আদার উপকারিতা এবং কাদের আদা খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিৎ?

আদা একটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। রান্না বান্নার জন্য একটি উৎকৃষ্ট উপাদান হল আদা। আদাকে মূলত আমরা সবাই রান্নার মসলা হিসেবে চিনে থাকি। কিন্তু আদা শুধুমাত্র রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। আদার ভেষজ গুণ অনেক। এমনিতেই আমরা সবাই সর্দি-কাশি হলে বা মাথা ধরলে আদার চা খেয়ে থাকি। এছাড়া শারীরিক নানা সমস্যায় আদা বেশ দ্রুত মুক্তি দিতে পারে । এমনকি নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস মারাত্মক বেশ কিছু রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে।

এতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, যা শরীরের রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে। চিকিৎসকদের মতে, রান্না করা আদার চাইতে কাঁচা আদার উপকার অনেক অনেক বেশি। আদা খাওয়ার অভ্যাস শারীরিক অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। কী নেই আদায়? ভিটামিন এ, বি, সি, ই, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, সিলিকন, আয়রন, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিংক এবং বিটা ক্যারোটিনের চমৎকার উৎস আদা। আর এ কারনে আদার গুণাগুণ এবং শারীরিক সমস্যা নিরাময়ে আদার ব্যবহার সকলেরই জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরী। চলুন আদার তেমন কিছু উপকারীরা জেনে নেই।

আদা পরিচিতি

অসাধারণ রোগ নিরাময় ক্ষমতা সম্পন্ন আদা মূলত গাছের শিকড় বা রাইজোম। মসলা হিসেবে আদার ব্যবহার সব খাবারকেই সুস্বাদু করে। আদার রাইজোম বাইরের দিকে হলুদাভ, ভেতরে হালকা সবুজ-হলুদ। বড় বড় বিন্যস্ত পাতার অনেকগুলি চওড়া বৃন্তে গঠিত আদার রাইজোম প্রায় ১৫ সেমি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

বৃষ্টি-ধৌত উঁচু জমি ও পাহাড়ের ঢালে আদার চাষ ভাল হয়। বাংলাদেশে প্রায় ১৯,০৫৫ একর জমিতে আদার ফলন হয়। যা থেকে বছরে প্রায় ৪৯,৪০৫ মেট্রিক টন আদা পাওয়া যায়।  দিনাজপুর, রংপুর, টাঙ্গাইল ও রাঙ্গামাটি জেলায় আদার অধিক ফলন হয়।

আদার অসাধারণ উপকারিতাসমূহ

হজমের সমস্যা রোধে

আদা খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করে। রক্তের অনুচক্রিকা এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম ঠিক রাখতে আদা খুব কার্যকর একটি উপাদান। আদার মধ্যে ডাইজেসটিভ ট্রাক্টের প্রদাহ কমানোর বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। এটি পাচক রস নিঃসরণ করতে সাহায্য করে। এতে খাবার ও পানি খুব সহজে পেটে নড়াচড়া করতে পারে। হজমের সমস্যার জন্য আদা শুকিয়ে খেতে পারেন।

আদা খেলে মুখে থুতু বা লালা উৎপন্ন হয়।এই লালা তাড়াতাড়ি খাবার হজম করতে সাহায্য করে, সেজন্য অরুচি ও ক্ষুদার অভাব দূর করতে আদা খাওয়া যেতে পারে।

প্রতিদিন সকালে ১ কাপ আদা চা পান করলে পুরোদিন পেট ফাঁপা বা বদহজম থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। এছাড়া হজমে সাহায্য করার জন্যে আদা দিয়ে সিরাপ বানিয়ে খেতে পারেন। জিরে গুঁড়ো, বিট লবণ, আদার রস, লেবুর রস, ঠাণ্ডা পানির সাথে মিশিয়ে ব্লেন্ড করুন। তৈরি হয়ে গেল আদার সিরাপ। দুপুরে বা রাতের খাবারের পরে এই সিরাপ খেতে পারেন। এতে হজমের সমস্যা দূর হবে আশা করা যায়।

বমি রোধে

অনেকে গাড়িতে উঠলে বমি হয় কিংবা বমির ভাব হয়। এ সমস্যা এড়াতে ভ্রমণের আগেই এক টুকরা আদা মুখে রেখে দিতে পারেন। বমি বা বমি বমি ভাব রোধ হবে। আবার অনেক সময় আমাদের কোন কিছু খেতে ইচ্ছে করে না অস্থির অস্থির লাগে ফলে বমি হয়ে যায় বা বমি বমি ভাল লাগে । এ ক্ষেত্রে আপনি আদা কুচি করে চিবিয়ে খেয়ে ফেলুন। অথবা চাইলে আদার রসের সাথে অল্প লবণ মিশিয়ে পান করে ফেলুন। বমি বমি ভাব দূর হবে।

ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে আদা

আদা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকরে। এটি মানুষের রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ফলে ডায়াবেটিস রোগের উপশম হয়। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে র গবেষকরা সম্প্রতি এসব তথ্য দিয়েছেন।ডায়াবেটিকস রোগের চিকিৎসায় আদার কোনো উপকারিতা আছে কি না তা নিয়ে গবেষণা করেন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের একদল গবেষক। অধ্যাপক বাসিল রৌফোগালিস এর নেতৃত্বে গবেষণায় বেরিয়ে আসে যে রক্তের  গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে আদা।

গ্লুকোজ ডায়াবেটিক  রোগীর শরীরে নানা জটিলতা বাড়ায়। আদার নির্যাস শরীরের কোষে গ্লুকোজের শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে,যা ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে দীর্ঘ মেয়াদে সুগারের মাত্রা ঠিক রাখতে ভূমিকা রাখে এবং কোষগুলোতে নির্বিঘ্নে ইনসুলিনের চলাচল ঠিক রাখে। আদা পেশির কোষগুলোতে গ্লুকোজের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে।

সর্দি-কাশিতে আদা

হাজার বছর ধরে আদা এশিয়া মহাদেশে ঠাণ্ডা এবং কফজনিত নানা অসুখ নিরাময়ে ব্যবহারে হয়ে আসছে। আদাতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, যা শরীরের রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে। জ্বর জ্বর ভাব, গলাব্যথা ও মাথাব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ঠান্ডা টনসিলাইটিস, মাথাব্যথা, টাইফয়েড জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হওয়া, বসন্তকে দূরে ঠেলে দেয় আদা।

গলা খুসখুস কমাতেও উপকারী আদা। ঠাণ্ডা লেগে কাশি হলেও আদা গলা স্বাভাবিক রাখতে কাজে লাগে।আদা আপনাকে খুসখুসে কাশি ও ঠাণ্ডার প্রকোপ থেকে সহজেই রক্ষা দিতে পারে আদা। আদার রস ঠাণ্ডা-কাশি নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। চায়ের সঙ্গে পুদিনা পাতা ও মধুর সঙ্গে আদার রস মাথাব্যথা ও ঠাণ্ডা-কাশি নিরাময়ে খুবই উপযোগী।

কারো বুকে সর্দি কফ জমে আছে? নিঃশ্বাস টানতে সমস্যা হচ্ছে ? ২ কাপ পানিতে আদা কুচি দিয়ে ফুটিয়ে নিন। পানি যখন অর্ধেক হয়ে আসবে জ্বাল হয়ে তখন ছেঁকে নামিয়ে ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করে ফেলুন। বেশ আরাম পাবেন। সর্দি কফের সমস্যা না যাওয়া পর্যন্ত এই আদা চা পান করতে থাকুন।

 ক্ষতস্থান পূরণ করতে

আদাতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি নামক এজেন্ট, যা যে কোনো কাটা-ছেঁরা, ক্ষতস্থান দ্রুত  শুকাতে সাহায্য করে। এ কারনে দেহের কোথাও ক্ষতস্থান থাকলে আদা তা দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে ।  আদা এবং মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

ব্যথা নাশক

আবার পেশি ব্যথায়ও আদা কার্যকর। আদার রস ব্যথানাশক ঔষধের মতো কাজ করে। সরাসরি আক্রান্ত স্থানে লাগাতে পারেন আদার রস অথবা পান করে নিতে পারেন, দু’ভাবেই ভালো উপকার পাবেন।

বুক জ্বালাপোড়া রোধে

উল্টাপাল্টা এবং অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া খাবার গ্রহণের ফলে বুকজ্বলার সমস্যা হুট করেই শুরু হতে পারে।   এ ক্ষেত্রে এক কাজ করতে পারেন , ২ কাপ পানিতে ২ ইঞ্চি আদা ছেঁচে জ্বাল দিয়ে চায়ের মতো তৈরি করে পান করুন। এতে বুক জ্বলা কমে যাবে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে আদা 

আর্টারি ওয়ালে ব্যাড কোলেস্টেরল ও ফ্যাটি অ্যাসিড জমে করোনারি হার্ট ডিজিজের সমস্যা দেখা যায়। ফলে রক্ত চলাচলে অসুবিধে দেখা যায়। আদা রক্ত চলাচলে সাহায্য করে। লিভার ও ব্লাডে কোলেস্টেরল অ্যাবজর্বশন কম রাখতে আদা সাহায্য করে। ৮৫ জনের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র তিন গ্রাম আদার গুঁড়ো খেলে শরীরের বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

ক্যান্সার রোধে আদা

আদার মধ্যে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধক উপাদান। এটি কোলনের ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ওভারিয়ান ক্যান্সার প্রতিরোধে আদা উপকারী। তাই আদাকে ক্যান্সারের ভাল প্রতিরোধ হিসেবে ধরা হয়।

জয়েন্টে ব্যথা আথ্রাইটিস দূরে আদা 

অনেকেরই হাতে পায়ের জোড়া বা জয়েন্টে ব্যাথা করে। এটি মূলত আথ্রাইটিস নামে পরিচিত।আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় ভুগলে সারা দিনের খাবারে অল্প পরিমাণে আদা রাখার চেষ্টা করুন। আদা দিয়ে চা খেতে পারেন, সালাদে আদার সরু, লম্বা কুচি মেশাতে পারেন। ব্যথার সমস্যা ধীরে ধীরে কমবে। ঘন ঘন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে আদা খেয়ে দেখতে পারেন।

আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে আদার তেল বিশেষ উপকারী। এ ক্ষেত্রে খানিকটা অলিভ অয়েলে আদা ছেঁচে নিয়ে ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। ঠাণ্ডা হলে ছেঁকে এই তেল দিয়ে ম্যাসেজ করুন হাতে পায়ের জয়েন্টে। আদার অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান ব্যথা দূর করে।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে

আদা আপনার মস্তিষ্ককে আলঝেইমার থেকে রক্ষা করবে। এই স্নায়ু-ক্ষয়ী রোগটি সৃষ্টি হয় মস্তিষ্কে অপ্রয়োজনীয় অ্যামিলয়েড প্রোটিন জমা হওয়ার মাধ্যমে। পরীক্ষাগারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, আদা এই স্নায়ু-ক্ষয়ী প্রোটিন থেকে আপনার মস্তিষ্কের কোষগুলোকে প্রতিরক্ষা দিতে সক্ষম। এবং এভাবে আলঝেইমার রোগও প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

আদার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও বায়োঅ্যাকটিভ নামক উপাদান যা মস্তিষ্কের অকালবার্ধক্য কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। তাই স্মৃতি বাড়াতে আদার গুড়া কার্যকারী অনেক। আদা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

পেটের পীড়ায়

উপমহাদেশের মানুষজন তুলনামূলক পেটের পীড়াতে অধিক ভুগেন। আমাশয়, জন্ডিস, পেট ফাঁপা রোধে আদা চিবিয়ে বা রস করে খেলে উপকার পাওয়া যায়। পেটে কোনো বিষাক্ত পদার্থ থাকলে, আপনার পেট ব্যথা বা ডায়রিয়া হতে পারে। এসব বিষাক্ত পদার্থের কার্যকারিতা দূর করতে আদা ভূমিকা রাখে।

পেট থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বের করে দিতে এবং ডায়রিয়া প্রতিরোধেও আদা সহায়ক। জটিল আমাশয় হলে আদা শুকিয়ে গুঁড়া করে ১ গ্রাম পরিমাণ  হালকা উষ্ণ পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন দু’বার করে ভালো না হওয়া পর্যন্ত খেতে হবে।

নারীদের ঋতু-স্রাবকালীন ব্যথা লাঘব করে

আদার সবচেয়ে বিস্ময়কর উপকারিতা হলো এটি নারীদের ঋতু-স্রাবকালীন ব্যথা লাঘব করে। জার্নাল অফ অল্টারনেটিভ অ্যান্ড কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঋতু-স্রাবকালীন ব্যাথা উপশমের ক্ষেত্রে আদা ইবুপ্রোফেন ওষুধের মতোই কার্যকর।

মাইগ্রেনের ব্যথা দূর করে

মাইগ্রেনের ব্যথা একটি মারাত্মক ব্যথা। আদার রয়েছে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সংশ্লেষণ দমনের ক্ষমতা। যা রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোকে স্ফীত হওয়া এবং চাপ সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাইগ্রেনের ব্যথার চিকিৎসায় আদা ওষুধের মতোই কার্যকর। এ ছাড়াও আদা বমির উদ্রেককারী পাকস্থলির মোচড়ানোও দূর করে। যা থেকে অনেক সময় মাইগ্রেনের ব্যথার উৎপত্তি হয়।

পেটের মেদ কমাতে আদা

অতিরিক্ত ওজন ঝরাতেও আদা সাহায্য করে। আদা খেলে শরীরে রক্তপ্রবাহ দ্রুততর হয়। টিস্যু বেশি এনার্জি ব্যবহার করায়, বেশি ক্যালরি বার্ন হয়। এতে শরীরে ঘাম সৃষ্টি হয়। শীতকালে ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে অনেকের শরীর থেকেই পর্যাপ্ত ঘাম ঝড়ে না। অথচ শরীরে ঘাম হওয়া স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে অনেক অপ্রয়োজনীয় ও বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়ে যায়।

আদা ও লেবুর মিশ্রণ আপনার ওজন কমানোর একটি অসাধারণ উপায় । প্রথমে আদার ছোট ছোট টুকরা করে আধা ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সেই পানির সাথে আরও পানি মিশিয়ে একটি সম্পূর্ণ লেবু কয়েক টুকরা করে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর সারাদিন এই পানি প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় পান করুন।

রক্তচাপ কমে

একটি নতুন গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, আদা রক্তে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে ফেলে। যাদের ডাইবেটিক এর সমস্যা আসে তারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে আদা খাওয়া শুরু করতে পারেন। এতে আপনার ইনসুলিন এর ব্যবহার কমে যাবে।

অথেরোস্ক্লেরোসিস রোধে

ধমনীতে প্লাক জমে রক্ত প্রবাহ বন্ধের সমস্যাকে বলা হয় অথেরোস্ক্লেরোসিস। এই মারাত্মক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে  নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। প্রতিদিন একটু হলেও আদা খেলে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

গবেষণায়  এছাড়াও দেখা গেছে, আদার রস দাঁতের মাড়িকে শক্ত করে, দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা জীবাণুকে ধ্বংস করে। নিয়মিত আদা খেলে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ে। সহজেই স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি করে আদা। এছাড়া যারা গলার চর্চা করেন তাদের গলা পরিষ্কার রাখার জন্য আদা খুবই উপকারী।

আদা যে শুধু ঔষুধিরুপে ব্যবহৃত হয় এমন না আদা নানা রুপচর্চা জণিত কাজেও ব্যবহার করা হয়। তেমনি কিছু ব্যবহার হল

বয়সের ছাপ রোধে

কাজের চাপ, চিন্তা, ব্যস্ততা এই সব কারনে অল্প বয়সেই মুখে বার্ধক্যের ছাপ পড়তে দেখা যায়।  অনেক কিছু ব্যবহার করে হয়ত  সাময়িক ফল পাওয়া যেতে পারে , কিন্তু স্থায়ী সমাধান কিছু হবে না। এক্ষেত্রে আপনি কাঁচা আদা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। আদার মধ্যে যে অ্যান্টিএইজিং উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে তা দেহের টক্সিন দূর করে এবং দেহে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ত্বকে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করে। মুখে রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা বাড়ায় ফলে বয়সের ছাপ দূর হয়।

এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে কিছুটা কাঁচা আদা মুখে নিয়ে চিবিয়ে  নিন।  প্রথম দিকে হয়ত সমস্যা হবে। কিন্তু অভ্যেস করলে বেশ ভাল উপকার পাবেন।

ত্বকের পোড়া অংশ নিরাময়ে আদা

কাজ করতে গিয়ে যে কেউ পুড়িয়ে ফেলতে পারেন হাত বা পায়ের বা দেহের যে কোনো অংশের ত্বক। ত্বকের এই পুড়ে যাওয়া নিরাময় করতে আদা বেশ সহায়ক। তাজা আদার রস পোড়া অংশে দিয়ে রাখুন। দেখবেন দ্রুত সেরে উঠবে। এছাড়া ত্বকের পোড়া অংশের দাগও দ্রুত চলে যাবে।

শ্বেতী রোগ কমাতে

শ্বেতী রোগ নিয়ে আমাদের অনেক ফালতু চিন্তা ধার রয়েছে । এই রোগ হলে দেখতে তো খারাপ লাগেই, তা অনেকসময় সামাজিক অসম্মানের কারণও হয়ে থাকে। মজার ব্যাপার হল কাঁচা আদা শ্বেতী রোগ কমায়।  এজন্যে কাঁচা আদা মুখে ফেলে রাখুন । ব্যাস আর কিছুই করতে হবে না। এছাড়া আপনারা আদা বাটাও  শ্বেতীর জায়গায় মাখিয়ে রাখতে পারেন। কয়েক সপ্তাহেই উপকার পাবেন বলে আশা করা যায়।

চুল পড়া রোধে

আদায় ভিটামিন-ই এবি ও সি থাকার কারণে চুল পড়া রোধ করে। নিয়মিত কাঁচা আদা খাওয়ার অভ্যাস চুলের গোড়াকে মজবুত করে।

আদার রস তুলো দিয়ে  মাথার স্ক্লাল্পে লাগিয়ে রাখুন মিনিট ১৫। তারপর ধুয়ে ফেলুন। রোজ রাতে করুন। ২ সপ্তাহেই উপকার পাবেন।

খুশকি রোধে

খুশকি রোধেও আদা উপকারী এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। ৪ চামচ আদার রস, ২ চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে চুলের গোড়াতে লাগান। ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ব্রণ দূর করতে

ব্যাকটেরিয়া থেকে মূলত ব্রণের উপদ্রব। আদায় থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান  ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। আদার রস করে নিয়ে খালি পেটে খেতে থাকুন। সাথে আদার একটা টুকরো হাল্কা করে ঘষতে থাকুন ব্রণ আক্রান্ত স্থানে। কয়েক সপ্তাহেই ফল পাবেন।

আদার অপকারীতাঃ এত সব উপকারী দিকের মধ্যে আবার কিছু অপকারী দিকও রয়েছে। চলুনে জেনেই নেই সেই অপকারী দিকগুলো কোন অবস্থায় আদা খাওয়া কমাতে হবে বা খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

অন্তঃসত্ত্বারা

আদা শরীরে কড়া উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। এ কারনে অন্তঃসত্ত্বারা আদা খেলে, প্রিম্যাচিওর শিশু জন্মের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।  এজন্য গর্ভবতী মহিলাদের অবশ্যই আদা এড়িয়ে চলা উচিত।  বিশেষ করে শেষ ত্রৈমাসিকে আদা না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে চিকিৎসকরা।

প্রেগন্যান্সির শুরুর দিকে মর্নিং সিকনেস কাটাতে অল্প আদা খেতে পারেন। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে।  গর্ভাবস্থায় সারা দিনে ২৫০ গ্রামের বেশি আদা খাবেন না। সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়।

গলস্টোনের সমস্যার ক্ষেত্রে

কারো যদি  গলস্টোনের সমস্যা থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে কত পরিমাণ আদা খাবেন, ডাক্তারের থেকে জেনে নিন।

যারা ওজন বাড়াতে চান

যদি আপনি ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করে থাকেন তা হলে আদাযুক্ত খাবার বা আদা চা খাওয়া এড়িয়ে চলুন। আদার মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকে। যা পাকস্থলীর পিএইচ মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে পৌষ্টিকতন্ত্রকে উত্তেজিত করে তোলে। খিদে কমিয়ে ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে আদা।
এছাড়াও শরীরের চর্বি গলানোর প্রক্রিয়ায় আদা বিশেষ সহায়ক। সেজন্য যারা ওজন বাড়াতে চান, আদা তাদের কোন কাজে আসবে না।

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যারা ওষুধ খান

হাইপারটেনসন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ যারা নিয়মিত খান তারা আদা খাওয়া এড়িয়ে চলাই উত্তম। আদা রক্তকে পাতলা করে রক্তচাপ কমিয়ে দেয়। তাই সাধারণ ভাবে আদা খাওয়া উপকারি হলেও অ্যান্টি-কোয়াগুলান্ট, বিটা-ব্লকারস বা ইনসুলিনের মতো ওষুধের প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে আদা।

 

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক