তা লিখে ভরে ফেলতে হবে। যেখানে যেখানে শব্দটি ব্যবহার করা উচিৎ, সেখানে শব্দটি অবশ্যই ব্যবহার করবেন, আর যেখানে ব্যবহার না করলেও চলে সেখানে এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ। বিভিন্ন  জায়গায় আপনি হয়তো কিওয়ার্ড ডেনসিটির কথা শুনে থাকতে পারেন। আপাতত আমার মন্তব্য হচ্ছে, এই ব্যাপারটা সম্পূর্ণভাবে ভুলে যান। স্বাভাবিকভাবে লেখার মাঝে প্রয়োজনীয় স্থানেই কেবল কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

কিওয়ার্ড রিসার্চ সম্পর্কে আরো জানতে এই পোস্ট দু’টো দেখতে পারেন। 🙂

একটা মজার ঘটনা আছে, ক্যালিফোর্নিয়ার বে এড়িয়া থেকে একবার ম্যাট কাটস নামক একজন ভদ্রলোক গুগলের ম্যাট কাটসকে কিওয়ার্ড ডেনসিটি নিয়ে প্রশ্ন করে। তখন গুগলের ম্যাট কাটস কি বলেন তা এই ভিডিওটি দেখলেই বুঝতে পারবেন 😀

সাইট হালকা রাখা

আপনার ওয়েবসাইট যদি সমমনা অন্যান্য ওয়েবসাইট থেকে তথ্যবহুল হয় এবং তুলনামূলকভাবে দ্রুত লোড হয় তাহলে আপনার র‍্যাঙ্ক করার সমূহ সম্ভাবনা আছে। ভারী ভারী ছবি, এড, ব্যানার, ভিডিও ইত্যাদি ব্যবহার করে ওয়েবসাইটকে শুধু শুধুই ধীরগতির করে তোলার কোন মানে হয়না।  যদি নিতান্তই প্রয়োজন না থাকে তাহলে অতিরিক্ত বিষয়গুলোকে পরিহার করা উচিৎ। উদাহরণ দিয়ে বিষয়টাকে পরিষ্কার করার চেষ্টা করা যাক। ওয়েবসাইটকে একজন মানুষ হিসেবে ধরে নিন, আর এর মধ্যে থাকা কনটেন্টগুলোকে এর ওজন হিসেবে ধরে নিন। এখন আমরা দু’টি ওয়েবসাইট আলু আর বালু কে ধরে নিচ্ছি। আলু ওয়েবসাইটটি যাবতীয় এড, ব্যানার, অযাচিত ভারী ছবি আর ভিডিও দিয়ে ভরপুর, অর্থাৎ এর ওজন বেশি। অপর ওয়েবসাইট বালু কেবল দরকারি বিষয়গুলোই রেখেছে। অর্থাৎ বালুর তুলনায় আলুর ওজন বেশি যেহেতু কনটেন্টকে ওজন হিসেবে ধরে নিয়েছি আমরা। এবার যেহেতু এদেরকে মানুষ হিসেবে ধরা হয়েছে সেহেতু ধরে নেই এদেরকে একটি উঁচু দেয়াল পার হতে দেয়া হয়েছে। দেয়ালের ওপারে আছেন পুরষ্কারদাতা (সার্চ ইঞ্জিন)। যে আগে দেয়াল টপকাতে পারবে তাকেই পুরষ্কার (সার্চ ইঞ্জিনে উঁচু র‍্যাঙ্ক) দেয়া হবে।

এবার কি মনে হয় কে আগে দেয়াল টপকাতে পারবে? নিশ্চয়ই বালু তথা হালকা ওয়েবসাইটটি। 🙂 ঠিক একইভাবে দ্রুতলোড হওয়া ওয়েবসাইটগুলো কাল্পনিক দেয়াল টপকে পুরষ্কার তথা হাই র‍্যাঙ্ক পায়। তাই সাইট যত হালকা রাখা যায় সেটা ততোই আপনার জন্যে প্লাস পয়েণ্ট হবে। তবে সবসময়ই যে এমন হবে তা না। ক্রিকেট পাগল হয়ে থাকলে বারমুডার এক খেলোয়ারের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই, যিনি তার বিশাল দেহ নিয়েও অসাধারণ এক ক্যাচ ধরেছিলেন। একইভাবে প্রয়োজনীয় বিষয়ে সাইট ভারী হলে সার্চ ইঞ্জিন সেক্ষেত্রে দ্রুতগতি কিংবা ধীরগতির ব্যাপারটাকে গনায় নাও ধরতে পারে। যেমন পিএসডিটিউটস…

বারমুডার ডুয়াইন লেভেরক এর ক্যাচ

বিভিন্ন ট্যাগের ব্যবহার

উপরের ছবিটি একটু লক্ষ্য করুন, আমি আপনি কিন্তু খুব ভালোভাবেই দেখতে পাচ্ছি বারমুডার ডুয়াইন লেভেরক ক্যাচ ধরছেন। কিন্তু সার্চ ইঞ্জিন বট কিন্তু এভাবে দেখতে পারছেনা। সে শুধু দেখবে একটি ছবি আছে, কিন্তু ছবিতে কি আছে এবং কি ঘটছে তা সে বোঝার ক্ষমতা রাখেনা। অতএব  সার্চ ইঞ্জিন বটকে ছবিটি বোঝানোর দায়িত্ব আমাদের 🙂 । এর জন্যে অল্ট ট্যাগ ব্যবহার করে সার্চ ইঞ্জিনকে ছবিটি সম্পর্কে তথ্য দিতে হবে। তাহলেই কেবল সে বুঝতে পারবে আসলে ছবিটি কি নিয়ে এবং কি সম্পর্কীয়।

নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন –

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা

আপনি দেখতে পাচ্ছেন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। কিন্তু গুগল কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দেখতে পাচ্ছেনা, সে শুধু বুঝতে পারছে এখানে কোন ছবি আছে। এখানে আমি অল্ট ট্যাগ ব্যবহার করেছি “বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা”। আর এর দ্বারাই গুগল বুঝতে পারছে যে এটি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সম্পর্কীয় ছবি। অল্ট ট্যাগ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখে পোস্ট দীর্ঘায়িত করতে পারছি না। ম্যারি মোসলে এর অল্ট ট্যাগ বিষয়ক লেখাটি দেখতে পারেন  এছাড়াও মেটা ট্যাগ, হেডিং ট্যাগ এর যথাযথ ব্যবহার করতে হবে ।

ইন্টারনাল লিঙ্ক ব্যবহার

এ সম্পর্কে আর এই পোস্টে বিস্তারিত কিছু লিখলাম না। “ইন্টারনাল লিংক কি এবং কেন জরুরী?” শিরোনামের আর্টিকেলটি দেখতে পারেন।

মানানসই ইউ আর এল স্ট্রাকচার

আপনি যে সম্পর্কিত আর্টিকেল বা কন্টেন্ট তৈরি করছেন সেটার সাথে মানানসই ইউ আর এল স্ট্রাকচার তৈরী করুন। যেমন আমাদের অন পেজ অপটিমাইজেশন বিষয়ক প্রথম লেখাটির ইউ আর এল স্ট্রাকচার এমন
অন পেজ অপটিমাইজেশন

এই স্ট্রাকচার আমাকে “অন পেজ অপটিমাইজেশন” কিওয়ার্ডটিতে হাই র‍্যাঙ্ক পেতে সহায়তা করেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে যদি আমি “pplika.com/আলু-পটল-ঝিঙ্গা ” টাইপ স্ট্রাকচার তৈরি করতাম তাহলে হয়তোবা আমি এই কিওয়ার্ডে হাই র‍্যাঙ্ক করতে পারতাম না। অর্থাৎ কনটেন্ট তৈরী করার পর অবশ্যই আপনাকে মানানসই ইউ আর এল স্ট্রাকচার তৈরী করতে হবে।

আউটবাউন্ড লিংক দেয়া

আউন্টবাউন্ড লিংক বলতে অন্য কোন ওয়েবসাইটকে লিংক দেয়া। আপনি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ আর্টিকেল পড়ে থাকলে ইতোমধ্যেই পিপীলিকা ছাড়াও অন্য ওয়েবসাইটের লিংক দেখে থাকবেন। এটাই হচ্ছে আউটবাউন্ড লিংক। আউটবাউন্ট লিংক ব্যবহার করতেই হবে এমন কোন কথা নেই, তবে যদি সামঞ্জ্যপূর্ণ হয়ে থাকে এবং পাঠকের বোঝার সুবিধা হয় তাহলে অবশ্যই আউটবাউন্ড লিংক ব্যবহার করবেন। ধরুন কোন বিষয়ে আপনি কারো ব্লগ থেকে জানলেন। আর সেটাই আপনার ব্লগে লিখছেন অনেকটা এভাবে “আপনি একটি স্বনামধন্য ব্লগ থেকে জানলাম…”। এখানে আপনি এভাবে না দিয়ে “আমি ওমুক ব্লগ থেকে জানলাম” এভাবে লিখতে পারেন, আর ওমুক ব্লগ লেখাটির মধ্যে যেখান থেকে জানলেন সেখানকার লিংক দিয়ে দিন। এতে প্রথমত আপনার তথ্যসূত্র জানতে পাঠকের আলাদাভাবে কোন খোজাখোজি করতে হলোনা। 🙂 আর এটি সার্চ ইঞ্জিনের কাছেও মূল্যবান।

সহজ নেভিগেশন

ওয়েবসাইটের এক পেইজ থেকে অন্য পেইজে যেন সহজেই যাওয়া যায় সেজন্যে সুন্দর এবং সহজ নেভিগেশন সিস্টেম থাকা দরকার। যদি এমন হয় যে কোন পেজ কে অন্য কোন পেজ থেকে লিংক দেয়া হয়নি, তাহলে সেই পেজ কিন্তু সার্চ ইঞ্জিনের কাছে লুকানো রয়ে গেলো। কারণ বটগুলো লিংক থেকে লিংকে ক্রল করে বেড়ায়, অর্থাৎ এদের রাস্তায় হচ্ছে লিংক। যদি কোন পেজে যাওয়ার রাস্তা না থাকে, তাহলে সে যেতে পারবেনা। ফলে সেই পেজটি ইন্ডেক্সও হয়তো হবেনা। তাই সহজ নেভিগেশন সিস্টেম থাকা উচিৎ। আর প্রতিটা পেজকে অন্তত অন্য কোন একটি পেজ থেকে লিংক দেয়া উচিৎ যাতে এটি ক্রল করার উপযুক্ত হয়।

সার্চ ইঞ্জিন নয় মানুষের জন্যে কনটেন্ট তৈরী করুন

এতোক্ষণ হুদাই যা বকবক করলাম তার চেয়েও সবচেয়ে বড় জিনিস মানুষের জন্যে কনটেন্ট তৈরী করুন, মানুষের জন্যে লিখুন। সার্চ ইঞ্জিন শুধু আপনার লেখা সার্চ ইঞ্জিনে স্থান দিবে। কিন্তু আপনার লেখা পড়বে আর মুল্যায়ন করবে মানুষ। মানুষ যেনো আপনার লেখা পড়ে উপকৃত হয়। আপনার ওয়েবসাইটের এসে যেন তারা খালি হাতে ফিরে না যায়। কিছু না কিছু যেন শিখতে পারে। 🙂

যারা অন পেজ অপটিমাইজেশন সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন তারা হয়তো খেয়াল করেছেন যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমি এড়িয়ে গেছি। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে সেগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হলেও আসলে তেমন না। আপনি মানুষের জন্যে কনটেন্ট তৈরী করুন। আপনার পাঠককে সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়াটা নিশ্চিত করুন, আপনার আর কিছু লাগবেনা সার্চ ইঞ্জিনে উপরের সাড়িতে থাকতে। :mrgreen:

আপনি কি করেন অন পেজ অপটিমাইজেশন এর জন্যে? কমেন্টে জানাতে পারেন আমাকে। আমি জানতে চাই।  আর কোন জিজ্ঞাসা থেকে থাকলে নির্দ্বিধায় করে ফেলুন। আমি আমার স্বল্প জ্ঞান থেকে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো।