আইফোন ৮ ও ৮ প্লাস -দাম ছবি ও অন্যান্য ফিচার

অ্যাপলের যাত্রা সেই ৮০ দশকে হলেও আইফোন প্রথমে আসে ২০০৭ সালে। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে আই ফোন নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়। সাধারনত অ্যাপল বছরে আইফোনের দু’টি মডেল উন্মোচন করে। আইফোনের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যাপল আই ফোনের নতুন তিনটি মডেল উন্মোচন করে। গত সেপ্টেম্বরে উন্মোচন হওয়া আইফোনের তিনটি মডেল হল আই ফোন ৮ , আইফোন ৮ প্লাস এবং আইফোন ১০ বা এক্স। প্রতিবছর আইফোনের নতুন সিরিজ  উন্মোচনের আগে এক ধরনের রহস্যময়তা তৈরি করা হয়।নতুন আইফোনের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকেন অ্যাপল ইউজাররা। সারাবিশ্ব জুড়ে শুরু হয় উন্মাদনা। আর তাই আইফোন ৮ নিয়ে উন্মাদনা সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়। গত ১২ সেপ্টেম্বর  যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে এক জমকালো অনুষ্ঠানে অ্যাপল নতুন আইফোনের দেয়। নতুন আইফোনের নাম দেওয়া হয়েছে আইফোন ৮ ও ৮ প্লাস। এ ছাড়া চমক হিসেবে এসেছে আইফোন টেন (আইফোন এক্স)।

আইফোনের যাত্রা

২০০৭ সালে প্রথম আইফোন বাজারে আসায় এ বছর আইফোনের দশকপূর্তি হল।প্রথম আইফোন বাজারে আসে ২০০৭ সালের ৯ নভেম্বর। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ১১ জুলাই আইফোন থ্রিজি, ২০০৯ সালের ১৯ জুন আইফোন থ্রিজি-এস।  আইফোন ৪ আসে ২০১০ সালের ২৪ জুন, ২০১১ সালের ১৪ অক্টোবর আইফোন ৪এস। আই ফোন ৫ আসে  ২০১২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আইফোন ৫এস ও ৫সি।  ২০১৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আইফোন ৬ ও ৬প্লাস আসে , ২০১৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আইফোন ৬এস ও ৬এস প্লাস, ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ আইফোন এসই এবং  ২০১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আইফোনের  আইফোন ৭ উন্মুক্ত হয়।সর্বশেষ সংস্করণ আই ফোন ৮ , আইফোন ৮ প্লাস ও আইফোন এক্স বা ১০ আসে ২০১৭ এর ১২ সেপ্টেম্বর।

আই ফোন ৮ ও আইফোন ৮ প্লাসের ফিচার সমূহ

আইফোন ৮ ও আইফোন ৮ প্লাসে পূর্বের মডেল থেকে বেশ কিছু নতুন ফিচার যুক্ত হয়েছে। চলুন তাহলে আইফোনের এই সংস্করনগুলোতে যে ফিচার যুক্ত হয়েছে সেগুলো দেখে নেওয়া যাক

ডিজাইন

এবার আইফোনের ডিজাইনে এসেছে নতুনত্ব। আগের চেয়ে  ফোনটির কিনারগুলো পরিবর্তিত হয়েছে। । সামনের দিকের বেশ কিছুটা অংশ জুড়ে পর্দা থাকছে। এতে যে এজ-টু-এজ ডিসপ্লে যোগ করা হয়েছে, তাতে পর্দার বাইরের অংশ খুব সামান্যই থাকবে।

উন্নত রেটিনা ডিসপ্লে

অ্যাপল ২০১০ সালেই রেটিনা ডিসপ্লেযুক্ত আইফোন বাজারে ছেড়েছে ।  তবে এখন আরও উন্নত রেটিনা ডিসপ্লে আনছে অ্যাপল। প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরবর্তীতে অ্যাপলের রেটিনা ডিসপ্লের চেয়েও উন্নত ডিসপ্লে তৈরি করেছে। তাই এবার আরও উন্নতমানের ডিসপ্লে  সহ আইফোন ৮ ও আইফণ ৮ প্লাস অবমুক্ত করেছে।

দীর্ঘস্থায়ী গ্লাস

ডিসপ্লে গ্লাস স্মার্টফোনগুলোর একটি উল্লেখ্য যোগ্য গুরুত্বপূর্ণ দিক।  অ্যাপলের ভাষ্য মতে লেটেস্ট মডেলে ব্যবহৃত গ্লাসগুলো আজ পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী। সামনে পিছনে দুই দিকেই এ গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে।

ক্যামেরা

অ্যাপলের ক্যামেরা তুলনামূলক অন্যান্য প্রায় সব স্মার্টফোনের ক্যামেরা থেকে আলাদা ছিল। অ্যাপলের  ক্যামেরার কালার কারেকশানসহ সব কিছু ছিল তুলনামূলক অন্যদের ছেয়ে উন্নত। তবে,  অ্যাপলের পূর্বের মডেলগুলোতে প্রাইমারী ক্যামেরা ছিল একটি। লেটেস্ট আইফোন  ৮ প্লাসের প্রাইমারী ক্যামেরা দু’টি। এখন পূর্ব থেকে আরো নিখুত ছবি পাওয়া যাচ্ছে।

পানি ও ময়লা রোধী

এই ফিচারটি  এখন প্রায় সব হাই কনফিগারেশনের ফোনে ব্যবহার করা হয়। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী আইফোন ৮ ও আইফোন ৮প্লাস উভয়ই পানি ও ময়লা রোধী হিসেবে বানানো হয়েছে।

ওয়্যারলেস চার্জ

ওয়্যারলেস চার্জিং ফিচার এখন গ্রাহকদের একটি উল্লেখযোগ্য চাহিদা। এ কথা মাথায় রেখে আইফোন ৮ ও ৮ প্লাসে ওয়্যারলেস চার্জিং ফিচার যুক্ত করা হয়েছে।

তিন কালারের ফোন

আইফোন ৮ ও ৮ প্লাস উভয়ই তিনটি কালারে এসেছে । এই তিনটি কালার হল সিলভার, স্পেস গ্রে , গোল্ড বা সোনালী। আপনার পছন্দ সই কালার সহজেই বেছে নিতে পারবেন।

তিন কালারের আইফোন

ফিংগার প্রিন্ট

আপনার ফিংগার প্রিন্ট সিকিউর পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আপনি ফিংগার প্রিন্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ফোন আনলক করতে পারবেন। এ ছাড়াও অনেক ফেভারিট  এপে সাইন ইন করবেন।

 

আইফোন ৮ ও ৮ প্লাস এর মধ্যাকার যে সব পার্থক্য আমরা পাই সেগুলো হল

ডিসপ্লে

আইফোন ৮ ও আইফোন ৮ প্লাসের মধ্যে প্রথম পার্থক্য হল ডিসপ্লে সাইজ এবং রেজুলেশন। আইফোন ৮ রয়েছে ৪.৭ ইঞ্চির ১৬ঃ৯ অনুপাতের এলসিডি ডিসপ্লে। ডিসপ্লেটি ১৩৩৪ X ৭৫০ পিক্সেল (৩২৬ ppi) বহন করে।

অন্য দিকে, আইফোন ৮ প্লাসের হল ৫.৫ ইঞ্চির ১৬ঃ৯ অনুপাতের এলসিডি ডিসপ্লে। ডিসপ্লেতি ১৯২০ X ১০৮০ পিক্সেল (৪০১ ppi) বহন করে।

ক্যামেরা

আইফোন ৮ ও আইফোন ৮ প্লাস  উভয়ের রয়েছে ১২ মেগা পিক্সেল ক্যামেরা । তবে পার্থক্য হল আইফোন ৮ রয়েছে সিংগেল ব্যাক ক্যামেরা আর আই ফোন ৮ প্লাসে রয়েছে ডুয়েল ক্যামেরা। ফলে আইফোন ৮ থেকে ৮ প্লাসে আরো নিখুঁত ছবি পাওয়া যায়।

ব্যাটারির চার্জ ধারন ক্ষমতা

আইফোনের এই দু’টি ভার্শনের ব্যাটারির চার্জ ধারন ক্ষমতায় যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আইফোন ৮ এ রয়েছে ১৮২১ mAh এর ব্যাটারি। অন্যদিকে আইফোন ৮ প্লাসের ব্যাটারির চার্জ ধারন ক্ষমতা হল ২৬৭৫ mAh। নতুন দু’টি ফোন আগের আইফোন ৭ ও আইফোন ৭ প্লাস থেকে কিঞ্চিত কম ধারন ক্ষমতার ব্যাটারি সম্ভৃরদ্ধ।

দাম

আইফোন ৮ ও আইফোন ৮ প্লাসের মধ্যে ১০০ ডলার দামের পার্থক্য রয়েছে। আইফোন ৮ – ৬৪ জিবি ৬৯৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে যেখানে আইফোন ৮ প্লাস- ৬৪ জিবি ৭৯৯ ডলারের বিক্রি হয়। অন্য দিকে আইফোন ২৫৬ জিবি ৮৪৯ ডলারে বিক্রি হয় এবং আইফোন ৮ প্লাস-২৬৪ জিবি বিক্রি হয় ৯৪৯ ডলারে। তবে বাংলাদেশি দাম দোকান ভেদে আলাদা হয় ।

আইফোনের ছবি

আইফোন ৮ ও ৮ প্লাস

হোম বাটন

শেষ কথা

ফিচার আর অন্য সব সুবিধার বিচারে অনেকেই আইফোন ৮ এর বদলে আইফোন ৮ প্লাস নিতে চাবেন। আপনি যদি বড় স্ক্রীন লাভার হোন তাহলে হবশ্যই আইফোন ৮ প্লাসে যাওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে এটি বহন করতে একটু অসুবিধা পোহাতে হবে, তাই কিনার পূর্বে অবশ্যই এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আবার আইফোন ৮প্লাস কিনতে আপনাকে একই ধারন ক্ষমতার আইফোন ৮ থেকে ১০০ ডলার বেশি গুনতে হবে তাই  ফোন নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটিও  একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক