আবাবিল পাখি নামে সত্যিই কি কোন পাখি আছে?

অনেক কাল আগের কথা তৎকালীন ইয়েমেন আবরাহা নামে একজন বাদশাহ  শাসন করত। আবরাহার বাদশাহ হবার ঘটনাটা খুব চমকপ্রদ।   আবরাহা ছিল হাবশার ( বর্তমান ইথিয়োইপিয়া ) আদুলিস বন্দরের একজন গ্রীক ব্যবসায়ীর ক্রীতদাস। নিজের বুদ্ধিমত্তার জোরে সে ইয়েমেন দখলকারী হাবশী সেনাদলে ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টিতে সক্ষম হয়। হাবশা সম্রাট তাকে দমন করার জন্য সেনাবাহিনী পাঠায়। কিন্তু এই সেনাদল হয় তার সাথে যোগ দেয় অথবা সে এই সেনাদলকে পরাজিত করে।

অবশেষে হাবশা সম্রাটের মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারী তাকে ইয়ামনে নিজের গভর্ণর হিসাবে স্বীকার করে নেয়।  পরে সে ধীরে ধীরে ইয়ামনের স্বাধীন বাদশাহ হয়ে বসে। অনেক রাজা-বাদশাহের মত আবরাহাও নিজেকে আশপাশের দেশের সমস্ত রাজা-বাদশাহ’র চেয়ে প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাশালী মনে করতো। সে সময় মক্কা নগরীতে অবস্থিত কা’বা শরীফ এর ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্য ও পবিত্রতায় মুগ্ধ হয়ে মানুষ যখন দলে দলে কা’বা ঘরের দিকে আসতে থাকে।

এই বিষয়টি তার মনে সব সময় একটা অশান্তি কাঁটার মতো বিধে থাকতো। সে লক্ষ্য করল যে;  তার দেশ, আশপাশের অন্যান্য দেশ এমন কি দূর দূরান্ত থেকে দলে দলে মানুষ হজ্ব করার জন্য আরব দেশের মক্কা নগরীর কাবা ঘরের দিকে যায়। প্রতিবছর হজ্বের মৌসুমের এই দৃশ্যটা তার কাছে অসহনীয় হয়ে উঠলো। কিছুতেই যেন শান্তি স্বস্তি পাচ্ছিল না আবরাহা। অনেক চিন্তা-ভাবনার পর আবরাহা একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে ভাবেই হোক কাবার প্রতি মানুষের এ আকর্ষণরোধ করতে হবে।

পরিকল্পনা মাফিক সে ইয়েমেনের রাজধানী ‘সানআ’য়  “আল কালীস” বা “আল কুলীস” অথবা “আল কুল্লাইস” নামে একটি বিশাল গীর্জা নির্মাণ করলো। এটি তৈরি করার পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল যে, হাজীগণ যেন কা’বার পরিবর্তে গির্জার পানে ফিরে যায়। এরপর হাবশার বাদশাহকে লিখে জানাল আমি আরবদের হজ্বকে মক্কার কাবার পরিবর্তে এই গীর্জার দিকে নিয়ে আসব। একই সাথে চার দিকে ঘোষণা দিল “তোমরা আর কেউ মক্কার কাবা ঘরে হজ্ব করতে যেও না। এই দ্যাখো মক্কার কাবা ঘরের চেয়ে অনেক সুন্দর ঘর আমি তোমাদের জন্য তৈরি করেছি। তোমরা সবাই এইখানে হজ্ব করতে আসো।”

মজার ব্যাপার হল, আবরাহার এই ঘোষণা শুনে কেউ আগ্রহ দেখালো না। আবরাহার ঘোষণার কারণে আরবরা খুব রাগান্বিত হন। এ সময় কেনানী গোত্রের জনৈক ব্যক্তি ঐ গির্জায় মল ত্যাগ করে দেয়। আবরাহার কাছে যখন এ খবর পৌঁছুল যে কাবার ভক্ত-অনুরক্তরা তার গীর্জার অবমাননা করেছে তখন তখন রাজা আব্রাহা ইর্শ্বান্বিত হয়ে কা’বা ঘর ধ্বংস (নাউজুবিল্লাহ) করার পরিকল্পনা গ্রহন করেন। যিশুর নামে  প্রতিজ্ঞা করে সে সিদ্ধান্ত নিল যে,  ‘কাবাকে গুড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে না দেয়া পর্যন্ত আমি স্থির হয়ে বসবো না !”

যেই কথা সেই কাজ,  ৫৭০ মতান্তরে  ৫৭১ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই উদ্দেশ্যে সে ৬০ হাজার সৈন্য ও ১৩টি হাতি নিয়ে মক্কার পথে রওনা হয়। গমন পথে কোনো কোনো আরব সর্দার তাকে বাঁধা দেয় ঠিকই কিন্তু তারা পরাজিত হয়। এই সেনা দল তায়েফের নিকটবর্তী হলে তায়েফের সর্দার বুঝতে পারে এত বড় বাহিনীর সাথে দ্বন্দ্ব বাঁধানো ঠিক হবে না। সে সময় তারা লাত দেবতার উপাসনা করত। সর্দার মনে মনে চিন্তা করল  আবরাহা আবার না তাদের লাত দেবতার মন্দিরটা ভেঙে ফেলে।

এ চিন্তা থেকে তায়েফের সর্দার তার রাজ্যের বেশ কিছু গণ্যমান্য লোক নিয়ে আবরাহার সাথে দেখা করে এবং বলে ‘‘আপনি যে উপসনালয়টি ভাঙতে এসেছেন আমাদের এ মন্দিরটি সে উপাসনালয় নয়। সেটি মক্কায় অবস্থিত। দয়া করে আপনি আমাদের উপাসনয়ালয়ে হাত দেবেন না। সহজে যাতে মক্কায় যেতে পারেন সে জন্যে  আমরা আপনাকে একজন পথ প্রদর্শক  ঠিক করে দিচ্ছি।” আবরাহা তাদের ওপর খুশি হয়ে যায়। তখন তায়েফের সর্দার আবু রিগাল নামে এক অভিজ্ঞ লোক আবরাহার সাথে দিয়ে দেয়।

আবু রিগালের দেখিয়ে দেওয়া পথে আবারাহ ও তার সৈন্যদল মক্কার দিকে এগিয়ে চলছে। মক্কা যখন মাত্র ছয়-সাত মাইল দূরে তখন আল মাসাম্মেস নামক স্থানে রিগাল মারা যায়। এরপর আব্রাহা তার সৈন্য বাহিনী নিয়ে একাই মক্কার দিকে আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে।  মক্কার আশে পাশে স্থানীয় অধিবাসী ও কুরাইশদের উট, ছাগল, ভেরা যেগুলো মরুদ্যানে চড়ে বেড়াচ্ছিল সেসব  আবরাহার সৈন্যরা লুট করে নেয়।এ লুট করা সামগ্রীর মধ্যে মহানবী মোহাম্মদ (সা.) এর দাদা আবদুল মুত্তালিবেরও দুশ’ উট ছিল।

মক্কার উপকন্ঠে পৌঁছে আবারাহা মক্কায় দূত পাঠায়

“আমি তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে আসিনি। আমি এসেছি শুধুমাত্র  কাবা ঘরটি ভেঙে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে। যদি তোমরা আমার সাথে যুদ্ধ না করো তাহলে তোমাদের প্রাণ ও ধন ও ধন-সম্পত্তির কোনো ক্ষতি আমি করবো না। মক্কাবাসী যদি আমার সাথে কথা বলতে চায় তাহলে তাদের সর্দার যেনো আমার কাছে আসে।”

সে সময় মহানবী (সা.) এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব ছিলেন মক্কার  সবচেয়ে বড় সর্দার। “আবরাহার সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই। এটা আল্লাহর ঘর। তিনি চাইলে তাঁর ঘর রক্ষা করবেন।” তিনি দূতের সাথে আবরাহার কাছে আসেন। আব্দুল মুত্তালিব এতই সুশ্রী আকর্ষণীয় ও প্রতাপশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন যে, আবরাহা তাকে দেখে অত্যন্ত প্রভাবিত হয়ে পড়ে। আবরাহা তার সিংহাসন থেকে নেমে আব্দুল মুত্তালিবকে সংবর্ধনা জানায়। তারপর সম্মানের সাথে  তাঁকে জিজ্ঞেস করে “আপনি কি চান?”

তিনি বলেন, “আমার যে উটগুলো আপনার সৈন্যরা ধরে নিয়েছে, সেগুলো আমাদের ফেরত দিন।”

আবরাহা বললো, “আপনাকে দেখে তো আমি বড়ই উঁচু দরের লোক মনে করেছিলাম। কিন্তু আপনি শুধু আপনার উটগুলো ফেরত চাচ্ছেন। অথচ এই যে ঘরটা যা আপনার এবং আপনাদের বাপ-দাদার ধর্মের কেন্দ্র, আমি এই ঘরটা ভেঙে ধুলার সাথে মিশিয়ে দিতে এসেছি, আপনি সে বিষয়ে কিছু বলছেন না …।”

আব্দুল মুত্তালিব বললেন, “আমি তো কেবল আমার উটের মালিক এবং সেগুলোর জন্য আপনার কাছে বলছি। তারপর এই ঘর। এ ঘরের একজন রব, মালিক ও প্রভু আছেন। তিনি নিজেই এর হেফাজত করবেন।”

আবরাহা জবাব দেন “তিনি একে আমার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন না।”

আব্দুল মুত্তালিব বলেন, “এ ব্যাপারে আপনি জানেন আর তিনি জানেন।” এ কথা বলে তিনি চলে আসেন। ধরে নেয়া উটগুলো আবরাহা ফেরত দেয়।

আবরাহার কাছ থেকে ফিরে এসে আব্দুল মুত্তালিব কুরাইশদের বলেন, “নিজেদের পরিবার-পরিজনকে  নিয়ে পাহাড়ের ওপর চলে যাও।” তারপর তিনি ও কুরাইশদের কয়েকজন সর্দার হারাম শরীফে আসেন। তাঁরা কাবার  দরজার কড়া ধরে কাঁদতে থাকেন আর বলতে থাকেন তিনি যেন তার ঘর এবং এই ঘরের খাদেম কুরাইশদের রক্ষা করেন।

তারা কাবার দরজার কড়া ধরে আল্লাহ্‌র কাছে এই বলে দোয়া করতে থাকেন যে, তিনি যেন তাঁর ঘর ও তাঁর খাদেমদের হেফাজত করেন। সে সময় কাবা ঘরে ৩৬০টি মূর্তি ছিল। কিন্তু এই সংকটকালে তারা সবাই এই মূর্তিগুলির কথা ভুলে যায়। তারা একমাত্র আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করার জন্য হাত ওঠায় !

আব্দুল মুত্তালিব বলেন,

“হে আল্লাহ  তুমিও তোমার ঘর রক্ষা করো। আগামীকাল তাদের ক্রুশ ও তাদের কৌশল যেন তোমার কৌশলের ওপর বিজয় লাভ না করে। যদি তুমি ছেড়ে দিতে চাও, তাদেরকে ও আমাদের কিবলাহকে তাহলে তাই করো তুমি যা চাও। ক্রুশের পরিজন ও তার পূজারীদের মোকাবিলায় আজ নিজের পরিজনদের সাহায্য করো।

এই দোয়া করার পর আব্দুল মুত্তালিব ও তার সাথীরা পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেন।

এদিকে পরের দিন আবরাহা মক্কায় প্রবেশ করার জন্য এগিয়ে যায়। তার হাতি মাহমুদ ছিল সবার আগে, সে হঠাৎ বসে পড়ে। আঘাত ও নির্যাতনের পরেও সে একটুও নড়লনা কুড়ালের বাট দিয়ে বারবার আঘাত করেও তাকে আর একটুও নড়ানো যায় না। তাকে উত্তর, দক্ষিণ কিংবা অন্য যেকোনো দিকে মুখ করে চালানোর চেষ্টা করলে সে উঠে দৌড়াতে থাকে কিন্তু মক্কার দিকে ঘুরালেই সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়ে। মারতে মারতে আহত করে ফেললেও তাকে আর নড়ানো সম্ভব হয় না।

এসময় হঠাৎ লোহিত সাগরের দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে আসে। তারা আবরাহার সেনা দলের উপর পাথর বর্ষণ করতে থাকে। বৃষ্টির মতো পড়তে থাকে পাথর। প্রত্যেকটি পাখি মুখে একটি আর দুই পায়ে দু’টি পাথর নিয়ে আসে।

হযরত ইবনে আব্বাসের বর্ণনা মতে, ‘যার ওপরই পাথর কণা পড়তো তার সারা গায়ে ভীষণ চুলকানি শুরু হতো এবং চুলকাতে চুলকাতে চামড়া ছিঁড়ে গোশত ঝরে পড়তে থাকতো। গোশত ও রক্ত পানির মতো  ঝরে পড়তো এবং  হাড় বেরিয়ে পড়তো।  আবরাহার অবস্থাও এই রকম হয়ে পড়ে।

সেনাবাহিনীর মধ্যে তখন হুলস্থূল বিশঙ্খলা শুরু হয়ে যায়। হুড়োহুড়ি ছুটোছুটির মধ্যে তারা ইয়েমেনের দিকে পালাতে শুরু করে। এই অবস্থায় লোকরা পথে ঘাটে যেখানে সেখানে পড়ে মরতে থাকে। কিছু লোক দৌড়াতে দৌড়াতে পথের উপর পড়ে যায়। বাকীরা কেউ রাস্তায়, কেউ পানির ঘাটে পড়ে মারা যায়। আবরাহার গায়েও পাথর লাগে। তার লোকেরা তাকে ‘সান’আয়’ (ইয়েমেনের রাজধানী) তে নিয়ে যায়। রাস্তায় তার আঙ্গুলের গিঁট এক এক করে খসে পরে। যখন সে সান’আয় পৌঁছে, তখন সে পাখির ছানার মতো (দুর্বল) হয়ে যায় ও সেখানে মারা যায়।

মুসদালিফা ও মিনার মাঝখানে অবস্থিত মুহাস্মির নাম স্থানে এই ঘটনা ঘটে।

এটা ছিল একটি বিরাট ঘটনা। তখনকার অনেক কবি এ বিষয় নিয়ে কবিতা লেখেন। যে বছর এ ঘটনাটি ঘটে সে বছরকে আরববাসী বলে ‘আসুল ফীল’ হাতির বছর। এই বছরই রাসূল (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। আসহাবে ফীলের ঘটনা ঘটে মহররম মাসে এবং রাসূল (সা.) জন্মগ্রহণ করেন রবিউল আউয়াল মাসে।  অধিকাংশের মতে, রাসূলের (সা.) জন্ম হয় হাতির ঘটনার ৫০ দিন পরে।

সবচেয়ে মজার কথা হলো এই ঘটনা ঘটার পর সমস্ত মানুষ তৌহিদবাদী হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘকাল পর্যন্ত মক্কার মুশরিকরা মূর্তি পূজা করেনি। এক ও লা-শারিক আল্লাহ ছাড়া তারা আর কারো ইবাদাত করেনি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় সেই মানুষরাই ৪০-৪৫ বছর যেতে না যেতেই আবার শিরকে নিমজ্জিত হয়ে যায়। সূরা ফীলে মহান আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তায়ালা সেই কথাই আরববাসীদের সামনে তুলে ধরেছেন।

সূরা ফীল এ বলা হয়েছে-

আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন?
তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি?
তিনি তাদের উপর প্রেরণ করেছেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী,
যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করছিল।
অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেন।

পবিত্র কোরআন শরিফের ‘সুরা ফিল’-এর ৩ নং আয়াতে একটি পাখির বর্ণনা আছে। পাখিটির নাম ‘আবা-বিল’। আবরাহার ও তার বাহিনী উপর পাথর বর্ষণকারী পাখিটি ছিল আবাবিল।

‘আবাবিল’ কি কোনো বিশেষ পাখির নাম?

এখানে ‘আবাবীল’ শব্দটি ‘ইববালা’-এর বহুবচন, যার অর্থ ঝাঁকে ঝাঁকে, দলে দলে। উদ্দেশ্য হল, অনেক পাখি পাঠানো হয়েছিল।

সাধারণ মানুষ মনে করে যে, ‘আবাবিল’ বলে ঐ পাখিগুলোর নাম বুঝানো হয়েছে। এ ধারণা ঠিক নয়। আসলে আবাবিল অর্থ ঝাঁকে ঝাঁকে। তথ্য ঃ আল-কাউসার

ইমাম বাতায়ন নামে সরকারি ওয়েবসাইটেও একই কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

আরবি না জানা অনেকে মনে করে, পাখির নাম ‘আবাবিল’। কিন্তু না, ‘তইরান আবাবিল’ শব্দের অর্থ পাখির ঝাঁক। তইর মানে পাখি। আবাবিল মানে ঝাঁক। এটা কোনো পাখির নাম না। অর্থাৎ  আমরা অনেকেই আবরাহার বাহিনী ধ্বংসের জন্যে আবাবিলকে দায়ী করলেও এই আবাবিল কোন পাখি নয় বরং পাখির ঝাঁক। 

এই ঘটনার নিয়ে অনলাইনে ঘাটাঘাটি করার সময়  ইউটিউবে একটা ডেমস্ট্রেশন পেলাম।

আমরা সাধারনভাবে যে আবাবিল পাখির কথা বলি তা বের করার জন্যে ইন্টারনেট চষে বেরিয়েছি। হুবহু উইকি পিডিয়া থেকে তুলে ধরছি।

আবাবিলের ইংরেজি অর্থ হচ্ছে Swallow গায়ক পাখির নির্দিষ্ট একটি গোত্রের সকল পাখিদের সাধারণ বাংলা নাম । সাধারণত ভাবে হাইরানডিনিডি Hirundinidae গোত্রের সকল পাখিদের আবাবিল পাখি বলা হয় । আবার অনেকসময় পারিডি Paridae গোত্রের পাখিরাদেরও আবাবিল পাখি বলা হয় ।

আবার কেবল হাইরানডু গণের পাখিদেরও আবাবিল পাখি বলা হয় । হাইরানডিনিডি গোত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এদের লম্বা ও সরু পাখা এবং দ্বিধাবিভক্ত পা । আবাবিল পাখি পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করে থাকে । এদেরকে প্রায়ই সময় সাধারনত দলবদ্ধভাবে আকাশে উড়তে দেখা যায় । এরা খুব পারদর্শীতার সাথে আকাশে উড়ে এবং সহজেই পাক দিয়ে ঘুরতে সক্ষম হয় ।

হাইরানডিনিডি গোত্রে প্রায় ৮৯টি প্রজাতি আছে । বাংলাদেশে এর ৩টি গণে ১০টি প্রজাতি রয়েছে ।

আবাবিল পাখির বৈশিষ্টঃ  আবাবিল এবং নাকুটি পাখিদের শারীরিক গঠন বিবর্তন প্রক্রিয়ায় খুব একটা বেশি পরিবর্তিত হয়নি । অর্থাৎ খানিকটা রক্ষণশীল গেছে । তাই গায়ক পাখিদের অন্য পরিবারগুলোর সাথে এদের বেশ পার্থক্য করা যায় । এদের দেহ মসৃণ এবং পাখার প্রান্ত সূক্ষ্ম হওয়াতে এর শারীরিক গঠন ওড়ার জন্য সহায়ক ।

এদের উড্ডয়ন ক্ষমতা অনেক বেশি হয় । একই আয়তনের অন্য গায়ক পাখির চাইতে এরা ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ শক্তি কম খরচ করেই আঁকাশে উড়তে পারে । আবাবিলের ঠোঁট অনেকটা ছোট এবং সুঁচালো হয় । এদের দেহ লম্বায় ১০ থেকে ২৪ সে.মি.। এদের ওজন ১০ থেকে ৬০ গ্রাম পর্যন্ত হয় । এদের লেজ ১২টি পালক দিয়ে গঠিত। ধারণা করা হয় এদের লেজ অনুরাগের সময় আকর্ষণীয়তা বৃদ্ধি করে যেহেতু পুরুষ পাখির লেজ প্রায়শই অধিকতর লম্বা হয়ে থাকে ।

উইকিপিডিয়াতে দেওয়া আবাবিলের ছবি

মেঠো আবাবিলের ক্ষেত্রে দেখা যায় পুরুষ পাখির লেজ স্ত্রী পাখির তুলনায় ১৮ শতাংশ লম্বা এবং সঙ্গী নির্বাচনের সময় লেজের দৈর্ঘ্য দিয়ে স্ত্রী পাখি পুরুষ পাখির আকর্ষণীয়তা বিচার করেন । গঠনগত দিক থেকে আবাবিলের দুর্বল দিক হচ্ছে এদের পা যা ছোট আকৃতির এবং এজন্য এদের পক্ষে গাছ আঁকড়িয়ে ধরে রাখা খুবই কষ্টসাধ্য । এদের জন্য সবচেয়ে সহজ আঁকরানোর স্থান হলো টেলিফোনের তার । এরা আবহাওয়া পূর্বাভাসের পাখি হিসেবে খ্যাত।

এখন কথা হল, যে পাখি দ্বারা আসহাবুল ফিলকে ধ্বংস করা হয়েছে তা কী পাখির নাম ছিল? এ বিষয়ে কুরআনে কিছু বলা হয়নি এবং এ বিষয়ে ইতিহাসের বক্তব্যও বিভিন্ন ধরনের। তাই নির্দিষ্ট কোন পাখির দ্বারা আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী হস্তিবাহিনীদের শায়েস্তা করেছিলেন তা বলা যায় না, তবে এই কথা জোর দিয়ে বলা যায় যে আবাবিল নামে কোন পাখি নেই বরং আবাবিল হল  নির্দিষ্ট একটি গোত্রের সকল পাখিদের সাধারণ। 

উৎসঃ ইন্টারনেট

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক