অবহেলায় এড়িয়ে যাওয়া আমলকির উপকারিতা

দেশীয় ফল হিসেবে আমলকি সবার কাছেই পরিচিত। এটি দামে যেমন সস্তা ও সহজলভ্য, তেমনি এর রয়েছে নানাবিধ উপকারিতা। আমলকি ভেষজ গুণে অনন্য একটি ফল। সংস্কৃত ভাষায় এর নাম – আমালিকা। ইংরেজি নাম -aamla বা Indian gooseberry। আমলকি গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Phyllanthus emblica বা Emblica officinalis। এর স্বাদ প্রথমে কষাটে লাগলেও খাওয়া শেষে মুখে মিষ্টি ভাব আসে।

আমলকি ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। মধুরও রয়েছে অনেক স্বাস্থ্যকর গুণ। মধুর মধ্যে আমলকি মিশিয়ে খেলে, এটি আরো অনেক উপকারী হয়ে উঠে। এতে আমলকির স্বাদও বেড়ে যায়। মধু ও আমলকি একসাথে খেলে খাদ্যগুণগুলোও একসাথে পাওয়া যায়।

এর ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন অসুখ সারানো ছাড়াও আমলকি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করে। আমলকির গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এখন আমলকির নির্যাস ব্যবহার করা হয়।

প্রতিদিন এক গাদা ভিটামিন ট্যাবলেট না খেয়ে খান একটি করে আমলকী খেতে পারেন কিংবা  খেতে পারেনআমলকীর আচার। অথবা চাইলে খেতে পারেন আমলকীর মোরব্বা কিংবা আমলকীর পাউডার ব্যবহার করতে পারেন রান্নায়। এই সামান্য আমলকী আপনার দেহের করবে বিস্ময়কর সব উপহার। বলা হয়ে থাকে, প্রতিদিন যদি একটি করে আমলকি খাওয়া যায়, তবে আর রোগ-ব্যাধি আপনাকে ছুঁতে পারবে না।  কীভাবে জানতে চান?  চলুক জেনে নেয়া যাক মৌসুমী এই ফলটি আমাদের কি কি উপকার করে থাকে।

ভিটামিন সি জনিত নানা রোগ রোধ করে 

আমলকিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, আমলকিতে পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে তিন গুণ ও ১০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। আমলকিতে কমলালেবুর চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে।

একজন বয়স্ক লোকের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ দরকার। দিনে দুটো আমলকি খেলে এ পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় নিয়মিত ২/১টি করে আমলকি খেলে ভিটামিন সি-এর অভাবজনিত রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায় এবং দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি মেটাতে আমলকির জুড়ি নেই। ভিটামিন সি এর অভাবে যেসব রোগ হয়, যেমন – স্কার্ভি, মেয়েদের
লিউকরিয়া, অর্শ প্রভৃতি ক্ষেত্রে আমলকি খেলে উপকার পাওয়া যায়।

সাধারণত ভিটামিন সি এর অভাবে স্কার্ভি নামক রোগ আমাদের শরীরে বাসা বাধে। এর ফলে দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে, মাড়িতে ঘা হয়, শরীর দুর্বল হয়ে যায়, চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ হয়, চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে যায় এবং হাড়ের মধ্যে পরিবর্তন দেখা দেয়। অথচ প্রতিদিন মাত্র ১-২টি আমলকি খেলে এসব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি।

লিভার ভালো রাখে

মধু ও আমলকি একসাথে খেলে লিভারের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এটি লিভার থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। এটি লিভারের কার্যক্ষমতা ভালো করতে সাহায্য করে।   নিয়মিত আমলকি খেলে পেটের আলসার দূর হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্যও পাইলস রোগের হাত থেকে মুক্তি

কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস রোগ এখন খুব স্বাভাবিক একটা সমস্যা। আমাদের অনেকেই এ দু’টি রোগে আক্রান্ত হই।  আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে আমলকি

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে আমলকি। এর মধ্যে থাকা ফসফরাস চোখের জ্যোতি বাড়াতে সাহায্য করে।  এছাড়া চোখ লাল হওয়া, চুলকানো ও চোখ দিয়ে পানি পড়া রোধেও এটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। আমলকি চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

বার্ধক্যের চিহ্ন প্রতিরোধ করে

মধুর সাথে আমলকি মিশিয়ে খেলে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার গতি কিছুটা ধীর হয়।  এই উপকার পেতে  আমলকির সাথে মধু মিশিয়ে প্রতিদিন এক চা চামচ করে খেতে হবে। এটি ত্বকের বলিরেখা দূর করতেও সাহায্য করে বলে জানা গেছে। এর এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ফ্রি র‌্যাডিকালস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। বুড়িয়ে যাওয়া ও সেল ডিজেনারেশনের অন্যতম কারণ এই ফ্রি র‌্যাডিকালস।

পিত্ত সংক্রান্ত সমস্যা ও বমি বমি ভাব রোধে

পিত্ত সংক্রান্ত যে কোনো রোগে সামান্য মধু মিশিয়ে আমলকি খেলেও যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়। বমি বমি ভাব অথবা বারবার বমি হলে শুকনো আমলকি এককাপ পানিতে ভিজিয়ে ঘণ্টা দুয়েক পরে সেই পানিতে একটু শ্বেত চন্দন ও চিনি মিশিয়ে খেলে বমি বন্ধ হয়।

অ্যাজমা প্রতিরোধ করে

মধুর মধ্যে আমলকি ভিজিয়ে খেলে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা অনেকটাই কমে। এরমধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এটি ফুসফুস থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে এবং ফ্রি রেডিকেলস দূর করতে সাহায্য করে। এটি ফুসফুসের নালীকে সরু করে দেয় এবং অ্যাজমার আক্রমণ প্রতিরোধ করে।

কফ, ঠান্ড প্রতিরোধ করে

দীর্ঘমেয়াদী কাশি-সর্দির জন্য আমলকির নির্যাস উপকারী। কফ, ঠান্ডা এবং গলার সংক্রমণ প্রতিরোধে  আমলকি বেশ কাহ করে। ঠাণ্ডার সময় এক টেবিল চামচ আমলকি ও মধুর মিশ্রণ খেলে আরাম পাওয়া যায়। এর সাথে একটু আদার রস  মিশিয়ে নিতে পারেন।  এতে সর্দি-কাশি থেকে রেহাই মিলবে। আমলকি ও মধু গলার সংক্রমণের সাথে লড়াই করে।

মুখের স্বাদ বৃদ্ধি করে 

আমলকির টক ও তেতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকী গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে পারেন।

হজমের সমস্যা সমাধানে

এসিডিটি আর হজমের সমস্যা সমাধানে আমলকি ও মধু খুব ভালো উপাদান। এটি খাবার ভালোভাবে হজমে সাহায্য করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধেও সাহায্য করে।  এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকি গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন। এ্যাসিডিটির সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করবে।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করে ও দাত শক্ত রাখে

মুখে দুর্গন্ধ একটি সাধারণ সমস্যা। আমাদের অনেকের এই সমস্যা রয়েছে। মুখে দুর্গন্ধ হওয়া একটি অস্বস্তিকর সমস্যা। সবার সামনে ঠিকমত হাসা বা কথা বলা যায় না। আমলকি আপনাকে এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি দিতে পারবে।  প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে।

মেদ দূর করে

স্থুলতা বর্তমান সময়ে খুব স্বাভাবিক একটি সমস্যা। বাচ্চা থেকে শুরু করে বুড়ি বয়সী প্রায় সব বয়সে মুটিয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে ।  আমলকি শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে দৈহিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।  এটি খেলে হজম শক্তি বেড়ে যায়। ফলে মানুষ মুটিয়ে যায় না।

আমলকি শরীরের প্রোটিনের স্তর বৃদ্ধি করে, যা দেহের চর্বি কাটতে সাহায্য করে।তাই,  ওজন কমাতে চাইলে প্রতিদিন আমলকি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

হৃদ যন্ত্রের জন্যে উপকারী

এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকীর আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে। আমলকি মানেই প্রচুর অ্যামিনো অ্যাসিড আর anti-oxidant।  এই উপাদান দু’টি হৃদপিন্ডের কর্মক্ষমতা বাড়ায়| হৃদ-পেশি মজবুত করে| এছাড়াও, নিয়মিত আমলকির রস খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে ।

উচ্চ কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। আমলকি খারাপ কোলেস্টেরল দূর করে। এবং ধমনীর ব্লক খুলে দিতে সাহায্য করে। নিয়মিত এটি খাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে থাকে।

শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে

আমলকি ও মধুর মিশ্রণ শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। আমলকির রসে প্রচুর anti-oxidant উপাদান আছে । রক্ত পরিষ্কার করতে এটি বেশ কার্যকর। এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান শরীর থেকে টক্সিন উপাদান সব দূর করে দেয়। নিয়মিত খাওয়ার ফলে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে।  বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে গেলে শরীর সুস্থ থাকে প্রতিদিন সকালে এই মিশ্রণ খেলে অন্ত্র ও রক্তের বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়। শরীর ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে।

ডায়াবেটিকস রোগির উপকারে

ডায়াবেটিকস বিশ্বব্যাপী একটি রোগ। লাখ লাখ মানুষ ডায়াবেটিকসে আক্রান্ত। ডায়াবেটিকস রোগীদের মূল সমস্যা হল রক্তে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ রাখা।  ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। আমলকির রসের টক স্বাদ শরীরে জমে থাকা বাড়তি শর্করা নষ্ট করে দেয়| তাই ডায়াবেটিস রোগীদের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমলকির সত্যি বিকল্প নেই।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, আমলকিতে থাকা পলিফেনল রক্তে অক্সিডেটিভ শর্করা থেকে শরীর রক্ষা করে। এটি শরীরে ইনসুলিন শুষে নিতে সাহায্য করে। যা ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে।

রুপ চর্চায় আমলকি

আমলকি শুধু নানা রোগের উপশমেই ব্যবহার হয় না। আমলকি রুপ চর্চাতেও বহুল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চলুন দেখে নেই তেমন কিছু রুপ চর্চার জনিত টিপসঃ

চুলের উপকারিতা

চুলের যত্নে মানুষ কত কিছুই না করে, এ জন্য পার্লারে গিয়ে প্রচুর টাকা ঢালতেও অনেকের কার্পণ্য নেই। এ ক্ষেত্রে কিছু খাবার নিয়মিত খেলে বেশ উপকারে আসে। চুল হয়ে ওঠে উজ্জ্বল, গোড়া হয় মজবুত। এতে চুল পড়া বন্ধ হয়, চুল দেখতেও হয় সুন্দর।

আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের যত্ন নেয়ার জন্য এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। আমলকি খেলে শুধু চুলের গোড়াই শক্ত হয় না, চুল দ্রুত বড় হতেও সাহায্য করে। এতে ভিটামিন, মিনারেল এবং খনিজের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

আমলকি থেকে তৈরি তেল মাথায় ব্যবহারে মাথা ঠান্ডা রাখে। কাঁচা বা শুকনো আমলকি বেটে একটু মাখন মিশিয়ে মাথায় লাগালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম আসে। কাঁচা আমলকি বেটে রস প্রতিদিন চুলে লাগিয়ে দু-তিন ঘণ্টা রাখলে এবং এভাবে একমাস মাথায় মাখলে চুলের গোড়া শক্ত, চুল উঠা এবং অল্প বয়সে চুল পাকা বন্ধ হবে।

চুল পেকে যাওয়া সমস্যার সমাধানে  আমলকির তেল ব্যবহার করতে পারেন। । আমলকিতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণাগুণ থাকে যা চুলে খুশকি, উঁকুনের মতো একাধিক সমস্যার প্রতিরোধ করে। দুই ভাগ করে আমলকি কেটে নিয়ে রোদে শুকিয়ে নিন। শুকিয়ে যাওয়া আমলকিগুলোকে ভালোভাবে গুঁড়ো করে তেলের সঙ্গে মেশান। এবার আমলকি তেলকে বেশ কিছুক্ষণ ধরে গরম করুন। মাসে দু বার ব্যবহার করুন।

চুলের পুষ্টি এবং চুলকে শক্তিশালী করতে আমলকির বিকল্প কিছু নেই। আমলকি চুলে প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসাবেও কাজ করে। এর ফলে চুল হয়ে উঠে চকচকে আর আকর্ষণীয়।

আমলকি ব্যবহারের ফলে চুলের খুসকি দূর হয়ে যায়। এত থাকা ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ডান্ড্রিয়াম আক্রমণে বাধা দেয় ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে।

বাইরে প্রচুর ঘুরাফেরা করেন? মাথায় ময়লার স্তর পড়ে গেছে ? স্যাম্পু দিয়ে ঠিকমত পরিষ্কার করা যাচ্ছে না  তাই না।  এক্ষেত্রের মাথার ত্বক পরিষ্কার করার জন্য আমলাকির রস চমকপ্রদ কাজ করে। আয়ুর্বেদ মতে, অতিরিক্ত চুল পড়া রোধ করতে আমলকির ভূমিকা অপরিসীম।

নিয়মিত আমলকি ব্যবহারে চুল প্রাকৃতিক ভাবেই অনেক সুন্দর এবং সিল্কি হয়ে উঠে। আমলকির পুষ্টি এবং অন্যান্য উপকারী উপাদানের কারণে নিয়মিত আমলকির রস পান করলে আপনার চুল ঘন হয়ে উঠে। আমলকি মেহেদির সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়, যার ফলে চুলের রং প্রাকৃতিকভাবেই আরো উজ্জ্বল দেখায়।

অনেকের চল শুকিয়ে যায়। এমন কি আমি নিজেই এই চুলের শুষ্কতার সমস্যায় থাকি ।  আমলকি চুলের শুষ্কতা প্রতিরোধ করে এবং আর্দ্রতা পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করে। এটি মৃত কোষগুলিও সরিয়ে দেয়। ফলে ভঙ্গুর চুল থেকে মুক্তি মিলে।

শুকনো আমলকির গুঁড়ো সামান্য কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে ১ ঘন্টা রেখে দিয়ে তারপর সেই মিশ্রণটি পুরো চুলে ম্যাসেজ করে লাগিয়ে আধা থেকে ১ ঘণ্টা রাখতে হবে। তারপর ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে দ্রুত চুলের বৃদ্ধি হবে, আর্দ্রতা বজায় থাকবে, চুল হবে মসৃন এবং উজ্জ্বল।

নানা চর্মরোগে

প্রতিদিন সকালে মধুর সঙ্গে আমলকির রস মিশিয়ে খেলে চর্মরোগ নিরাময় হয়, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় ও মুখের চামড়ায় কোনো দাগ পড়ে না।

শেষ কথাঃ

আমলকি দামে কম আর সহজল্য বলে অনেকেই অবহেলার চোখে দেখেন । আশা করি আজকের পরে আমলকির প্রতি আপনাদের দৃষ্টি ভঙ্গি কিছুটা হলেও পরবির্তন হবে।

ছবি ও তথ্য সূত্রঃ বিভিন্ন ওয়েব পোর্টাল

 

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক