1

আইফেল টাওয়ার

আইফেল টাওয়ার ! প্যারিস এর নাম শুনলেই যেকারো মনে এই নামটি সাথে চলে আসে। ইতোপূর্বে ঘরে বসেই ঘুরে আসা যাক আইফেল টাওয়ার শীর্ষক পোস্টে আইফেল টাওয়ার এর ভার্চুয়াল ট্যুর নিয়ে ছোট্টখাটো পোস্ট করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আইফেল টাওয়ার নিয়ে আরেকটা জ্ঞানমূলক পোস্ট এটি।

বিভিন্ন সময় কোন ছায়াছবিতে অথবা খবরে বিভিন্ন সময়ে হয়তো একবার দু’বার চোখে পড়েছে। অনেকে হয়তো গিয়েও থাকবেন সেখানে, কিন্তু এরপরেও অজানা থেকে যেতে পারে অনেক কিছুই, সেই অজানাকে জানানোর লক্ষ্যেই এই পোস্ট। 🙂

আইফেল টাওয়ারেরে উচ্চতা কত?

আইফেল টাওয়ার

আইফেল টাওয়ারের উচ্চতা এর অ্যান্টেনা সহ ৩২৪ মিটার। অ্যান্টেনা ছাড়া পতাকাদন্ডসহ এর উচ্চতা ৩১২ মিটার। এটি যখন তৈরী করা হয় তার থেকে পরবর্তী প্রায় ৪০ বছর অবধি এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ টাওয়ার ছিলো। ১৯২৯ সালে নিউ ইয়র্কে তৈরি করা হয় ক্রাইসলার বিল্ডিং যা আইফেল টাওয়ার এর রেকর্ডকে ভেঙ্গে দেয়। অবশ্য ক্রাইসলার বিল্ডিং এর পরে এর চেয়েও অধিক উচ্চতা সম্পন্ন টাওয়ার তৈরি হয়েছে এবং ভবিশ্যতেও হবে।

আইফেল টাওয়ার কেন তৈরী করা হয়?

১৮৮৭ থেকে ১৮৮৯ পর্যন্ত প্রায় দুই বছর যাবৎ তৈরী করা হয় আইফেল টাওয়ার। এটি তৈরি করা হয় মূলত ১৮৮৯ এ ওয়ার্ল্ড’স ফেয়ার এর জন্যে, তাছাড়া ১৮৮৯ সালটি ছিলো ফরাসি বিপ্লবের শতবর্ষপূর্তি। এটা তৈরির আরেকটা কারণ ছিলো বিশ্ববাসীকে দেখানো গত একশো বছরে ফ্রান্স বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এ কতটা অগ্রগামী হয়েছে।

কত দিন লাগে আইফেল টাওয়ার তৈরি করতে?

আইফেল টাওয়ার তৈরির কাজ শুরু হয় ১৮৮৭ সালের ২৮ জানুয়ারি, আর সব মিলিয়ে কাজ শেষ হয় ১৮৮৯ সালের ৩১ মার্চ। এটি তৈরি করতে সময় লাগে সর্বমোট ২ বছর, ২ মাস এবং ৫ দিন। এটি তৈরিতে ৩০০ শ্রমিক অবিরাম শ্রম দিয়েছেন।

আইফেল টাওয়ার কে তৈরি করে?

শুনে আশ্চর্য হবেন যে আইফেল টাওয়ার যিনি তৈরি করেন তিনি স্ট্যাচু অব লিবার্টি এর অভ্যন্তরীণ ফ্রেইম তোইরি করেন। ইনি হচ্ছেন অ্যালেক্সান্ডার গুস্তাভে আইফেল। তিনি আইফেল টাওয়ার এর প্রধাণ স্থপতি এবং ঠিকাদার। মরিস কোকলেন, এমিল ন্যুগিয়ের (ফরাসি উচ্চারণটা অনেকটা দাঁতভাঙ্গা) এবং পরবর্তীতে স্টিফেন সভেস্ত্রে ও কাজ করেন আইফেল এর সাথে।

আইফেল টাওয়ার কোথায় অবস্থিত?

লৌহনির্মিত আইফেল টাওয়ার প্যারিস এর চ্যাম্প ডি মার্স এ অবস্থিত। প্রতিবছর ঝাকে ঝাকে লোক উপস্থিত হয় মানবসৃষ্ট এই অসাধারণ স্থাপত্যশিল্প দেখার জন্যে। পৃথিবীতে সর্বাধিক দর্শনপ্রাপ্ত টাওয়ার এটি।

আইফেল টাওয়ার সম্পর্কিত বিচ্ছিন্ন কিছু তথ্য

  • পরিষ্কার আবহাওয়ায় আইফেল টাওয়ার এর সর্বোচ্চ উচ্চতা থেকে আশেপাশের প্রায় ৪২ মাইল এলাকা দেখতে পাওয়া যায়
  • ঝড়ো হাওয়ায় এটি সর্বোচ্চ ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত কাঁপতে পারে !
  • যেকেউ চাইলে লিফট ব্যবহার করতে পারে বা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে পারে, তবে দ্বিতীয় প্লাটফর্মের পর শুধু লিফট  ব্যবহার করা যাবে
  • এতে মোট তিনটি প্ল্যাটফর্ম আছে
  • নির্মানাধীন অবস্থায় আইফেল টাওয়ার এর শ্রমিকদের মধ্যে একজন ছাড়া আর কারো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি
  • আইফেল টাওয়ার প্রতি সাত বছর অন্তর অন্তর নতুন করে রঙ করা হয় এবং সম্পূর্ণ আইফেল টাওয়ার রঙ করতে লাগে প্রায় ৬০ টন রঙ
  • এটি সম্পূর্ণভাবে রঙ করতে সময় লাগে প্রায় ১৮ মাস !
  • আইফেল টাওয়ারের চূড়ায় যে অ্যান্টেনা আছে তার উচ্চতা ২৪ মিটার প্রায়।
  • হলিউডের বিভিন্ন মুভ্যিতে এবং গেইমসে দেখানো সর্বাধিকবার ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনাও এটি ! এমনই একটি ভিডিও

আইফেল টাওয়ার সম্পর্কিত কিছু ইউটিউব ভিডিও

আইফেল টাওয়ার, প্যারিস 


আইফেল টাওয়ার ফায়ারওয়ার্কস

পোস্টটি সাজানো গোছানো হয়নি, সেটা ক্ষমসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করবো। আর আমাদের লেখা সম্পর্কে ভালো লাগা মন্দ লাগা ইত্যাদি কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি